দৃষ্টিশক্তিহীন চোখ, কিন্তু হৃদয়ের আলোয় উদ্ভাসিত এক নাম জোনাকি। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব গ্রামের এই তরুণী জন্ম থেকেই অন্ধ, তবুও মুখস্থ করেছেন পবিত্র কোরআন শরীফের প্রতিটি আয়াত। তার এই কীর্তি যেন অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এক আশার প্রদীপ।দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম জোনাকির। বাবা জাকির হোসেন, বড় ভাই আমির হোসেনসহ পরিবারের আট সদস্যই জন্মান্ধ। দৃষ্টিহীনতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিতে পারেনি। প্রতিদিনের কাজ তারা নিজেরাই করেন। তবে জীবনের লড়াইয়ে টিকে থাকতে সমাজের সহানুভূতির প্রয়োজন পড়ে।প্রতিবন্ধকতার পাহাড় ডিঙিয়ে জোনাকি যেভাবে আলোর পথ খুঁজে নিয়েছেন, তা বিস্ময়কর। একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় মুখে শুনে শুনেই আয়াত মুখস্থ করতে থাকেন তিনি। চোখের একটি অপারেশনের পর কিছুটা আলো দেখতে পেলেও এখনো বইয়ের অক্ষর তার কাছে অস্পষ্ট। তবু তার চেষ্টা থেমে নেই।জাকির হোসেনের বলেন,আমার মেয়ে জোনাকি যদি উন্নত চিকিৎসা পেত, তাহলে হয়তো নিজেই কোরআন শরীফ পড়তে পারত। কেউ যদি ওর পাশে দাঁড়ায়, আল্লাহর রহমতে হয়তো চোখে আলো ফিরত।জোনাকি বললেন,আমি জন্ম থেকেই চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু মন থেকে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা কখনো কমেনি। মাদ্রাসার আপারা যখন আয়াত শুনাতেন, মনোযোগ দিয়ে শুনতাম আর মুখস্থ করতাম। আমার ইচ্ছে, আমি পুরো কোরআন হিফজ করব হাফেজা হবো। একদিন ইনশাআল্লাহ নিজেই কোরআন তিলাওয়াত করব, মানুষকে শেখাব। যদি আল্লাহ চাই, আর যদি কেউ আমার চিকিৎসায় সাহায্য করে, তাহলে হয়তো আমি আরও ভালো করে দেখতে পারব, কোরআনের আলো ছড়াতে পারব পুরো জীবন জুড়ে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
