পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি দখলে নিতে রাতের আঁধারে প্রায় ৩ হাজার চা গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ২০১৮ সালে গড়ে তোলা চা বাগান ছিল মোশারেফ-আসমা দম্পতির আয়ের উৎস। ধার-দেনা আর ঋণ করে ৫০ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা সেই বাগানের চা গাছ উপড়ে ফেলায় নির্বাক এখন মোশারেফ-আসমা দম্পতি। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর ইউনিয়নের খয়ের বাগান সংলগ্ন চরতিস্তাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রচণ্ড শীতে যখন চারদিকে শুনশান নিরবতা তখন প্রতিপক্ষের এমন কাণ্ডে রীতিমতো পথে বসার মতো পরিস্থিতি ভুক্তভোগী দম্পতির।এই ঘটনায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আছমা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর আব্দুল জব্বার-ফরিদুল ইসলামের অনুসারীরা সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই জমিতে থাকা কলা বাগান থেকে ৩০০টি কলার ছড়ি ও প্রায় ১২শ কেজি চা পাতা কেটে নিয়ে যায়। পরে ৮ অক্টোবর মোশারেফ দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলার দায়েরের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এরপর ৯ অক্টোবর আব্দুল জব্বার-ফরিদুল ইসলামের অনুসারীরা সকাল ১০টায় আবারো সেই চা বাগানে গিয়ে প্রায় ৪০০ টি চা গাছ উপড়ে ফেলে। সেদিন বাধা দিতে গেলে মোশারেফ ও আছমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মোশারেফ হোসেনের শ্যালক ওসমান গণি বোন দুলাভাইকে বাঁচাতে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। ভাঙচুর চালানো হয় তার মটরসাইকেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেই ঘটনায় পরদিন ১০ অক্টোবর দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন আছমা। একই ঘটনায় আব্দুল জব্বারের ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদ স্থগিত করে উপজেলা যুবদল।এর আগে গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল গণি বসুনিয়া ও সাবেক উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাশার বসুনিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে শালিস মীমাংসা হয়। যেখানে ফজল হক ও মোশারেফ উভয় পক্ষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে ফজল হকের জমি একই এলাকার মোফাজ্জল হোসেন ওরফে মোকার দখলে আছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। শালিসের আগের আমিন দিয়ে জমি মাপজোক করা হয়। জানা যায়, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বলে আব্দুল জব্বার ফজল হকের হয়ে অবৈধ ভাবে জমি দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।আছমা আক্তার বলেন, ২০০৬ সাল থেকে এই জমি আমরা ভোগদখলে আছি। হঠাৎ করে শুনি আমাদের জমিতে ফজল হকের জমি আছে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুইবার সকলের উপস্থিতিতে জমি মাপজোক হলে দেখা যায় মোকা সেই জমি দখলে রেখেছে। অথচ বারবার আমাদের উপর হামলা মামলা করে জব্বার ও তার অনুসারীরা জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ বাগানের সব চা গাছ উপড়ে ফেলে আমাদের পথে বসিয়েছে।শুক্রবার দিবাগত রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলাম। আছমা আক্তারের এজাহারের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
