বুকভরা আশা নিয়ে একমাত্র ছেলে হাসিবুল্লাহকে বাঁচানোর আশায় ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান মা হাসনা বেগম। কিন্তু সেখানে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। ডাক্তার দুই দিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান শিশুটির অবস্থা জটিল থেকে মহা জটিলতর হয়েছে, যা প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের ডাক্তার দ্রুত বাচ্চাটিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে রেফার করেন। নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে। সেখানে ভর্তি করে টানা ৮ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর ডাক্তার জানান বাচ্চাটির অবস্থা খুব খারাপ, দ্রুত করতে হবে অপারেশন। ওপেন হার্ট করে একসাথে দুটো অপারেশন করতে হবে। প্রয়োজন হবে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার। টাকার পরিমাণ শুনে হাসপাতালে জ্ঞান হারান বাচ্চাটির মা হাসনা বেগম। পবিত্র ঈদুল আযহার ৩ দিন আগে, অর্থাৎ ০৪-০৬-২৫ তারিখে বাচ্চাটিকে নিয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন মা হাসনা বেগম।বর্তমানে শিশুটির অবস্থা খুবই করুণ। শুকিয়ে কাট হয়ে যাচ্ছে। মাথায় হাজারো ফোড়া উঠেছে, যার যন্ত্রণা শিশুটি সহ্য করতে পারছে না। হঠাৎ প্রচণ্ড চিৎকার করে বুক চেপে ধরে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। ঠোঁট ও হাতের নখ মাঝে মাঝে কালো, মাঝে মাঝে নীল হয়ে যাচ্ছে। হৃদকম্পন এতটা কঠিনভাবে হচ্ছে, যা কল্পনা করার মতো নয়।অবুঝ শিশু হাসিবুল্লাহ (২) ফুটফুটে শিশুটি যখন প্রচণ্ড যন্ত্রনায় অজ্ঞান হয়, তখন পুরো একটি গ্রাম শুধু আফসোস করে আর নিরবে চোখের পানি ফেলে।শিশু হাসিবুল্লাহ বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের পুসকুনির পাড় এলাকায়। অবুঝ শিশু হাসিবুল্লাহর হার্ট ফুটো ৮% ও হার্টের রক্তনালী চিকন হয়ে গেছে।উল্লেখ্য, ‘বাঁচতে চায় অবুঝ শিশু হাসিবুল্লাহ, প্রয়োজন ১ লক্ষ টাকা’ শিরোনামে ১১ মে ২০২৫ তারিখে জনপ্রিয় অনলাইন ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’ একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবর প্রকাশের বেশ কয়েকদিন পর ১ লক্ষ টাকা কাকতালিয়ভাবে যোগাড়ও হয়ে যায়। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে বাচ্চাটির মা পড়ে যায় বিপদে। কারণ শিশুটির অপারেশনে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকাই লাগবে। বাচ্চাটির মায়ের কাছে এখনও গচ্ছিত আছে ১ লক্ষ টাকা।এ বিষয়ে শিশু হাসিবুল্লাহর মা হাসনা বেগম সময়ের কণ্ঠস্বরের এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে আপনারা সাহায্য করুন। আমার বাচ্চাটা বিনা চিকিৎসায় মরি গেলে আমারও মরা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।’ তাই সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের দয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।প্রতিবেদকের বক্তব্য: এই বাচ্চাটিকে নিয়ে নিউজ করার পরে কিছু তিক্ত ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে ওই অসহায় মা। একজন ৫০ হাজার টাকা দেবেন বলে ওয়াদা দিয়েও তিনি কথা রাখেননি। বরং দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন। একজন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পুরো টাকা পাইয়ে দেবেন বলে ০১৭৯৯১১৯৮৪১, ০১৬৩০৭৬২৫৬০ থেকে ফোন করে আগে ২০ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন!এই মানুষগুলোর কাছে আমার একটাই চাওয়া, সাহায্য করতে না পারলে অন্তত দোয়া করবেন। দয়া করে অসহায় মানুষটিকে নিয়ে তামাশা বা মশকারা করবেন না। কারণ তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে খুব চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। পরিশেষে একটাই চাওয়া, অবুঝ শিশুটিকে বাঁচাতে আপনারা সকলে সাহায্য করুন। আমরা বাচ্চাটিকে ২৫ শে জুন ২০২৫ তারিখে অপারেশনের জন্য ভর্তি করাতে চাই।শিশু হাসিবুল্লাহর পাশে দাঁড়াতে তার মায়ের একাউন্ট নম্বর: ২০৫০৭৭৭০২২৭৬১৭৭৫৭, একাউন্টের নাম: হাসনা বেগম। ব্যাংকের নাম: ইসলামী ব্যাংক লি: কুড়িগ্রাম।এছাড়া শিশু হাসিবুল্লাহর পাশে দাঁড়াতে মা হাসনা বেগমের মোবাইল: ০১৩৪০৯২০৭৮১ (বিকাশ ও নগদ)।ভিডিও কলে শিশুটিকে দেখতে: ০১৭১৩২০০০৯১ (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর), সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদক। এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
