ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল গ্রাম এলাকায় গত ১ সপ্তাহে ধরে রাতভর ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করার ফলে মাহিন্দ্র ও ভেকুর শব্দে রাতভর ঘুমাতে পারেনি ওই এলাকার বাসিন্দারা। এছাড়াও বহিরাগত লোক দিয়ে এলাকাজুড়ে টহল ব্যবস্থা করেই রাতভর মাটি কাটা চলমান রেখেছে বলেও জানা গেছে। এবিষয়ে অেিভ্যাগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা উপজেলা প্রশাসন এমন অভিযোগও রয়েছে এলাকাবাসীর।জানা গেছে, উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান নবীউল্লাহ তার জমির মাটি বিক্রি করেছেন একই ইউনিয়ন ভাতকুরা এলাকার ছাত্রদল নেতা জিসানের কাছে। গেল ১সপ্তাহ ধরে রাতের আধারে সেই ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটাসহ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতা শওকত হোসেন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আওলাদ হোসেন এবং ছাত্রদল নেতা জিসান মিলে যৌথভাবে এই মাটি কাটার ব্যবসা করছেন বলে। এলাকাবাসী অভিযোগ, মাটি কাটার কারণে রাস্তায় ধুলা হয়েছে। এখন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অনেক কষ্টের। তারা বাহিরে থেকে লোক ভাড়া করে নিয়ে আসে। এজন্য আমরা ভয়ে আছি।আমরাইল এলাকার সোলায়মান জানায়, রাতে এশার আজান দিলেই মাটি কাটা শুরু হয়। ফজর আজান দিলে মাটি কাটা শেষ করে রাস্তার মধ্যে সারাদিন ভেকু এনে রাখে। প্রতিবাদ করলে মারার হুমকি দেয়। তারা বাইরের লোক এনে এলাকায় টহল দেয় যাতে কেউ বাধা দিতে সাহস না পায়। মাটি কাটার কারণে আশেপাশের জমিগুলোও নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও এই এলাকার একমাত্র রাস্তাটিরও বেহাল দশা হবে।এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান নবীউল্লাহ বলেন, আমার জমির মাটি ভাতকুড়া এলাকার ছাত্রদল নেতা জিসানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তিনি কিভাবে মাটি কাটছে এটাতো আমি বলতে পারবো না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তিন ফসলী জমির মাটি কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না। যদি কেউ বৈধ অনুমতি নিয়ে পুকুর কাটে তারপরও ওই পুকুরের বা জমির মাটি বিক্রি করতে পারবেনা। খাদ্যের ঘাটতি থেকে রক্ষা পেতে হলে অবশ্যই কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বলেন, মাটি কাটার বিষয়ে এলাকাবাসী অসংখ্যবার আমাকে ফোন করে। যার ফলে লোক পাঠিয়েছি। তাদের সাথে ফোনে কথা বলেছি। তারা আমাকে কথা দিয়েছে মাটি কাটবেনা। দিনে কথা দেয় আবার রাতে মাটি কাটে, আমি এখন কি করবো। এছাড়া রাতে ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেনা। ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। তারপরও তারা রাতের আধারে মাটি কাটে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যান।এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুন আহমেদ অনিকের কাছে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। এছাড়াও তার কার্যালয়ে মাটি কাটা বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।আরইউ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর