By: Daily Janakantha

পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার নেপথ্যে

চতুরঙ্গ

23 Jun 2022
23 Jun 2022

Daily Janakantha

গর্বের পদ্মা সেতু জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বাক্ষর বহন করে। অযথা কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে বিশ^ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতাগোষ্ঠী ঋণচুক্তি বাতিল করে দিলে একক নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো নির্মাণ করে রীতিমতো অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এর মধ্য দিয়েই তিনি উন্নত বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যরে বার্তা দিয়ে বোঝালেনÑ এটা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয়, সততা, একাগ্রতা এবং জনগণের ওপর অগাধ আস্থা স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে তাঁকে প্রতিটি স্তরে সাহস জুগিয়েছে। তিনি জানেন, কিভাবে শুদ্ধাচারের পথ অনুসরণ করে বড় বড় প্রজেক্টের কাজ ত্বরান্বিত করা যায়। তাই তো বিশ্বদরবারে পদ্মা সেতু আজ বাংলাদেশের বিশেষ মর্যাদার প্রতীক।
উল্লেখ্য, ২৮-০৪-২০১১ থেকে ০৬-০৬-২০১১ তারিখের মধ্যে বিশ^ব্যাংক, জাইকা, আইডিবি ও এডিবির সঙ্গে পদ্মা সেতু ইস্যুতে ঋণচুক্তিসমূহ সম্পাদিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২৯-০৬-২০১২ তারিখে কাল্পনিক, অমূলক ও ভিত্তিহীন দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ এনে এই ঋণচুক্তিসমূহ বাতিল করা হয়। ঠিক এর ১০ দিনের মাথায় ৯ জুলাই ২০১২ তারিখে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। দুর্নীতির অভিযোগ এনে যখন অশুভ শক্তি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের মর্যাদা মাটির সঙ্গে মেশাতে উদ্যত হয়েছিল, ঠিক তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের তর্জনী অরেকবার কন্যা শেখ হাসিনার তর্জনীতে ভর করে রুখে দিয়েছিল সেই উদ্ধত ষড়যন্ত্রের কালো হাত। সেই তর্জনীর দেখানো পথেই শেখ হাসিনা তাঁর সততা, আত্মবিশ^াস, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমে দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে গড়লেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ৫টি প্যাকেজ ছিল। যথাÑ মূল সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ, এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ, নদীশাসন এবং পরামর্শক নিয়োগ। মূল সেতুর প্রাকযোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ১১টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে বিশ^ব্যাংকের নির্ধারিত মানদ- অনুসরণ করে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ও ৬টি প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য বিবেচনা করে বিশ^ব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়। ডিজাইনের আংশিক পরিবর্তন হওয়ায় বিশ^ব্যাংক পুনরায় দরপত্র আহ্বানের পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী কার্যক্রম শেষে দেখা যায়, পূর্বের ৫টি প্রতিষ্ঠানই পুনরায় দরপত্রের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়।
এই প্রক্রিয়া চলাকালীন অযোগ্য বিবেচিত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির প্রাকযোগ্যতা দরপত্র বিশ^ব্যাংক কর্তৃক পুনর্বিবেচনার পরামর্শ থাকায় মূল্যায়ন কমিটি অনুরোধটি আমলে নিয়ে পরপর দুবার প্রতিষ্ঠানটিকে সুযোগ দেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা নির্ধারণে প্রকৌশলীদের যে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার বিবরণ দিয়েছিল; তা যাচাইকালে ভুল ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অনুমিত হয়। সেতু নির্মাণে অভিজ্ঞতার কথা বলে তারা যে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও যন্ত্রপাতির বর্ণনা দিয়েছিল, তার প্রমাণ আদতে তাদের কাছে ছিলই না। সেতু নির্মাণে মূল্যবান উপাদান হ্যামারের যে বর্ণনা তারা দিয়েছিল, তা অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সানফ্রান্সিসকোতে ব্যবহার করা হয়েছে মর্মে যাচাইকালে ধরা পড়ে। এই অসামঞ্জস্যতা সম্পর্কে তারা সদুত্তরও দিতে পারেনি; বিধায় তাদের প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়া হয়নি। অবশেষে তারা প্রাকযোগ্যতার আবেদন প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের স্থানীয় এজেন্ট ভেঞ্চার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটিডের এজেন্সিশিপ বাতিল করে দেয়। এতে রাগান্বিত হয়ে ওই কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট জনৈক ক্যাপ্টেন রেজা সেতু কর্তৃপক্ষকে ‘ভবিষ্যতে খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে’Ñ এই হুমকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী চায়না রেলওয়ে ফিফটিন গ্রুপ কর্পোরেশনের বরাত দিয়ে এর স্থানীয় এজেন্ট হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, তাদের মূল প্রতিষ্ঠানে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে সাকো ইন্টারন্যাশনাল নামে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ‘সাইলেন্ট এজেন্ট’ নিয়োগ দেয়ার শর্তে সবধরনের সহায়তা দেয়ার আশ^াস দিয়েছে। কথিত চিঠির যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য চায়না রেলওয়ে ফিফটিন ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এ ধরনের কোন পত্র তারা পাননি এবং হেলাল উদ্দিনের কাছে এ সংক্রান্ত কোন পত্রও প্রেরণ করেননি। হেলাল উদ্দিন জানান, তার কাছে মূল কপি নেই; পত্রটি তিনি মেইলযোগে পেয়েছেন। তবুও তিনি কথিত প্রাপ্ত কপি জমা দেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।
উল্লেখ্য, প্রিন্সিপাল অর্থাৎ চায়না রেলওয়ে ফিফটিন ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশন পত্রের বিষয়টি সম্পূর্র্ণ অস্বীকার করে এবং বিস্মিত হয়। পত্রের কপি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সৃজিত প্যাডে স্বাক্ষর সুপার ইম্পোজ করে পত্রটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে কোন দালিলিক বা মৌখিক সাক্ষ্য না থাকায় বিশ^ব্যাংকের আনীত প্রথম অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এই অধ্যায় শেষ হতে না হতেই বিশ্বব্যাংক থেকে অভিযোগ করা হয়- পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে এটি একটি অভিনব অভিযোগ। কেননা, দুর্নীতির জন্য কখনও ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতে হয় না।
উল্লেখ্য, বিশ^ব্যাংকের সন্তুষ্টির স্বার্থে দুদক যখন এটা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়; ঠিক তখনই বিশ^ব্যাংক জানায়, তাদের একটি তদন্ত দল দুদক তদন্ত দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ করতে চায়। কিন্তু বিদেশের কোন তদন্ত সংস্থার সঙ্গে দুদকের কাজ করার সুযোগ আইনত না থাকায় আমরা অপারগতা প্রকাশ করি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক দুদককে লজিস্টিক, প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে সহায়তার কথা জানায়। দুদক এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। এর প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর লুইস মোরেনো ওকাম্পো, যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান ও হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টংকে নিয়ে বিশ^ব্যাংক একটি এক্সপার্ট প্যানেল তৈরি করে।
এরই মধ্যে মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের ক্রমানুসারে এসএনসি-লাভালিন, কানাডা প্রথম; হেলকো গ্রুপ, ইউকে দ্বিতীয়; হাইপয়েন্ট রেন্ডার, ইউকে তৃতীয়; একোমনিউজিল্যান্ড চতুর্থ এবং ওরিয়েন্ডেট কনসালটেন্ট ৫ম স্থানে নির্ধারিত হয়। ১০০ নম্বরের মধ্যে ০.০২৫ নম্বর বেশি পেয়ে কানাডার কোম্পানি এসএনসি লাভালিন প্রথম থাকায় মূল্যায়ন কমিটি তাদের কার্যাদেশের সুপারিশ করে। কিন্তু দুদক টিম জানতে পারে, বিশ^ব্যাংক এই কোম্পানিকে কাজের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। এখানে বলে রাখা দরকার- মূল্যায়ন কমিটিতে বিশ^ব্যাংকের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ড. দাউদ নামীয় ওই ব্যক্তি ছিলেন প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানান, পরামর্শক হিসেবে এসএনসি-লাভালিনকে নির্বাচন বিশ^ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকেই করা হয়েছে।
এরই মধ্যে তথ্য পাওয়া যায়, এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে কানাডার অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিসে বিশ^ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ঘুষ প্রদানের ইচ্ছে পোষণ ও কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য পৃথক অর্থ বরাদ্দ রাখার অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তা যথাক্রমে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত ইসমাইল ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত রমেশের ঘুষ গ্রহণের ইচ্ছে পোষণমূলক অনৈতিক কাজের সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। তথ্যে আরও বলা হয়, রমেশ সাহার কাছে একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে, যেখানে বাংলাদেশের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও পদ্মা সেতু প্রজেক্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজনসহ কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের প্রভাবিত করতে অর্থ খরচের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়। আমরা বিশ^ব্যাংককে রমেশ সাহা এবং তার ডায়েরি ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীগণের সাক্ষ্য প্রেরণের অনুরোধ করি। কিন্তু বিশ^ব্যাংক পত্রের উত্তর না দিয়ে একটি রেফারেল রিপোর্ট পাঠায়, যেখানে বর্ণিত বক্তব্যসমূহের সমর্থনে সাক্ষ্যের অভাব ছিল। আমরা মিউচুয়াল লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট তথা এমএলএআর পদ্ধতিতে কানাডা সরকারের মাধ্যমে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ ও কানাডিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের কাছে তথ্য চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য-বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা আমাদের কাছে তথ্য পাঠায়নি। এমন অবস্থায় লুইস ওকাম্পোর নেতৃত্বে বিশ^ব্যাংকের একটি এক্সপার্ট টিম বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন। আলোচনাকালে পরবর্তীতে তথ্য দেবে মর্মে গ্রেফতার, রিমান্ড ও কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে। তারা বলেন, সাকো কোম্পানির এ্যাকাউন্ট জব্দ করে এমএলএআর-এর মাধ্যমে তথ্য জানতে চাইলে ওই এ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে যথা লন্ডন, কানাডা, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যাবে। তাদের বিশ্বাস- এই অর্থ বিদেশে লেনদেন হয়েছে।
বিশ^ব্যাংকের আনীত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় আমরা সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া এসব বিষয়ে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে বিশ^ব্যাংকের এক্সপার্ট টিম ক্ষিপ্ত হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করতে উদ্যত হয়। পরে অনুরোধ করে তাদের নিবৃত করা হয়। আমাদের অনুরোধে তারা কথা দেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তারা রমেশ সাহার ডায়েরিসহ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে পুনরায় মিলিত হবেন।
আমরা স্বউদ্যোগে কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশের কাছ থেকে কোন প্রমাণ/নোটপ্যাড সংগ্রহ করতে না পারায় তৎকালীন মুখ্য আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য কানাডায় পাঠাই। প্রথমবার কোন তথ্য না পেলেও দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিস থেকে সংগৃহীত সাক্ষ্যের ট্রান্সক্রিপ্ট পর্যালোচনা করে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি; যাতে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি বা ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দুদকের অনুসন্ধান দলের প্রাপ্ত তথ্য গোপনে রাখা অবস্থায় বিশ^ব্যাংকের এক্সপার্ট টিম পুনরায় বাংলাদেশে আসে এবং দুদকের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয়। দুই দিনব্যাপী আলোচনার প্রথম দিনে নৈশভোজ চলাকালীন লুইস ওকাম্পো ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈরী সম্পর্ক কেন- তাও জিজ্ঞেস করেন ওকাম্পো। এ কথাও বলেন, এই বৈরিতা নিরসন হলে সকল জটিলতার অবসান হবে বলে তার বিশ^াস। আমি তাকে জানাই, নির্ধারিত বয়স উত্তীর্ণ হওয়ায় এবং আইনের বিধানমতো যোগ্য না হওয়ায় তাকে পদ ছাড়তে হয়েছে। ড. ইউনূস উচ্চ আদালতে প্রতিকার চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু তিনি বয়স পার হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল এমডি পদে বহাল ছিলেন। এ কথা বলার পর ওকাম্পো স্তম্ভিত হন এবং এ বিষয়ে আর কথা বাড়াননি। তার সঙ্গে কথোপকথনে বিশ^ব্যাংকর ঋণচুক্তি বাতিলে ও কথিত দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনে ড. ইউনূসের ভূমিকা রয়েছে বলে অনুমিত হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিশ^ব্যাংকের কাছে প্রেরিত কয়েকটি ইমেইল; যা পরবর্তীতে বিশ^ব্যাংক বিষয়বস্তু প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পাঠায়, সেই ই-মেইলের সেন্ডার নামটি ঘষামাজা করে দেয় বিশ^ব্যাংক। ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আছে এবং এখানে অর্থায়ন করা সঙ্গত হবে না’-ই-মেইল পর্যালোচনা করে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বব্যাংকের কাছে ই-মেইলসমূহ যে ড. ইউনূসই পাঠিয়েছে, ওকাম্পোর কথা ও উপরোক্ত ঘটনাসমূহ সেটাই সমর্থন করে।
যাই হোক, দ্বিতীয় দিনের আলোচনা শেষে বিশ^ব্যাংকের টিম ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার কথা জানিয়ে সভা ত্যাগ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাড়ে। তারপরও আমরা দীর্ঘ সময় তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। অবশেষে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পর্যালোচনাপূর্বক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোন উপাদান না পাওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাই। স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শেষে ৪-০৯-২০১৪ তারিখে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়; যা আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়। দুদকের তদন্তে বিশ্বব্যাংকের সকল অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার প্রতিবেদন দাখিলের প্রায় এক বছর পর দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে ফলাফলের সঙ্গে একমত হয়ে কানাডার অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিস একই বিষয়ে তাদের কাছে প্রেরিত অভিযোগের রায় প্রদান করে। রায়ে তারা সুস্পষ্টভাবে জানায় যে, বিশ^ব্যাংকের অভিযোগটি ছিল অসত্য এবং নেহাত গালগল্প ভিন্ন অন্যকিছু নয়। ওই আদালতও মামলাটি খারিজ করে দেয়।
পূর্বাপর ঘটনাপ্রবাহের বিচার-বিশ্লেষণে এবং বিশ^ব্যাংকের সাক্ষ্য-প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থতার কারণে এটা সহজেই অনুমিত হয় যে, তথাকথিত ঘুষ লেনদেনের অভিপ্রায় সংবলিত অদৃশ্য নোটপ্যাড, সাইলেন্ট এজেন্ট নিয়োগের পত্র প্রেরণসহ সবকিছুই ছিল সৃজিত, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর পেছনে ছিল অশুভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
আজ সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী, সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী তাঁর অঙ্গীকার ও ঘোষণা অনুযায়ী দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা ব্যতীত সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশে^ বাংলাদেশকে মর্যাদার উচ্চতর আসনে আসীন করেছেন।

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদস্য উপদেষ্টা পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং চেয়ারম্যান, প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি, সাবেক কমিশনার, দুদক

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ৬ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা

পাবনার চাটমোহরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ৬ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

মাঙ্কিপক্সের চিকিৎসায় গুটিবসন্তের টিকার ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনা

মাঙ্কিপক্সের চিকিৎসার জন্য গুটিবসন্তের টিকার ব্যবহার আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্য প্রথম সামনে এনেছিলেন সাংবাদিক জুবের

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি থেকে বরখাস্ত হওয়া নেত্রী নুপুর শর্মা যে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে Read more

প্রেমিকার সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখে শাসন, ক্ষোভে হত‌্যার পরিকল

কিছু দিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা Read more

রাজধানীর সড়কে প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের

রাজধানীর গোলাপবাগে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মো. সোহাগ (৩৩) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: এ বছরেই বিচার সম্পন্নের আশা

২০২০ সালে ২৯ জুন বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ। এতে মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রী Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন