বিদ্যুৎ বিভাগের চালু করা নতুন প্রিপেইড মিটার সংযোগ নিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হাজারো গ্রাহক চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ গ্রাহককে এই মিটার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজন মুহূর্তে মিটার রিচার্জ করা যাচ্ছে না। অপরদিকে, রিচার্জ করতেই কেটে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এছাড়া, টাকা লোড করার সময় বহু ডিজিট চেপে রিচার্জ করতে গিয়ে ভুল হচ্ছে। তাতে অনেক সময় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় অযথা হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের পরিবর্তে আগের ডিজিটাল মিটার লাগানোর দাবি তুলেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভা এবং উপজেলার বেশকিছু এলাকায় মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ৪০ হাজার। ইতোমধ্যে ২২ হাজারের বেশি গ্রাহকের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রিপেইড মিটার। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন অনেকটা গ্রাহকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, প্রিপেইড মিটার সংযোগ না নিলে আগের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে বলে চাপ দেয়া হচ্ছিল। বিদ্যুৎ অফিস কৌশলে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের নতুন সংযোগ নিতে চালু থাকা মিটারের কোনো না কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটার লাগাতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হচ্ছে এই মিটার। এতে করে নতুন মিটার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা।সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ডিজিটাল মিটার স্থাপনের পরিবর্তে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের চাপ সৃষ্টি করেছে।দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তবুও তারা বিভিন্নভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন চালিয়ে যাচ্ছেন।ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সময় আমাদের পুরানো মিটার বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিয়ে যায়। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র মিটার বদল ফ্রি নেয়ার নিয়ম থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন নতুন প্রিপেইড মিটার বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে অজুহাত দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে মিটারের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়টি আমরা জানি না। কিন্তু আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে তাঁরা মিটারের টাকা হাতিয়ে নিলেও পরে দেখা যাচ্ছে টাকা লোড করার পর সেখান থেকে মিটার ভাড়া টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এখন প্রিপেইড মিটার লাগানোর পরবর্তী আমাদের ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে চলছে।গ্রাহকরা দাবি করেন, মিটারে যথাসময়ে টাকা রিচার্জ করতে না পারা, আবার টাকা লোড করার পর অতিরিক্ত চার্জ, মিটারের ভাড়া এবং অন্যান্য চার্জের নামে একটি বিশাল অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার টাকা লোড করতে গিয়ে মিটারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় লক খুলতে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে বা লাইসম্যানের দ্বারস্থ হতে গিয়ে সেখানে টাকার মাশুল গুনতে হচ্ছে। এরপরও গ্রাহকরা মিটারের বিলিং প্রক্রিয়া এবং রিচার্জ করার পদ্ধতি নিয়েও চরম বেকায়দায় পড়ছেন।এছাড়া, আগের কাগজের বিলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রিপেইড মিটারে। আবার টাকা শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যালান্স নিতে গিয়ে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। মিটারে টাকা লোড করতে গিয়ে পোহাতে হচ্ছে নানামুখী ঝামেলা।ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের টাকা হরিলুটের এই পদ্ধতি এখন নিরবিচ্ছিন্ন সেবার বিপরীতে আমাদের কাছে বিষফোড়া হয়েছে। এ অবস্থায় বেশিরভাগ গ্রাহক প্রিপেইড মিটার বন্ধ করে পোস্টপেইড ও ডিজিটাল মিটার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রিপেইড মিটার লাগাতে গিয়ে লাগানো চার্জ বলে ৩০০/৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, লোড বৃদ্ধি করতে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। অপরদিকে, পুরানো মিটারগুলোতে চলতি মাসের বিল হাতে না আসায় রিডিং জমা আছে বলে রিডিংয়ের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মিটার থেকে অতিরিক্ত বিল ইস্যু করা ইউনিট ফেরত না দিয়ে প্রিপেইড মিটার লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, মিটারের ব্যাটারি সমস্যা হলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মিটার লক হলে টেম্পার টোকেনের জন্য টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।চকরিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, ইতোমধ্যে চকরিয়ার ২২ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ মিটার ভালো চলছে। তবে নতুন গ্রাহকরা সিস্টেম না বুঝার কারণে অভিযোগগুলো করছেন।তিনি বলেন, আগের কাগজের বিলে সকল সার্ভিস চার্জ লেখা থাকতো। এখন টাকা লোড করার পর সেখান থেকে একই সার্ভিস চার্জ সমূহ কাটা হচ্ছে। এখানে অতিরিক্ত চার্জ কাটার সুযোগ নেই। আর প্রিপেইড মিটারে টাকা লোড করতে যেসব অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা নিরসনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আগামীতে গ্রাহকরা মোবাইল রিচার্জের মতো তাঁদের মিটার টাকা লোড করতে পারবে। এই সুবিধা চালু হলে গ্রাহকরা এর সুফল ভোগ করবেন। তখন প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল ধারণা আর থাকবে না।এইচএ

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
শেরপুরে ভাবীর জমি দখল করলো ৩ ননদ
শেরপুরে ভাবীর জমি দখল করলো ৩ ননদ

বগুড়ার শেরপুরের ঘোড়দৌড় গ্রামে শনিবার সকালে জোড় পুর্বক জমি দখল করে নিয়েছে ৩ ননদ। এঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. রেহেনুমা পারভীন বাদী Read more

তারকা ফুটবলারকে ছাড়াই ব্রাজিলের দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি
তারকা ফুটবলারকে ছাড়াই ব্রাজিলের দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি

আগমী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে বিশ্বকাপ বাছায়ের ম্যাচে চিলি ও বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল।  এ দু’টি ম্যাচকে সামনে রেখে আগামী সপ্তাহের Read more

ধামইরহাটে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ
ধামইরহাটে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ প্রায় দুই শতাধীক পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার Read more

দেবীগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মুখে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ
দেবীগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মুখে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ভ্যাসলিনের কৌটায় Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন