জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ও মোকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারী মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।নামাজ ও খুতবা শেষে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মাইক হাতে নিয়ে ঘোষণা দেন, প্রধান উপদেষ্টা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন।সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “ঈদ দূরত্ব ঘোচাবার দিন, নৈকট্যের দিন, ভালোবাসার দিন। আজকে সেই দিনটা আমরা যেন গভীর ভালোবাসার সঙ্গে উদযাপন করতে পারি, সেই মেসেজ যেন সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারি।”তিনি বলেন, “আজকে একটা ঐক্য গড়ে তোলার দিন। আমরা স্থায়ীভাবে এই ঐক্য গড়ে তুলতে চাই, ঈদের জামাতে এটাই আমাদের কামনা।”নামাজ শেষে উপস্থিত অনেকের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন। নামাজ পড়তে আসা অনেকের সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি।এবার জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।সর্বশেষ সরকারপ্রধান হিসেবে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তখনও দেশের ক্ষমতায় একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আর ফখরুদ্দীন সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর কোরবানির ঈদের সেই জামাতে তখনকার রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদও অংশ নিয়েছিলেন। তবে এবার ঈদগাহে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের সাক্ষাৎ হয়নি; রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ঈদের নামাজ পড়েছেন বঙ্গভবনের মসজিদে।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা। জাতীয় ঈদগাহে নারীদের নামাজের সুযোগ থাকলেও তিনি কখনো যাননি। মাঝে দুয়েকবার বিরতি ছাড়া ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিরাই জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নিয়েছেন।গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থ্যানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এবার তার ঈদ সেখানেই কাটবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর