বিদ্যুতের জরুরি সংস্কার কাজের নামে অসম্পূর্ণ ও অপরিকল্পিত কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর শ্যামলী পিসিকালচার সোসাইটি এলাকার বাসিন্দারা। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এর তত্ত্বাবধানে রবিবার (১৯ অক্টোবর) দিনভর এ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়। এ সময় ডিপিডিসি কর্মীদের অব্যবস্থাপনার ফলে গুরুতর আহত হন স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরাতন খুঁটি জায়গায় রেখে পাশেই নতুন খুঁটি স্থাপন করেন দায়িত্বরতরা। এছাড়াও, এলাকার বেশকিছু স্থানে পুরাতন খুঁটি পরিবর্তন না করে খুঁটির গোড়াতে কেটে রেখে দেন তারা। এতে করে যেকোনো সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।অপরদিকে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের নামে বিদ্যুতের মেইন লাইনে ক্লিপ লাগানো বাবদ কর্মীরা ‘চা-নাস্তার’ নামে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ হাজার টাকা, আবার কোন প্রতিষ্ঠান বা বাসাবাড়ি থেকে ১৫০০ টাকা করে আদায় করেন ডিপিডিসি কর্মীরা বলে জানান তারা।তবে, কর্তৃপক্ষ বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে, প্রজেক্টের অধীনে নতুন ক্লিপ লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নতুন ক্লিপ লাগানোর বাবদ সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। এক্ষেত্রে গ্রাহককে নিজ অর্থায়নে নতুন ক্লিপ লাগাতে হবে। কেউ যদি খুশি হয়ে কর্মীদের ২/৪শ’ টাকা দেন, সেটা ভিন্ন ব্যাপার!সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্যামলী পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির ক ব্লকের ৩ নম্বর রোডে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করে ডিপিডিসি। কাজ চলাকালে রাস্তার দু’পাশের অসংখ্য গাছের ডাল কেটে ফেলা হয়। এছাড়া পুরাতন বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই তার পাশে নতুন খুঁটিতে সংযোগ প্রদান করা হয়। আবার কোথাও কোথাও আগের খুঁটি পুরোপুরি না উঠিয়ে গোড়াতেই কেটে রেখে গেছেন কর্মীরা। এসব খুঁটির কাটা অংশে লক্ষ করলে দেখা গেছে, ভেতরে পানি জমে আছে এবং এরই মধ্যে জন্ম নিচ্ছে মশার লার্ভা।এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয়রা জানান, আগেরদিন শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিদ্যুৎ থাকবে না বলে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কথা উল্লেখ করা হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, এদিন কাজ চলাকালে রাস্তার দুই পাশে ছিল না কোন নিরাপত্তাজনিত ব্যারিকেড। এতে করে অনেকেই চলমান কাজের কথা জানতেন না। কাজ চলার মধ্যেই এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছেন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, মসজিদে আসা মুসল্লিসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। একটু অসাবধানতার ফলে ঘটতে পারতো বড় ধরণের দুর্ঘটনা।তারা বলেন, ‘কাজ চলাকালে সকালে কর্মকর্তারা আসলেও কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা চলে যান। দুপুরের দিকে মাঠপর্যায়ের কর্মীরাও কাজ ফেলে কিছু সময়ের জন্য উধাও হয়ে যান। এ সময় মাঝরাস্তায় দাঁড় করানো মই মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হন আম্বালা ফাউন্ডেশনের গাড়ি চালক মো. সগির হোসেন।’এ ব্যাপারে মো. সগির হোসেন মুঠোফোনে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘দুপুর ২টার দিকে অফিসের কাজে গাড়ি বের করতে যাই। সে সময় রাস্তার মাঝখানে একটি মই দাঁড় করানো ছিল। গ্যারেজে ঢুকার সময় মইটি আমার উপর পড়ে যায়। এতে করে আমার মাথার একপাশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা লাগে। এছাড়া আমার এক চোখও ফুলে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছি।’এদিকে, স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন ক্লিপ লাগানোর জন্য ‘চা-নাস্তা’ বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ডিপিডিসি কর্মীরা। সোহেল নামে এক বাসার কেয়ারটেকার বলেন, ‘বিদ্যুতের নতুন ক্লিপ লাগানোর নামে বিল্ডিংয়ের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট থেকে ১৫শ’ টাকা করে চা-নাস্তা বাবদ তাদেরকে দেওয়া হয়।’নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক প্রতিষ্ঠানের কর্মী জানান, ‘তাদের কাছ থেকে প্রথমে ৪ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে ৩ হাজার টাকা দিয়ে নতুন ক্লিপ লাগিয়েছেন।’তবে, চলমান প্রজেক্টে ক্লিপ বসানোর ব্যাপারে সরকারি বরাদ্দ নেই বলে জানান প্রজেক্টের সাইট সুপারভাইজার জাহিদ হাসান।তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পর মেইন লাইন থেকে নতুন করে ক্লিপ লাগিয়ে দেওয়ার জন্য প্রজেক্টে সরকারি বরাদ্দ নেই। এক্ষেত্রে গ্রাহককে নিজ খরচে তা লাগাতে হবে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, কেউ যদি খুশি হয়ে ২/৪শ টাকা দেন, সেটা ভিন্ন বিষয়।’এসময় প্রতি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি থেকে ১৫শ/৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।দুর্ঘটনায় একজন আহত হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে জাহিদ হাসান বলেন, ‘এটি খুবই দু:খজনক। আমি সকালে সাইটে গিয়েছিলাম। এক ঘণ্টা পরে আবার চলে আসি। হয়তো আমার আসার পর এ ঘটনা ঘটতে পারে। আর বিদ্যুতের খুঁটি গোড়ায় কাটার বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি। দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা হবে।’জানতে চাইলে ডিপিডিসির সহকারী প্রকৌশলী কে এম হায়াত বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রজেক্ট। পিডিএসডি-এই প্রজেক্টটি চলবে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রজেক্টের সাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো খুবই দু:খজনক। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবো।’একজন আহত হওয়ার ব্যাপারটি তিনি জানেন কি-না, জিজ্ঞেস করলে কে এম হায়াত বলেন, ‘আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনেছি। এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে দু:খ প্রকাশ করছি।’ডিপিডিসির সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান শেখ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘কাজ অসম্পূর্ণ বা অপরিকল্পিতভাবে করার কথা না। তারপরও আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। কারো অবহেলা থাকলে খোঁজখবর নিয়ে আমি অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেব।’এসকে/আরআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কোন দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয় নাই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী
কোন দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয় নাই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘কোন দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয় নাই। Read more

মহাখালী হাসপাতালে হিটস্ট্রোক সেন্টার চালু
মহাখালী হাসপাতালে হিটস্ট্রোক সেন্টার চালু

চলমান তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড মহাখালী হাসপাতালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে Read more

বাংলাদেশের বিএনপিকে নিয়ে ভারত এখন কী ভাবছে?
বাংলাদেশের বিএনপিকে নিয়ে ভারত এখন কী ভাবছে?

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভারত যে বিএনপিকে ইতিমধ্যেই ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেছে তাতেও কোনও ভুল নেই। এখন Read more

ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান এরদোয়ানের
ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান এরদোয়ানের

গাজা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) Read more

এপ্রিলে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৮ জন
এপ্রিলে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৮ জন

সারাদেশে এপ্রিল মাসে ৫৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮৮ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ২১৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৯ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড Read more

চকরিয়ায় বিদ্যুতের নতুন প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা
চকরিয়ায় বিদ্যুতের নতুন প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

বিদ্যুৎ বিভাগের চালু করা নতুন প্রিপেইড মিটার সংযোগ নিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হাজারো গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন