বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে ২০১৮ সালে আবির্ভাব ঘটে বসুন্ধরা কিংসের। এরপর টানা পাঁচটি লিগ শিরোপা জিতেছে দলটি। তবে গত বছর ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সময়টা ভালো যাচ্ছে না ক্লাবটির।পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে কাড়ি-কাড়ি টাকা খরচ করা বসুন্ধরা কিংস বর্তমানে আর্থিক চাপে আছে। তাছাড়া গত মৌসুমে লিগ শিরোপা জেতাতো দূরের কথা, তেমন কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি তারা। টেবিল টপারদের থেকে ১০ পয়েন্ট কম নিয়ে মৌসুম শেষ করেছিল তারা।এবার ক্লাবের বিপক্ষে ফিফায় অভিযোগ দায়ের করেছে দলটির সাবেক কোচ ও ট্রেইনার। চুক্তিকৃত অর্থ না পাওয়ায় ক্লাবটির সাবেক রোমানিয়ান কোচ ভ্যালেরি তিতে ও ফরাসি ট্রেইনার খলিল চাকরৌন এ অভিযোগ দায়ের করেছেন।কিংসের সাবেক ফরাসি ট্রেইনার খলিল এখন ওমানে রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘গত পরশু ফিফায় অভিযোগ করেছি। তারা অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে এমন চিঠিও দিয়েছে।’খলিল তার পাওনা সম্পর্কে বলেন, ‘বসুন্ধরা কিংসের কাছে মার্চ-মে মাসের বেতন, বোনাস (ফেডারেশন কাপ ও চ্যালেঞ্জ কাপ) ফি এবং বেতন বিলম্ব প্রদানের জরিমানা প্রাপ্য। আমার মতোই পাওনা তিতের (রোমানিয়ান কোচ)। যখন ঢাকা ছেড়ে আসি তখন ক্লাব ম্যানেজার ওয়াসিম বলছিলেন আমাদের অর্থ দ্রুত পরিশোধ করবে। কয়েক মাস ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু না হওয়ায় ফিফায় আবেদন করতে বাধ্য হয়েছি।’ফুটবলে ক্লাবের খেলোয়াড়-কোচ ও ক্লাবের মধ্যে দেনা-পাওনার বিবাদ খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলেও এ ধরনের ঘটনা হরহামেশায় ঘটে।সাধারণত এই সংক্রান্ত অভিযোগ হলে ফিফা খতিয়ে দেখে। খেলোয়াড়-কোচের দায়েরকৃত অভিযোগ সত্য হলে ক্লাবকে একটি সময়সীমা বেঁধে দেয় পরিশোধের জন্য। সেই সময়ের মধ্যে ক্লাব যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে, তখন ক্লাবের ওপর ফিফা ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কিংবা আর্থিক জরিমানা আরোপ করে। আবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্লাব যদি কোনো তথ্য-প্রমাণ উত্থাপন করতে পারে, সেক্ষেত্রে ফুটবলার-কোচের আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনাও আছে অনেক।এর আগে গত মৌসুমে ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব তাদের এক উজবেক ফুটবলারকে চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধ করেনি। পরে সেই ফুটবলার ফিফায় অভিযোগ করেছিলেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্লাবটিকে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
