বরগুনায় অপহরণের পর আলোচিত অনিক চন্দ্র রায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৯ বছর ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নামক এলাকার আবদুস ছত্তার গাজীর ছেলে। শনিবার (২৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৯ টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট নামক এলাকা থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের থানাপাড়া নামক এলাকার বাসিন্দা সুবল চন্দ্র রায়ের ছেলে অনিক চন্দ্র রায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে দীর্ঘসময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরেরদিন সকালে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে, ওই মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে সালাউদ্দিন গাজীকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞেসাবাদে জানা যায়, অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবি করে ডিশ লাইনের তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে অনিককে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনার ১৭ দিন পর বরগুনা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সেফটি ট্যাংকি থেকে নিখোঁজ অনিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামি ৬ জনের মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় আদালত। এ ছাড়া অপর তিন আসামির জড়িত থাকার প্রমান না পাওয়ায় তাদেরকে অব্যহতি দেয়া হয়। তবে মামলার পরপরই মৃত্যুদন্ড সাজাপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে ভারত থেকে ফিরে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  অপহরণের পর হত্যার শিকার অনিকের বাবা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, আমার ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করেছে আসামিরা। এ ছাড়াও আমার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণও চায় তারা। তবে তাদের কথা অনুযায়ী মুক্তিপণ নিয়ে গেলেও তাদের দেখা পায়নি। এ ঘটনায় দীর্ঘবছর পালিয়ে থাকার পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সালাউদ্দিনের মৃত্যুদন্ডের রায় দ্রুত কার্যকর চাই। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৃত্যুদন্ড সজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ নয় বছর ভারতে পালিয়ে ছিল। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।এসআর

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কালিহাতীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাসের ধাক্কায় নিহত ২
কালিহাতীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাসের ধাক্কায় নিহত ২

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাসের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছেন।শুক্রবার (২৩ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মুলিয়া Read more

বাকসু নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
বাকসু নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, কলেজের শিক্ষার্থীদের Read more

পানিতে ডুবে প্রাণ গেল চার শিশুর
পানিতে ডুবে প্রাণ গেল চার শিশুর

কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় পানিতে ডুবে চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একদিনে চারটি শিশুর এই মৃত্যুতে শোকের Read more

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ৪ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ৪ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার

আজ জুমার নামাজের পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। Read more

চাটমোহরে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু
চাটমোহরে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

বিলের জমিতে চাষ করতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে আবুল হাসেম (৪০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পরে Read more

আগামীকাল চট্টগ্রামে ড. ইউনূসের সফর, সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ
আগামীকাল চট্টগ্রামে ড. ইউনূসের সফর, সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রামে সফরে আসছেন বুধবার (১৪ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন