বরিশালে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এবার জেলাজুড়ে ৬৪০ পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসব। রবিবার (২৮ আগস্ট) দেবী দুর্গার ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পূজার মুল আনুষ্ঠানিকতা। শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে বরিশালের পূজা মন্ডপগুলো। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, র্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক টহল, গোয়েন্দা নজরদারী এবং সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। জানা গেছে, এ বছর বরিশাল নগরীর ৪৮টি সহ জেলায় পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬শ’ ৪০ টি মণ্ডপে। মহানগরীর বিভিন্ন মন্ডপের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনী ও দেব-দেবীর প্রতিরূপ। নিপুণ কারিগরদের হাতে গড়া এসব প্রতিমা ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের দেবে ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা।মণ্ডপে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বি দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, শারদীয় দুর্গা পূজায় ভক্তরা মায়ের কাছে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি, এবং সকল অশুভ শক্তি ও দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি প্রার্থনা করেন। তারা আশা করেন, দেবী দুর্গা তাদের জীবন শান্তিময় করে তুলবেন এবং বাধাবিপত্তি দূর করবেন।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্ট মহানগরের সভাপতি এলবার্ট রিপন বল্লভ ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের গোপল সাহা জানিয়েছেন, ‘দফায় দফায় প্রশাসনের সাথে আমাদের সভা হয়েছে। প্রশাসন ব্যাপক সাড়া দিয়েছে পূজাকে কেন্দ্র করে। আশা করা যায় এ বছর বরিশালে উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে এবার।’র্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানিয়েছেন, ‘দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বরিশাল মহানগরীতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করেছে অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনী। সেই সাথে মাঠে নেমেছে র্যাব।’বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশালের প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা, স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন, প্রতিমা বিসর্জন স্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।’অন্যদিকে পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন বলেন, ‘জেলায় পূজা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও টহল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। দর্শনার্থীরা যাতে নির্ভয়ে পূজা উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।’এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় ২ হাজার ১২৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৬৪০ ও মহানগরীতে ৪৭টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
