নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়াকে মানিলন্ডারিং মামলায় ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।রবিবার (২৫ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। তবে এ মামলার অন্য ৪ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। মামলার তদন্তে উঠে আসে, রাজনীতি ও প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি অপরাধ চক্র। ঢাকার একাধিক হোটেলে চলত অবৈধ কর্মকাণ্ড—যেখানে ছিল অস্ত্র, মাদক, এবং বিপুল অর্থ লেনদেন।২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন এবং অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার এবং ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি পাপিয়ার ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।ওই ঘটনায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মাদক ও অস্ত্র মামলা, গুলশান থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা, বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে (জাল টাকার) মামলা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় পাপিয়াসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের আরেক পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন।চার্জশিটে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে পাঁচ কোটি টাকার মালিক হন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান। এই টাকার কথা কেউ যাতে জানতে না পারে, সেজন্য তা ব্যাংকে না রেখে বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। বাসায় এত টাকা রাখার তথ্য স্ত্রী পাপিয়াকেও জানাননি তিনি। তবে মফিজুর যখন ভারতে অবস্থান করেন, তখন পাপিয়া বাসার খাটের নিচে টাকা থাকার তথ্য জেনে যান এবং এই অবৈধ টাকা পরবর্তীতে খরচ করেন। এর মধ্যে হোটেল ভাড়া দেন তিন কোটি টাকার বেশি। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে অস্ত্র মামলায় ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হন পাপিয়া। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশাল অঙ্কের হোটেল বিল পরিশোধ করতে গিয়ে গোয়েন্দাদের নজরে পড়েন তিনি। এরপর একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার সব অপকর্মের কাহিনী। মূলত, পাঁচ তারকা হোটেলে নারী ও মাদক ব্যবসাই ছিল পাপিয়ার আয়ের প্রধান উৎস। দেশের অভিজাত কিছু মানুষ ও বিদেশিরাই ছিল তার গ্রাহক। ইন্টারনেটে স্কট সার্ভিস খুলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত সুন্দরী তরুণীদের সংগ্রহ করে খদ্দেরদের কাছে পাঠাতেন পাপিয়া। পাপিয়ার সব কর্মকাণ্ডের অন্যতম অংশীদার ছিলেন তার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন। নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সুমন এক সময় নরসিংদীর প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমানের বডিগার্ড ছিলেন।এমআর-২

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
‘আমার অজান্তেই এলাকাবাসী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে’
‘আমার অজান্তেই এলাকাবাসী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য জাতীয় সংসদের কুমিল্লা-৩ আসন থেকেও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ Read more

এবার চীনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
এবার চীনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

এবার চীনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি ম্যাগনেট দিতে Read more

আদালত থেকে ফেরার পথে মামলার বাদীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত
আদালত থেকে ফেরার পথে মামলার বাদীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত

কিশোরগঞ্জে আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম নামে একজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।বুধবার Read more

৪ দিনের সফরে জাপান গেলেন প্রধান উপদেষ্টা
৪ দিনের সফরে জাপান গেলেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন