জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারির মধ্যেই চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ঘটেছে ভিন্ন চিত্র। ফিলিং স্টেশনগুলোতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কঠোরতা থাকলেও সড়ক নিরাপত্তা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট ব্যবহার—প্রকাশ্যে উপেক্ষিত হচ্ছে। এমনকি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানের উপস্থিতিতেই হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের ঘটনা সামনে আসায় আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে তীব্র প্রশ্ন।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতকানিয়ার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জ্বালানি তেলের মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করা, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ মজুদ বা চোরাচালান না ঘটে। এসব কর্মকর্তারা নিয়মিত স্টেশনগুলোতে উপস্থিত থেকে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করবেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো গাড়ির কাগজপত্র সঠিক না থাকলে তেল দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কাগজপত্র যাচাইয়ে কঠোরতা থাকলেও হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোরতা দেখা যাচ্ছে না। একাধিক ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, চালকের মাথায় হেলমেট না থাকলেও নির্বিঘ্নে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে কেরানীহাটের একটি ফিলিং স্টেশনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানের উপস্থিতিতেই হেলমেট ছাড়া অসংখ্য মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ করতে দেখা গেলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুধুমাত্র কয়েকটি গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জরিমানা সঠিক না পাওয়ায় জরিমানা করেন।স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “এসিল্যান্ড স্যার দাঁড়িয়ে থেকে কাগজপত্র দেখছেন, কিন্তু হেলমেট ছাড়া বাইক এলেও তেল দেওয়া হচ্ছে। এটা দেখে অবাক হয়েছি। আইনের এক অংশ মানা হচ্ছে, আরেক অংশ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে।”আরেকজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় হেলমেট না থাকলে মামলা দেয়। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে যদি তেলই পাওয়া যায়, তাহলে চালকেরা তো নিয়ম মানার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়বে।”সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই বিধান শুধু আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নে দেখা যাচ্ছে দ্বৈত আচরণ।সচেতন মহল বলছে, মূলত জ্বালানি খাতে অনিয়ম ঠেকাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে যদি সড়ক নিরাপত্তা আইনও নিশ্চিত করা যেত, তাহলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হতো।তারা আরও বলছে, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই যদি আইন ভঙ্গের ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। এতে আইন মানার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সড়ক নিরাপত্তার ওপর।স্থানীয় এক শিক্ষক মন্তব্য করেন, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কাগজপত্রের ক্ষেত্রে কঠোরতা থাকলে হেলমেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোরতা থাকা প্রয়োজন। নইলে এই ধরনের উদ্যোগ আংশিক সফল হয়ে পড়ে।”এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
