যশোরের ঈদ বাজারে এবার ভারতীয় পোশাকের একক আধিপত্য নেই। দাপট রয়েছে পাকিস্তানি থ্রি পিসের। ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে এই থ্রি পিস। বিক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছর ভারতীয় থ্রি পিস প্রচুর বিক্রি হতো। ক্রেতারা দোকানে এসেই ইন্ডিয়ান কাপড় চাইতেন। মনে হতো যেন এর বাইরের কোনো পোশাকে তাদের চলেই না। কিন্তু এবার ভারতীয় পোশাকের চাহিদা নেই বললেই চলে। সরেজমিনে যশোর শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার পাকিস্তানি থ্রি পিসের দখলে বাজার। মেয়েদের পছন্দ ও বিক্রির শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি তাওয়াক্কল থ্রি-পিস। পাশাপাশি দেশি সুতি কাপড়গুলোও বিক্রি বেশ ভালো। বিক্রির দিক দিয়ে পাকিস্তানি তাওয়াক্কল, নুর, বিন সাইদ ভালোই বাজার ধরেছে। পাশাপাশি গাউন ও গরমকালে সুতি কাপড়ে আরাম বেশি বলে দেশীয় সুতি থ্রিপিস পছন্দ করছে ক্রেতারা।যশোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি-এইচএম এম রোড, কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট ও মুজিব সড়ক ভিআইপি দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ছাড়া বাকি সব দোকানেই নারীদের পাকিস্তানি থ্রি পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে, পাকিস্তানের গুলজি, জারা, গুলবানু, রাঙরসিয়া, আওয়ারলি, মেহজেবীন, ইবাদত, নওয়াব, রাখি, জেহানী, মীট, আগানূর, তায়াওক্কাল, রুহাইসাকুন, মাহাজাল, বিনসাইদ, বিনহামিদ ও আলিয়াসহ আরও কিছু পাকিস্তানী ব্র্যান্ডের কটন, সিল্ক, জর্জেট কাপড়ের থ্রিপি। থ্রিপিস কিনতে আসা শিক্ষার্থী মেহেজাবীন বলেন, দেশীয় ফ্যাশন হাউজের পোষাকে আরামবোধের বিষয়টি রয়েছে। এবারের ঈদে বেশি বিক্রি হচ্ছে পাকিস্তানি থি পিস। আমিও একটি কিনেছি। শহরের শিউলী থ্রি পিসের দোকানের বিক্রয় কর্মী বাবু বলেন, বেশ কয়েক বছর ভারতীয় থ্রি পিসের দখলে ছিলো বাজার। এবার দেশীয় ফ্যাশন হাউজের পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রি পিস রাজত্ব করছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাকিস্তানি থ্রি-পিস ডিজাইন ভেদে ১ থেকে ৫ হাজার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া, সুতি থ্রি পিস ৬শ’ থেকে ২ হাজার, এমব্রডায়ারি ১৫শ’ থেকে ১৫শ’, টিস্যু কাজের থ্রি পিস ২ থেকে ৩ হাজার, মসলিনের ওপর কাজ করা থ্রি পিস ৩৫শ’ থেকে ৪ হাজার, নেটের ওপর কাজের থ্রি পিস ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার, সুতিব অরগেঞ্জা থ্রি পিস ২৫শ’ থেকে ৭ হাজার, সুতি বাটিক ১ থেকে ২হাজার, চুন্দ্রি সিল্ক বাটিক ১৫শ’, সাদাবাহার, পাকিস্তানি কাজের থ্রিপিচ ১৫ শ” থেকে ৫ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় পোশাকের দামের তুলনায় কম দামে পাকিস্তানি থ্রি পিস পেয়ে ক্রেতারা দারুণ খুশি। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর