চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এখন দালাল ও দুর্নীতির ছত্রচ্ছায়ায় পরিণত হয়েছে। সহকারী পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন ও সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইয়াহিয়া খানের নিয়ন্ত্রণে এখানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার দালাল সাম্রাজ্য। ঘুষ ছাড়া যেন কোনো কাজই হয় না। সাধারণ আবেদনকারীকে নানা অজুহাতে হয়রানি করে বাধ্য করা হয় দালালের শরণাপন্ন হতে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য চলে প্রকাশ্যে, অথচ মাঝে মাঝে দুদক অভিযান চালালেও কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসে না।অনুসন্ধানে জানা যায়, চান্দগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম–দুর্নীতি বন্ধে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান মোহাম্মদ তাজ বিল্লাহ। তার সময়ে অফিস পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত ছিল, পাসপোর্ট করতে জনসাধারণকে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। পরবর্তীতে উপ-পরিচালক শরীফুল ইসলাম দায়িত্ব নিলেও স্বস্তি বজায় থাকে। তবে সহকারী পরিচালক হিসেবে শওকত মোল্লা যোগদানের পর আবারও দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকে। শওকত মোল্লাকে সরানোর পর দায়িত্ব নেন বর্তমান সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন, যিনি সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে যোগসাজশে পুরো অফিসকে দালালদের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেন। দালাল ছাড়া যেন কোনো আবেদনই গ্রহণ হয় না—শতকরা ৫ শতাংশ আবেদনও সরাসরি জমা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অধিকাংশ আবেদনকারী দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।প্রতিদিন গড়ে ৫০০–৬০০ জন আবেদনকারী পাসপোর্ট করতে আসেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশকেই দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হয়। প্রতিদিন প্রায় ৫–৬ লাখ টাকার ‘মার্কা বাণিজ্য’ হয়, যা মাস শেষে কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দালালরা বিশেষ সংকেত ব্যবহার করে কাজকে সহজ বা কঠিন করে তোলে। সংকেত থাকলে আবেদন গ্রহণ সহজ হয়, না থাকলে নানা অজুহাতে ফরম বাতিল করে দেওয়া হয়। আবেদন বাতিলের অজুহাতের মধ্যে রয়েছে—বিবাহিতদের নিকাহনামা চাওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্রে সামান্য ঠিকানার অমিল দেখানো, ব্যাংক চালানে বাংলায় লেখা থাকলে বাতিল করা, ২০ বছরের নিচের আবেদনকারীর জন্য পিতামাতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা এবং পেশার সামান্য অমিল দেখিয়ে আবেদন বাতিল করা।মাঝেমধ্যে দুদক অভিযান চালালেও কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায় না। গোপন সংকেত বুঝতে না পেরে দুদক কর্মকর্তারা দায় চাপিয়ে দেন আনসার বা পুলিশ সদস্যদের ওপর। কয়েকদিনের জন্য কার্যক্রম শিথিল হলেও অচিরেই আবার পুরনো নিয়মে ফিরে যায়।জানা যায়, অফিস প্রাঙ্গণ ও গেইটের বাইরে ২০–২৫ জনের একটি দালাল চক্র সক্রিয় থাকে। এদের মধ্যে মাত্র ৮–১০ জনের বিশেষ সংকেত ব্যবহারের ক্ষমতা আছে। সংকেতের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়—এর মধ্যে ১,৬০০ টাকা অফিসে যায়, আর ৪০০ টাকা থাকে দালালের হাতে। এই টাকা নিয়মিত সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেনের কাছে পৌঁছায়। আবার, আনসার বা পুলিশের নাম ভাঙানো দালালরা ১,৫০০ টাকায় এক মিনিটেই আবেদন জমা করে দেন। দিন শেষে প্রতি ফাইল থেকে ১,০০০ টাকা অফিসে পৌঁছায়, বাকি টাকা তাদের ভাগে যায়।অফিসের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সহকারী পরিচালক ও সুপারিন্টেন্ডেন্টের চাপে তারা বাধ্য হয়ে এসব কাজ করেন। নির্দেশ অমান্য করলে বদলির হুমকি দেওয়া হয়।কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আবেদন জমা করতে না পেরে সহকারী পরিচালকের নিকট গেলে কোনো প্রকার সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কাউন্টারে আবেদন গ্রহণ না করলে তার কিছুই করার নেই।চন্দনাইশ থেকে আসা এক আবেদনকারী বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট জমা দিতে গিয়ে মূল জাতীয়তা সনদ না থাকায় আবেদন বাতিল করা হয়। পরে দালালকে ২ হাজার টাকা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জমা হয়ে যায়।’হাটহাজারির আরেকজন আবেদনকারী জানান, ‘এনআইডিতে পেশা ছাত্র থাকলেও বর্তমানে আমি বেকার। বেকার উল্লেখ করায় আবেদন বাতিল করা হয়। পরে বাইরে এসে এক দালালকে ২ হাজার টাকা দেওয়ার ১৫ মিনিট পর আবেদন গৃহীত হয়।’এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক শরীফুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর–কে বলেন, দালালদের মার্কা কিংবা বিশেষ সংকেত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় দালালদের আটক করা হয়। সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। কারো সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।তবে অভিযুক্ত সহকারী পরিচালক বিল্লাল হোসেন ও সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।এসকে/আরআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি লাইজু ও সম্পাদক ওমর ফারুক
আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি লাইজু ও সম্পাদক ওমর ফারুক

দেশ ও মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকতা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের গঠিত হলো ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি। এতে সভাপতি Read more

ভোটের মাঠে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি: মান্না
ভোটের মাঠে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখন সবচেয়ে বেশি: মান্না

ভোটের মাঠে মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা এখনও সবচেয়ে বেশি। তাই মব কালচারের মাধ্যমে সেই জনপ্রিয়তা নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন Read more

ধরলার তীব্র ভাঙন: ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব অর্ধশতাধিক পরিবার
ধরলার তীব্র ভাঙন: ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব অর্ধশতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চরগোরকমন্ডল এলাকায় ধরলার তীব্র ভাঙনে অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়িসহ শতশত বিঘার ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ধরলার Read more

তালেবানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
তালেবানের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আফগানিস্তানে নারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগে তালেবানের শীর্ষ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাসহ প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে Read more

হাসিনার ভয়ে গর্তে লুকানো ব্যক্তিরা এখন সংস্কারের তালিম দিচ্ছে: আমীর খসরু
হাসিনার ভয়ে গর্তে লুকানো ব্যক্তিরা এখন সংস্কারের তালিম দিচ্ছে: আমীর খসরু

শেখ হাসিনার ভয়ে যারা গর্তে লুকিয়ে ছিল, তারা এখন তাদের সংস্কারের তালিম দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য Read more

মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন