টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। রোববার (১৩ জুলাই) রাত থেকে সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ভারী বর্ষণে বন্দর শেড ও খোলা ইয়ার্ডে জমেছে হাঁটুসমান পানি। দ্রুত পানি না সরালে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্যের।সরেজমিনে দেখা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭, ও ১৮ নং শেডের কানায় কানায় বৃষ্টির পানি থৈ থৈ করছে। খোলা আকাশের নীচে যে সব মালামাল রাখা আছে সেগুলো বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। খোলা আকাশের নিচে রাখা মালপত্র ভিজে যাচ্ছে বৃষ্টির পানিতে। কিছুদিন আগের জমে থাকা পানি এখনও পুরোপুরি অপসারণ হয়নি, আর নতুন করে ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।এদিকে বন্দরের পানি  নিষ্কাশনের জন্য গত ৯ জুলাই ছয় সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলেও তাতেও কোন সমাধান আসেনি। তাদের বক্তব্য জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন সম্ভব নয়।বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে। জলবদ্ধতায় বেনাপোল স্থলবন্দরে অনেক স্থানে পানি জমায় মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া। ড্রেনেজ  ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরে হাটু পানিতে কয়েক বছর ধরে এ দূর্ভোগ হলেও নজর নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের।তারা বলছেন, বেনাপোল বন্দরে বছরে ২২ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয় ভারত থেকে। এসব পণ্য রক্ষনাবেক্ষনে বন্দরে ৩৩টি শেড ও ৩টি ওপেন ইয়ার্ড ও একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড আছে। আকারে ছোট পণ্যগুলো রাখা হয় শেডের এবং বড় আকারের পণ্য রাখা হয় ওপেন ইয়ার্ডে। তবে এসব শেড ও ওপেন ইয়ার্ড অধিকাংশই দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তৈরী হয়নি। বন্দর সড়কের উচ্চতার চেয়ে পণ্যগারগুলো নিচু হওয়ায় বৃষ্টিপাত বেশি হলে পানি নিষ্কাশনের অভাবে পণ্যগার ও ইয়ার্ডে জলবদ্ধতা তৈরী হয়। এতে পানিতে ভিজে যেমন পণ্যের গুনগত মান নষ্ট হয় তেমনি চলাচলের বিঘ্ন ঘটে। বিভিন্ন সময় এ অবস্থা থেকে উত্তরনে ব্যবসায়ীরা বন্দরের স্বরনাপন্ন হলেও গুরুত্ব নেই তাদের।বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী জানান, ‘একটু বৃষ্টি হলেই বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন স্থানে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আমার সাধারণ শ্রমিকরা কাজ করতে পারছি না, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। আমরাও কাজ করতে না পেরে বসে থাকতে হয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। এর আগে কয়েকটি শেডে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নস্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোন ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে  প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ  গ্রহন করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকার কোন পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নস্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে স্থলবন্দরের অভ্যন্তরে জমে থাকছে। গত ৯ জুলাই মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। রবিবার রাত থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত একটানা ভারি বৃষ্টিতে আবারে পানি জমে গেছে। সেটা দ্রুত নিস্কাশনের ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। এর সাথে কয়েকটি সরকারি সংস্থা জড়িত। যার যার প্রতিষ্ঠান থেকে আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে যেমন, রেলওয়ে তাদের নিজস্ব তাদারকিতে পানি নিষ্কাশন করবে, সাথে কাস্টমসও তাদের মত পানি নিষ্কাশন করবে এবং স্থায়ী কোনো প্রকল্প হাতে না নেওয়া পর্যন্ত এ পানি নিষ্কাশনের সঠিক সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। আরডি 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
একাত্তর নিয়ে ক্ষমা না চাইলে জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারবে না: কাদের সিদ্দিকী
একাত্তর নিয়ে ক্ষমা না চাইলে জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারবে না: কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) বলেছেন,  ‘১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে কাজ করেছে, তার জন্য যদি Read more

ফুলবাড়ীতে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন
ফুলবাড়ীতে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন

 ফুলবাড়ীতে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা খাদ্য গুদামে ফিতা Read more

কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫
কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্বামীকে বেঁধে মারধর ও স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করেছে।শনিবার Read more

আয়ারল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি কনোলির ভূমিধস জয়
আয়ারল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি কনোলির ভূমিধস জয়

আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বামপন্থি প্রার্থী ক্যাথেরিন কনোলি। মোট ভোটের ৬৩ শতাংশ পেয়ে ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন।শনিবার (২৫ অক্টোবর) Read more

একাত্তরের ঘটনায় পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলল বাংলাদেশ
একাত্তরের ঘটনায় পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করতে হলে অতীতের অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের বিকল্প নেই। দেড় দশক পর সচিব পর্যায়ের বৈঠকে Read more

১৫ বছর যারা ছাত্রলীগ করেছে, তারাই এখন ছাত্রশিবির: দুলু
১৫ বছর যারা ছাত্রলীগ করেছে, তারাই এখন ছাত্রশিবির: দুলু

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর যারা ছাত্রলীগ করেছে, তারাই এখন ছাত্রশিবির হয়ে Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন