রাজশাহী শহরের শাহ মখদুম থানাধীন ১৮ নং ওয়ার্ডের পবা নতুন পাড়ার পদ্ম পুকুর একসময় সৌন্দর্য আর বিনোদনের এক অনন্য কেন্দ্র ছিল। দিনের বেলায় শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর থাকত পুকুর পাড়, আর সন্ধ্যা নামলেই সেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাণের কথা বলতে ভিড় জমাতেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই পুকুর একন পরিত্যক্ত ভুতুড়ে স্থান। প্রায় ৯ মাস পুকুরটির দিকে দেখার নেই কেউ। পুকুরটির চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।পদ্ম পুকুরটি উদ্বোধন করা হয়েছিল গত বছরের ১ জানুয়ারি। প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পুকুরটি আজ পরিত্যক্ত ও আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনের পর এটি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন আলাই নামের এক ব্যক্তি, যাকে সাবেক কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম পঁচা প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা দিয়ে রেখেছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল পুকুর ও এর আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সময় সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পুকুরের চারপাশে আলোকসজ্জা থাকত, মাঝখানে ছিল ঝরনাও।কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সন্ধ্যা হলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। আলোকিত পরিবেশের পরিবর্তে সেখানে দেখা যায় অন্ধকার, যেখানে মাদকসেবী ও চোরদের অবাধ বিচরণ। ইতোমধ্যে পুকুরের রেডিয়াম লাইট, পায়ে চলার পথের স্পটলাইট এবং প্রায় লাখ টাকার মূল্যের গ্রিল চুরি হয়ে গেছে। পুকুরের চারপাশের ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছগুলোও অনাদরে মারা গেছে। কিছু গাছ এতটাই বেড়ে গেছে যে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুকুর নির্মাণের সময় বাজেট অনুযায়ী কাজে ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পুকুরের তলায় পাথর দিয়ে ঢালাই দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। পুকুরে নামতে যে স্ল্যাপিং সেখানে কোন ঢালাই নেই বললেই চলে। এছাড়া এত বড় বাজেট থাকার পরও কেন নিরাপত্তারক্ষী রাখা হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এলাকাবাসী। এখন সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে, মোবাইল গেমে আসক্ত তরুণদের আড্ডাখানা হয়ে উঠেছে। পুকুরটিকে ঘিরে বেড়েছে অসামাজিক কার্যকলাপ। পাশে বসবাসরত পরিবারগুলোও অন্য জায়গায় উঠে গিয়ে বসবাস করছে। তাঁরাও ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।স্থানীয় সুশীল সমাজের মতে, পদ্ম পুকুরের জৌলুস ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অন্ধকার পুকুর পাড়কে আলোকিত করতে হবে, চুরি যাওয়া গ্রিল ও লাইট পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অতীতে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।পদ্ম পুকুরকে আবারও নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানকে রক্ষা করা। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে পুকুরটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হোক এবং সেখানে নিয়মিত নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হোক।একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, আলী নামের এক ব্যক্তি পুকুরটির মালিকানা দাবি করে সেখানে মাছ চাষের চেষ্টা করছেন।এক সময়ের নান্দনিক পদ্ম পুকুর আজ পরিত্যক্ত এক ভূতের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নগরবাসী চান, পদ্ম পুকুর তার হারানো জৌলুস ফিরে পাক এবং আবারও শহরবাসীর অবসর বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠুক।এদিকে পুকুরটিকে সৌন্দর্য বর্ধনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সময়ের কন্ঠস্বরকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন বলেন, পুকুরটি অনেকদিন থেকেই এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষায় থানায় জিডি করা হয়েছে। প্রকৌশলী দিকটা আমরা দেখছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। আর পুকুরটির মালিকানা লীজিং ব্যাপারটা সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর