আইস্ক্রিম কোম্পানির ভ্যান নিয়ে, দুই পায়ে প্যাডেল মেরে পৌরশহরের বিভিন্ন বাজার, মাঠ ও রাস্তায় ঘুরে বিক্রি করে বেড়ান আইস্ক্রিম। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বিকেলে কথা হয় আইসক্রিম বিক্রেতা পর্শাদি’র সঙ্গে। তিনি জানান, রমজান মাসে সারাদিনের তীব্র রোদে পুড়ে ৫০ টি আইস্ক্রিম বিক্রি করেছেন। এতে করে তার আয় হয়েছে ১ শত ৫০ টাকা। তা দিয়েই তাকে সংসার চালাতে হবে। পর্শাদির অভাব অনাটনের সংসারে এই অল্প আয়ে পরিবারের খরচ চালাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনভাবেই এই অল্প  আয়ে সংসার চালানো সম্ভব না, এই চিন্তায় থুতনিতে হাত রেখে চেয়ে আছেন মাঠের দিকে। এরকম চিন্তিত  অবস্থায় তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিরামপুর পৌর-শহরের ঐতিহ্যবাহী আনসার মাঠ এলাকায় ।আইসক্রিম বিক্রেতা পর্শাদি কে জিজ্ঞেস করা হয়, আইসক্রিমের ভ্যান নিয়ে কখন বেড় হয়েছেন? তিনি জানান , সকাল ১১ টায় তিনি এ ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ৫০ টি আইস্ক্রিম। মোট ৩ শত ৫০ টাকার আইস্ক্রিম এর মধ্যে ৫ টাকা মূল্যের ৩০ টি ও ১০ টাকা মূল্যের ২০ টি আইস্ক্রিম বিক্রি করেন তিনি।এই ৩৫০ টাকার আইস্ক্রিম বিক্রি করে তার আয় হয়েছে ১৫০ টাকা। এই পেশায় তার কোন মূলধনের প্রয়োজন হয়না। আইস্ক্রিম কারখানা থেকে সবকিছু দেওয়া হয়। শুধু সকালে এসে আইস্ক্রিম নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। আজকে ২৪০ পিস আইস্ক্রিম নিয়ে বেড়িয়ে ছিলেন। শীত, গরম, রোদ, বৃষ্টি যাই হোক না কেন আইসক্রিম বিক্রি করতে যেতেই হবে তাকে। তানা হলে সংসার চলবে কি করে? তাঁর এইসব আইসক্রিম দুধ, চিনি, এলাচি, বাদাম, কিসমিচ আর গরম মসলার মিশ্রণে  তৈরি হয়। স্বাদের সঙ্গে সুঘ্রাণেরও যে নিবিড় একটা সম্পর্ক আছে, সেটা তুলোর মতো নরম। আইসক্রিমে  কামড় দিয়ে স্বাধ নিতে পারেন  যে কেউ । তাই শীত, গরম মৌসুমে আইসক্রিম বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু শীত কালে বেচাকেনা একটু কম হয়।আইসক্রিম বিক্রেতা পর্শাদি রায় দিসাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের  কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।তিনি আরও জানান, অনেক কষ্ট করে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্ত্রীকে নিয়ে কোনোরকমে  একটি ঘরে তাঁরা বাস করেন। তিনি এর আগে খাদ্য গোডাউন ও নতুন বাজারের কাঁচাবাজারে বস্তার কাজ (লেবারীর) করতেন । বয়সের ভারে এখন আর ভারি কাজ করতে পারেন না । গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে প্যাডেল চালিত শিমু সুপার আইস্ক্রিম বিক্রি করে সংসারের বোঝা বয়ে যাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বয়স্ক ভাতা পান কিন্তু তাতে কি আর দিন চলে। অন্যান্য সময় বেচাকেনা করে ৬০০-৭০০ টাকা আয় হয় তার। কিন্তু বর্তমানে স্কুল কলেজ সব বন্ধ তাতেও আবার রমজান মাস। এই সময়টা দিন পার করা তার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সমাজে পর্শাদি রায়ের মতো অনেক পরিবার রয়েছে। তাঁহারা দিন আনে দিন খায়। এসমস্ত পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ

এপিএসসিএল-এর ছয়টি কেন্দ্র থেকে মোট ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

রাশিয়াকে নিয়ে জয়শঙ্করের মন্তব্য কী ভারতের ভীতির প্রতিফলন?
রাশিয়াকে নিয়ে জয়শঙ্করের  মন্তব্য কী ভারতের ভীতির প্রতিফলন?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত জুলাই মাসে রাশিয়া সফরে গিয়েছিলেন। তার তিন মাস পর আরও একবার রাশিয়ায় তিনি। এবার ব্রিকস Read more

ভারতে উপনির্বাচনেও হারলো বিজেপি
ভারতে উপনির্বাচনেও হারলো বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের চারটি বিধানসভাসহ ভারতের সাতটি রাজ্যের ১৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। ১৩ আসনের মধ্যে Read more

গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করেছিলেন অড্রে হেপবার্ন
গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করেছিলেন অড্রে হেপবার্ন

পাঁচ বার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন ১৯৫৩ সালে ‘রোমান হলিডে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। ১৯৫০ এবং Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন