দিনাজপুরের বিরামপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ কাটার মামলায় সানোয়ার হোসেন (২৬) নামে উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৫ জন কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিরামপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মমতাজুল হক।গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন (২৬)। তিনি ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। অন্যরা হলেন, একই গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে মো. শাহা আলম(৩৬), জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২৯), আশরাফ আলীর ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৬), মৃত আলেফ আলীর ছেলে মো. রতন রানা (২৫)। গত রবিবার দুপুরে যৌথবাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ।মামলা সূত্রে জানা যায়, পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ার গংদের সঙ্গে পৌরশহরের ঘাটপাড় এলাকার অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমানের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমার বিষয় নিয়ে মনোমানিল্য হয়ে আসিতেছিল। সেই জমির বিষয়ে সমাধান করার কথা বলে ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমানের কাছ থেকে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।অধ্যাপক ডাঃ মোখলেছুর রহমান পেশায় একজন ডাক্তার হওয়ায় তাহার জমি চন্ডিপুর (চায়না অফিস) এলাকার মৃত জাবেদ আলীর ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৪৩), দীর্ঘদিন থেকে দেখাশোনা করে আসছিল। সেই জমিতে ফারুক হোসেন একটি দোকান নির্মান করেন। এবং সেই জমিতে বর্তমান মৌসুমে কুল (বড়ই) এবং কমলা চারা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছপালা লাগিয়ে তিনি পরিচর্যা করে আসছিলেন। বর্তমান মৌসুমে প্রতিটি বড়ই গাছে পর্যাপ্ত পরিমানে বড়ই (কুল) ধরে কিছু বিক্রয় করেন আর কিছু বড়ই গাছে আছে। তিনি ডাক্তার সাহেব এর জমি দেখাশোনার কাজ করায় তারা সময় সুযোগমত তার বাড়ী ঘর ভাংচুর করে। বাড়িঘর উচ্ছেদ করে জমি দখল করবে বলে প্রায় সময় হুমকি ধামকি দিত।গত রবিবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড় টার দিকে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ারসহ অজ্ঞাত নামা ২০/২৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠি সোঠা, রামদা, লোহার রড, শাবল, ধারালো চাকু, ছুরি, দা, বেকী, কোদাল ও কুঠার ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র-সন্ত্র লইয়া বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাগানে প্রবেশ করে বাগানে লাগানো ১৫৭ টি বড়ই গাছ, ৮৪টি কমলা গাছ ও ২৩টি আমের গাছ কাটিয়া অনুমান ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এসময় তাদের গাছ কাটতে নিষেধ করলে তারা কর্মচারী ফারুক হোসেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদল সভাপতি সানোয়ার বলে যে, শ্যালাদের শেষ করিয়া দাও, হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে তারা তাদের ওপর আক্রমন করে। প্রানভয়ে দৌড়াইয়া তারা বাড়ীতে চলিয়া আসে। তখন পুনরায় হুকুম দেয় যে, শ্যালাদের ধর। হুকুম করার সাথে সাথে তারা সবাই তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারা ধাওয়া কওে বসত বাড়ীতে অনধিকার ভাবে প্রবেশ করে। বাড়িতে প্রবেশ করে তারা তাদের এলোপাথারীভাবে মারপিট শুরু করে। শরীরের বিভিন্নস্থানে ছিলা ফুলা জখম করে। ছাত্রদল সভাপতি সানোয়ার হোসেনের হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ফারুক হোসেনের মামাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন কে ডান হাতের কনুইয়ের নিচে ডাং মারিয়া গুরুত্বর হাড় ভাঙ্গা জখম করে দেলোয়ার মাটিতে পরে গেলে সাথে সাথে তার সঙ্গে থাকা মো. আবু বক্কও ছিদ্দিক লোহার রড দিয়ে বাম হাতের কনুইয়ের নিচে ডাং মেরে গুরত্বির হাড়ভাঙ্গা জখম করে। একপর্যায়ে, তারা ফারুক হোসেনের বিদ্যুতের মিটার সহ বাড়ীঘর ভাংচুর করে আনুমানিক ১২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং বাক্সের ভিতর রক্ষতি ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে চুরি করে নিয়ে যায়। ফারুক হোসেন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ বিরামপুর থানা ও তার অফিসার ফোর্স সহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা কর্মচারীগন সহ স্থানীয় জনগন দ্রুত ঘটনাস্থলে তাদের আটক করার সময় বড়ই বাগান দিয়ে দৌড়াইয়া পালানোর সময় আঘাত প্রাপ্ত হয়। ঐ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের মারপিট করিয়া জখম করে। বিরামপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, ফারুক হোসেনের দায়ের করা মামলায় মো. সানোয়ার হোসেনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর