By: Daily Janakantha

প্লাবনভূমি থেকে ফসলের মাঠ

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া

08 Jan 2022
08 Jan 2022

Daily Janakantha

দূর অতীতের সেই চলনবিল আজ আর নেই। নিকট অতীতে বাঙালীর ঐতিহ্যের এই বিল যেটুকু অস্তিত্ব ধরে রেখেছিল তাও আর থাকছে না। একদার প্লাবনভূমি চলনবিল আজ ফসলের মাঠ ও শুঁটকি মাছের আধার। নদী বিল (জলাশয়) কেন্দ্রিক অর্থনীতির বলয় ক্রমেই পরিণত হচ্ছে শুকনো ভূমির অর্থনীতির বলয়ে। ধান পাট গম ভুট্টা আখ সবজি সবই ফলছে। পানি বিশেষজ্ঞ এবং প্রবীণদের মতে, প্রকৃতির পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক অপরকিল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন দেশের বৃহত্তম চলনবিল মরাবিলে পরিণত হওয়ার অন্যতম কারণ। এর মধ্যেও আশার কথা শোনালেন বিলপারের রাজনৈতিক সচেতন প্রবীণ আশরাফ আলী- জানালেন সরকার ব-দ্বীপ প্রকল্প (ডেল্টা প্রজেক্ট) বাস্তবায়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার মধ্যে চলনবিলকে অন্তর্ভুক্ত করে নদী কেন্দ্রিক জীবনধারা গড়ে তোলা যায়।
চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ছিল খর¯্রােতা অনেক নদী ও খাল। এর মধ্যে করতোয়া, ফুলজোড়, আত্রাই, চিকনাই, বড়াল, গুড়নাই, হিজলি, তুলসি, ইছামতি, নন্দকুজা, গুমানি, চৈচুয়া, ভাদাই, বানগঙ্গা, কুমারডাঙ্গাসহ আরও কয়েকটি নদী উল্লেখ করা যায়। যেগুলো এখন মরাগাঙ। এর মধ্যেই বিলপাড়ের মানুষের জীবনধারার পরিবর্তন এসেছে। একদা যারা ছিল মৎস্যজীবী (জেলে) সেই পরিবারের পুরুষ সদস্যের বেশিরভাগই মাইগ্রেটেড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিকল্প পেশা খুঁজে নিয়েছে। জেলে পরিবারের কিছু অংশ চলনবিলের যে অস্তিত্ব এখনও আছে তার মাছ ধরে শুঁটকি বানিয়ে নতুন পেশার সৃষ্টি করেছে। বিলের শুকনো ভূমির বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছে শুঁটকির চাতাল। বিলপাড়ের শুঁটকি এখন বিদেশেও যাচ্ছে।
শুঁটকি চাতালের বেশিরভাগ শ্রমিক নারী। কর্মজীবী হয়ে এই নারীই চলনবিলের শুকনো ভূমিতে সকল ধরনের চাষাবাদ করছে। জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকায় ধান পাট গম সবজিসহ সকল ফসল অল্প সময়েই ফলে। পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত চলনবিলের কৃষিকাজসহ যাবতীয় কাজ করছে নারী। সেখানে পুরুষ কৃষক ও শ্রমিকের আধিক্য কম। এ ছাড়াও বিলের কিছু অংশে ঝিনুক বেচাকেনাও হচ্ছে। ঝিনুকের পাইকাররা আসে খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের স্থান থেকে। নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতির বলয়ে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। শুকনো বিলভূমি গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। কৃষিভিত্তিক এই উন্নয়নে এলাকার পথঘাট পাকা হয়েছে। যন্ত্রযান চলাচল বেড়েছে। বিদ্যুত পৌঁছেছে। কৃষিভিত্তিক পণ্য বেচাকেনার বড় হাট বসেছে। বিলের মানুষের জীবনমানে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে।
ইতিহাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের নামের সূত্রপাত চলন্তবিল থেকে। এই বিলের বিশাল জলাশয় ছিল মৎস্য ভান্ডার। শুকনো অংশ ছিল শস্যভা-ার। শীত মৌসুম পরিণত হতো পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্যে। ১৯০৯ সালের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের এক জরিপে চলনবিলের আয়তন ১ হাজার ৮৮ বর্গ কিলোমিটার। ১শ’ ১২ বছরের বেশি সময় পর চলনবিলের আয়তন ঠেকেছে মাত্র ৩৬৮ বর্গ কিলোমিটারে।
পানি বিশেষজ্ঞগণ বলেন, ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ শাসনমলে চলনবিলের মধ্য দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ থেকে পদ্মার ওপর হার্ডিঞ্জ রেল ব্রিজ হয়ে ওপারে রেলপথ নির্মাণ করে ভারতের কলকাতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হয়। তখন থেকেই বিলের অপেক্ষাকৃত উঁচু উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে ভাটা পড়া শুরু হয়। ক্রমেই আয়তন সঙ্কীর্ণ হতে থাকে। একটা সময় বড় স্টিমার, বড় মহাজনী নৌকা চলতো বিলের ওপর দিয়ে। বিল সংযোগের অধিকাংশ নদী শুকিয়ে নৌচলাচল সীমিত। নৌচলাচল কমে যাওয়ায় খেয়াঘাটগুলোও রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। জীববৈচিত্র্য ধংস হয়ে যাচ্ছে।
কমে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ। চলনবিলকে ঘিরে পদ্মা ও যমুনার সংযোগকারী বড়াল নদীর মুখে ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত স্লুইস গেট, ক্রস বাঁধ, বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, বরালের পানি ব্যবহার, খাদ্য উৎপাদন, পানি প্রবাহ বাড়ানো, নৌপথ সম্প্রসারণ। বছর তিনেক কিছুটা সুফল মিললেও এরপর বিপর্যয় ঘটতে থাকে। একসময় পদ্মা ও বড়ালে প্রবাহ কমে যায়। বড়াল শুকনো মাঠে পরিণত হয়। প্রভাব পড়ে নারদসহ কয়েকটি ছোট নদীর ওপরে।
নদী ভূমির অধিকাংশ এখন ভূমিগ্রাসী চক্রের দখলে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে বনপাড়া পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের পর পানি প্রবাহ আরও কমেছে। প্রবাহের প্রতিবন্ধকতার কারণে পলি জমে দ্রুত ভরাট হচ্ছে বিলের জলাভূমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক জরিপে বলা হয়েছে, বিলে পানি সরবরাহকারী নদী দ্বারা বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয়। এর মধ্যে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বিভিন্ন নদী ও খাল দিয়ে বের হয়ে যায়। বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট পলি জমা হয়। চলনবিলকে রক্ষায় বছর দুয়েক আগে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্ক ফোর্স কিছুটা উদ্যোগ নিলে চাটমোহর এলাকায় পাউবোর কয়েকটি স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর আর এগোয়নি।
সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
সাড়ে ৬শ’ বছর আগের প্রত্নবস্তু উদ্ধার, রাখা হবে জাদুঘরে

সাড়ে ৬শ’ বছর আগের প্রত্নবস্তু উদ্ধার, রাখা হবে জাদুঘরে শেষের পাতা 28 Jan 2022 28 Jan 2022 Daily Janakantha বাবুল Read more

সড়কে প্রাণ গেল সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ ২ জনের

ফরিদপুরে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ভাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ (৪৫) দুইজন নিহত হয়েছেন। 

ফতুল্লায় ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস কর্মী নিহত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর পাকাপুল এলাকায় আমান উল্লাহ আমান নামের এক  গার্মেন্টস কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

বিএনপি সারা দুনিয়ায় দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে ॥ তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি সারা দুনিয়ায় দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে ॥ তথ্যমন্ত্রী শেষের পাতা 28 Jan 2022 28 Jan 2022 Daily Janakantha স্টাফ Read more

৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরাতে আলোচনা চলছে: দূতাবাস

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরত আনতে ইতালি সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। 

কোনোদিকে না তাকিয়ে তুই ১০০ মার, সেঞ্চুরির আগে তামিমকে মাশরাফি

চারশ’রও বেশি দিন পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মাধ্যমে ক্রিকেটে ফিরে তাই যেন প্রমাণ দিলেন মিনিস্টার ঢাকার মাশরাফি।

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন