চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কটিতে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝরছে প্রাণ। এটি মহাসড়ক হলেও প্রয়োজনের চেয়ে অনেক সরু।হাইওয়ে পুলিশের মতে, একাধিক কারণে মহাসড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে-এটি চার লেনে উন্নীত না করা, আঁকাবাঁকা পথ, দিকনিদের্শনাহীন বাঁক, অদক্ষ চালক দিয়ে ও বেপরোয়া গতিতে যান চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো, চলন্ত অবস্থায় বাসে যাত্রী উঠানো-নামানো, যানবাহন ক্রস করার সময় গতি না কমানো, সংকেত না দিয়ে ওভারটেকের চেষ্টা ও গাড়ি চালনা শুরুর আগে চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা। এসব কারণে ঘটছে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা।এ ছাড়াও মহাসড়কের কর্ণফুলী সেতুর দক্ষিণাংশ থেকে লোহাগাড়ার চুনতি পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার সড়কে ৪৫টি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ ছাড়া ১০টির বেশি স্থানে সড়কের ওপর হাটবাজার। এ সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ হলেও পুলিশের নাকের ডগায় চলাচল করছে এগুলো। এসব হালকা যানের চালকরা অনেক সময় ভারি যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দেয়। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেক করে, কখনও বড় যানবাহনকে সাইড না দিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন কয়েকশ। পুলিশের কাছে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে চন্দনাইশের দোহাজারীতে। দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের চাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী ও অটোরিকশাচালক মারা যান।নিহতরা হলেন, চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী গ্রামের জসিম উদ্দিনের দুই সন্তান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওকার উদ্দিন (১২) ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা (১৫) ও জামিজুরী গ্রামের অটোরিকশাচালক রুহুল আমিন (৪৫)। এ সময় তুশিন (১৫) নামের আরেক শিক্ষার্থী আহত হয়। সে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বৈধ যানবাহনের চেয়ে অবৈধ যানবাহন বেশি। অবৈধ যানবাহনের মালিকরা পুলিশকে টাকা দিয়ে সড়কে যানবাহন নামায়। বেশির ভাগ যানবাহন পুলিশকে টাকা দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে চলে। পুলিশ মাসিকভিত্তিক টাকা নেয়ার কারণে ওইসব যানবাহনকে মামলা দেয় না।পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকে বলেন, কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও পুলিশ নানা হয়রানি করে। কিন্তু অনেকের গাড়ির ফিটনেস নেই, রুট পারমিট নেই। তারপরও এসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করে। কীভাবে চলে, তা সবাই জানে। পুলিশকে ম্যানেজ করে এসব গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করে। এ কারণে ঘটছে প্রাণহানিকর দুর্ঘটনা।দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে বেশির ভাগই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, আইন না মেনে চলাচল, ইটভাটার মাটি ও লবণের পানি সড়কে পড়ে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া দুর্ঘটনার কারণ।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর