গাজীপুরের শ্রীপুরের সাতখামাইর স্টেশন থেকে পান কিনে রেললাইনের পাশের রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরছিলেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (৬৭)। পাশে রেললাইনে দাঁড়ানো মহুয়া ট্রেনে হইচই শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখেন বগিতে আগুন। হাতের পান ফেলে দৌড়ে কাছে যান তিনি।মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে ভয়াবহ আগুন লাগার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে যাত্রীদের রক্ষা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত লকোমাস্টার মো. শাহাবুদ্দিন। ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল সড়কের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১১টার দিকে ট্রেনটিতে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়, আর যাত্রীদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে চারদিক হয়ে ওঠে আতঙ্কগ্রস্ত। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকলে যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে দৃঢ় সংকল্প ও সাহসিকতার পরিচয় দেন শাহাবুদ্দিন।সাবেক এই লকোমাস্টার সময় নষ্ট না করে দ্রুত ট্রেনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ট্রেনের বগিগুলো আলাদা করে দেন, যাতে আগুন আর ছড়িয়ে না পড়ে। তার এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে অগণিত প্রাণ রক্ষা পায়।মো. শাহাবুদ্দিন সদর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের দৌলভপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত লকোমাস্টার। রেলওয়ে জীবনে অসংখ্য যাত্রী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু অবসরের পরেও তার দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতা তাকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী বলেন, “আমরা যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম, তখন এই মানুষটি নিজের জীবনকে তোয়াক্কা না করে আমাদের রক্ষা করেছেন। তিনি না থাকলে হয়তো আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর