দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় প্রথমবারের মতো যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে ভারত ও ফিলিপাইন। দুই দিনব্যাপী এই নৌ মহড়াটি শুরু হয় রোববার (৩ আগস্ট), যা আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই মহড়াকে চীনের আধিপত্যের দাবির প্রেক্ষিতে নতুন কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরকেই নিজেদের বলে দাবি করে, যা ভারতের পাশাপাশি ফিলিপাইনের সঙ্গেও তাদের বিরোধ তৈরি করেছে। ফিলিপাইনের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল রোমিও ব্রাউনর জুনিয়র সোমবার জানান, এই যৌথ নৌ মহড়া ফিলিপাইনের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) এর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।তিনি বলেন, “আমরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হইনি, তবে কিছু বাহিনী আমাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করেছে, যেটা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।” যদিও তিনি চীনের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দূর থেকে নজরদারি চালিয়েছে।ভারতীয় নৌবাহিনীর যে জাহাজগুলো মহড়ায় অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে আছে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস দিল্লি, ট্যাঙ্কার আইএনএস শক্তি এবং কর্ভেট আইএনএস কিলতান। অন্যদিকে ফিলিপাইন দুটি ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে, বিআরপি মিগুয়েল মালভার এবং বিআরপি জোসে রিজাল।এই নৌ মহড়ার সময়ই ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে রওনা হয়েছেন। যাত্রার আগে তিনি জানান, এই সফরে তার মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ওষুধ ও কৃষি খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করা।ফিলিপাইনের সেনাপ্রধান ব্রাউনর আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরও যৌথ মহড়া আয়োজন করা যাবে।মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আঞ্চলিক ও সামুদ্রিক বিরোধ কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত, কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অনুচিত।” একই দিন চীনের দক্ষিণ থিয়েটার কমান্ড জানায়, রোববার ও সোমবার তারা দক্ষিণ চীন সাগরে নিজস্ব “রুটিন টহল” পরিচালনা করেছে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
