রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে চালকবিহীন দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন। পড়ছে তীব্র গরম আর রোদ। বাইকাররা রাস্তায় গাড়ি রেখে কেউ দোকানে, কেউ গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। কখন তেল পাবেন তাও জানেন না তারা। সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছে তারা। প্রশাসনিকভাবে কোন তদারকি না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে সীমাহীন। অনেকে রাত ৩টার সময় এসে অপেক্ষা করছেন ২০০ টাকা তেলের জন্য। কবে কাটবে সংকট, কবে আসবে সুখবর। তা জানা নেই কারোর।স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলের এতো বড় লাইন গাংনীতে দেখা যায়নি। যেমন গরম তেমন রোদও পড়ছে। রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে চালকরা বিভিন্ন দোকান, ছাউনি বা মাঠের মধ্যে গাছের নীচে বসে আছে। কখন তেল পাবেন তাও জানেন না তারা। পাম্পে ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে।তবে প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকায় মাঝে মাঝে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে চালকদের মধ্যে। দেখা হচ্ছে না ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও গাড়ির কাগজপত্র।তেল নিতে আসা মোঃ মিনারুল ইসলাম বলেন, এতো ভোগান্তি কখনো দেখিনি। সঠিক তদারকি না থাকার কারণে মাঝে মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। মোটরসাইকেলের যত বড় লাইন এত বড় লাইন আমি কখনো দেখিনি। তবে গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও প্রয়োজনে কাগজপত্র যদি দেখে তেল দেয়া হতো তাহলে পরিবেশ ভালো থাকতো। কিন্তু আদৌ কোন কিছু দেখা হচ্ছে না বা প্রশাসনিক ভাবেও কোন তদারকি নেই।তেল নিতে আসা হাফিজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ লাইন হবে বলে রাত চারটার সময় চলে এসেছি। তারপরও দেখি আমার আগে অনেকেই চলে এসেছে। ৬ থেকে ৭ ঘন্টা অপেক্ষার পর ২০০ টাকা তেল পেয়েছি। রোদ গরমে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। তাই কষ্টকে আলিঙ্গন করে তেলের জন্য অপেক্ষা করছে মোটরসাইকেল চালকরা।পাম্পে তেল নিতে আসা বজলুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে রোদ গরমের মধ্যে।অথচ স্বজন প্রীতি থাকায় অনেকে লাইন বাদেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। যদি ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে তেল দিত তাহলে এগুলো হতো না। কারণ ম্যাজিস্ট্রেট থাকলে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের আছে তাদেরই তেল দেয়ার অনুমতি দিত।প্রশাসনিকভাবে কোন তদারকি না থাকার কারণে নিয়ম-নীতি মানছে না কেউই।ডিজেল নিতে আসা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমার মাঠে গম পেকে গেছে। ৫ থেকে ৬ দিন ঘোরার পর আজ তেল পেয়েছি।আকাশে মেঘের ঘনঘাটা।বৃষ্টি আর ঝড় হলে চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তবে বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ চাষীদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সর্বোচ্চ তেল দেয়ার চেষ্টা করছে।বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ কিবরিয়া হোসেন বলেন, মাঠে পাকা গম,ঝড় বৃষ্টির সময়।চাষিরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।এই কথা বিবেচনা করে চাষিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দিচ্ছি।কোন ট্রাক আসলে তেল দিচ্ছি না।আর মোটরসাইকেল বাই কারদের অকটেন ও পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে,যতক্ষণ আছে ততক্ষণ দিতে থাকবো।তবে মাঝে মাঝে তারা চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।এজন্য প্রশাসনিকভাবে দেখভাল করা অত্যন্ত জরুরি।রাস্তায় মোটর সাইকেলের যে বড় লাইন এত বড় লাইন আমি কখনো দেখিনি।মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) বলেন, যাদের তেল থাকা সত্বে সংকট তৈরি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।কোন ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এর জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
