রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা যেখানে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন, সেখানে ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। গ্রুপটি তাদের সব ধরনের খাদ্যপণ্য কম দামে বিক্রি করছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।নাবিল গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত চাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রেতারা হ্রাসকৃত মূল্যে কিনতে পারবেন। এমন উদ্যোগ দেশে খুবই বিরল, অথচ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে রমজানে খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি বহুল প্রচলিত।নাবিল গ্রুপের কনজুমার বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার আবিদ হোসেন খান জানান, তাদের প্রতিটি প্যাকেটজাত পণ্যের গায়ে হ্রাসকৃত মূল্য লিখে দেওয়া হয়েছে। ফলে ডিলাররা চাইলেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না। এতে প্রকৃত ভোক্তারাই সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রমজানে সবাই দাম বাড়ায়, কিন্তু নাবিল গ্রুপ কমিয়ে দিয়েছে। এক লিটার ফুডেলা সরিষার তেল কম দামে কিনেছি। এটা সত্যিই ভালো উদ্যোগ।”পবা উপজেলার এলাকার গৃহিণী তারিনা জানান, “কম দামে তেল কিনতে পেরে আমি খুশি। নাবিল গ্রুপের এই উদ্যোগ ধন্যবাদ পাওয়ার মতো।”স্কুল শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, “রমজানে ব্যবসায়ীরা সাধারণত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। নাবিল গ্রুপ তার উল্টোটা করেছে। এটি অন্য ব্যবসায়ীদের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।”নাবিল গ্রুপের বিক্রেতা রফিকুল আলম জানান, হ্রাসকৃত দামে পণ্য বিক্রির কারণে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে ভিড় লেগেই আছে। মানুষ স্বস্তিতে বাজার করতে পারছে।”নাবিল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, “রমজান হলো আত্মশুদ্ধির মাস, কিন্তু অনেকে এটাকে অতিরিক্ত মুনাফার সময় হিসেবে দেখে। আমরা তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”তিনি আরও জানান, শুধু পণ্যের দাম কমানোই নয়, দেশের ৫০ হাজার অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।২০০৬ সালে মাত্র ৫ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা নাবিল গ্রুপ বর্তমানে দেশের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। গম, মসুর ডাল, মটর ডাল, সয়াবিনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যে বাজারে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি শীর্ষ নিত্যপণ্য আমদানিকারকের মধ্যে নাবিল গ্রুপ চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তাদের বাজার হিস্যা— মসুর ডালে: ৪৯%, ছোলায়: ৫৭%, মটর ডালে: ৩৯%, গমে: ২৪%, সয়াবিনে: ১৬%, ভুট্টায়: ১১%।নাবিল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. জাহান বকস্ মন্ডল বলেন, “রমজানে ধনী-গরিব সবার খরচ বেড়ে যায়। আমরা গরিব ও মধ্যবিত্তদের কথা ভেবে পণ্যের দাম কমিয়েছি। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”রমজানে যখন অধিকাংশ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চিন্তা করেন, তখন নাবিল গ্রুপ জনকল্যাণমূলক ব্যবসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি নিঃসন্দেহে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে।এমআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর