এক বছর আগের ঈদের দিনটির কথা মনে পড়ে মো. রিয়াদ আলী খন্দকারের। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, নতুন পোশাক কেনার আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নেওয়া—সবই ছিল জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এ বছর তাঁর জীবনে ঈদ এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে।গত বছর ৫ আগস্ট, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন রিয়াদ। তাঁর পায়ের হাড় ভেঙে যায়, তিনটি স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ সাত মাস ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। লাঠির সাহায্যে ধীরে ধীরে হাঁটতে পারলেও আগের মতো জীবন ফিরে পাওয়া তাঁর জন্য এখন শুধুই এক স্বপ্ন।রিয়াদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, সমাজ আমাকে মনে রাখবে, আমার পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু কেউ একবারও আমার খোঁজ নিতে আসেনি। ঈদ এলেও মনে কোনো আনন্দ নেই। বাইরে সবাই যখন খুশিতে মেতে উঠবে, আমি তখন বিছানায় পড়ে থাকব।”তাঁর কথায় ফুটে ওঠে এক গভীর হতাশা ও একাকিত্বের বেদনা। যে জীবন একসময় ছিল প্রাণবন্ত, তা এখন বন্দী হয়ে গেছে চার দেয়ালের মাঝে। পরিবারের সদস্যরা যতটা সম্ভব তাঁর পাশে থাকার চেষ্টা করলেও, সমাজের কাছ থেকে তিনি পাননি তেমন কোনো সহানুভূতি।তিনি বলেন, “গত বছর এই সময়ে আমি ঈদের বাজার করেছিলাম, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরেছি। অথচ এ বছর ঈদের কোনো প্রস্তুতিই নেই। জীবন যেন হঠাৎ থমকে গেছে।” এই ঘটনার পর, রিয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুতেই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।তবে রিয়াদের আশা, কেউ হয়তো তাঁর এই কষ্টের গল্প শুনে এগিয়ে আসবে, তার পাশে দাঁড়াবে। তিনি চান, তাঁর মতো অন্য যাঁরা আন্দোলনে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা যেন সমাজের ভালোবাসা ও সহানুভূতি পায়।একজন তরুণ ছাত্রের এই অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন আমাদের সামনে বড় এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—আমরা কি আমাদের সমাজের আহতদের পাশে দাঁড়াতে পারি না? রিয়াদের মতো আরও অনেক তরুণের পাশে দাঁড়ানো কি আমাদের দায়িত্ব নয়?সমাজের সচেতন নাগরিকদের কাছে এটি শুধুই আরেকটি ঘটনা নয়, বরং এক মানবিক আবেদন। রিয়াদের মতো আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা কি তাঁদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলো ফিরিয়ে আনতে পারি না? 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
রাজনীতির কাছে নির্বাচন কমিশনকে সপে দেওয়ার কারণে এত বদনাম: সিইসি
রাজনীতির কাছে নির্বাচন কমিশনকে সপে দেওয়ার কারণে এত বদনাম: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, “ইলেকশন কমিশনের এত বদনাম, এত গালি দেয়, এটা কেন হলো? ১০০টা Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন