By: Daily Janakantha

বন্যা ॥ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা

উপ-সম্পাদকীয়

21 Jun 2022
21 Jun 2022

Daily Janakantha

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থানই এমন যে, নিজের আয়তনের পনেরো গুণ বেশি আয়তনের ভূখণ্ডের পানি এর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বন্যা তাই এদেশে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। গঙ্গার স্রোতধারা পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরে যাওয়ার আগে এর কয়েকটি মূলধারা ছিল। এগুলো হচ্ছে ভাগীরথী, ভৈরব ও কালিগঙ্গা। প্রমত্তা পদ্মা নামে যে দাপুটে নদীর কথা আমরা জানি এককালে তা ছিল খাল। যা দিয়ে গৌড় ও বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে পূর্ববঙ্গ ও সমতটে যাওয়া যেত। গঙ্গার স্রোত ক্রমশ বেড়ে আড়িয়াল খালে গিয়ে বিশাল নদীতে রূপান্তরিত হয়। সতের শ’ সাতাশি সালে এ অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। এবং তার দুই বছর পর এক ভূম্পিকম্প ব্রহ্মপুত্রকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহ তখন যমুনা হয়ে গঙ্গায় পরলে এর মিলিতধারা পদ্মা খাল দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পরিত্যক্ত খাতে মিশে। পদ্মা নদীর ইতিহাস সম্পর্কে এমনটাই জানা যায়।
পদ্মার সর্বগ্রাসী বন্যা জনজীবনকে বারবার বিপন্ন করেছে। মহাস্থানগড়ের শিলালিপিতে পাওয়া খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের বন্যার উল্লেখকে এ অঞ্চলে বন্যার প্রথম ঐতিহাসিক দলিল মনে করেন ইতিহাসবিদরা। এরপর অসংখ্য বন্যা বহু জনপদ ভাসিয়ে নিয়েছে। ড. নীহার রঞ্জন রায় বাঙালীর ইতিহাস, আদি পর্বে উল্লেখ করেছেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরিয়া ভাগীরথী-পদ্মার বিভিন্ন প্রবাহপথের ভাঙ্গা-গড়ার ইতিহাস অনুসরণ করিলেই বুঝা যায়, এই দুই নদীর মধ্যবর্তী সমতটীয় ভূ-ভাগে, অর্থাৎ নদী দুটির অসংখ্য খাঁড়ি-খাঁড়িকাকে লইয়া কি তুমুল বিপ্লবই না চলিয়াছে যুগের পর যুগ, এই দুটি নদী এবং তাদের অগণিত শাখা-প্রশাখা বাহিত সুবিপুল পলিমাটি ভাগীরথী-পদ্মা মধ্যবর্তী খাঁড়িময় ভূ-ভাগকে বারবার তছনছ করিয়া বারবার তাহার রূপ পরিবর্তন করিয়াছে।’
এ ভূ-খণ্ডের জনজীবনকে পানি প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করেছে, কিন্তু পানির ওপর মানুষ সেভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। নদীকে ভক্তি করেছে। তার ধ্বংসযজ্ঞে ভীত হয়ে দেবীর আসনে বসিয়ে পূজা করেছে। কিন্তু বন্যা সমস্যা সমাধানের যৌক্তিক কারণ খোঁজেনি। গঙ্গা, যুমনা, সরস্বতী নিয়ে বহু পৌরাণিক কাহিনী রচিত হয়েছে কিন্তু ‘দ্য হিস্টোরিস’-এর মতো বই লেখা হয়নি। খ্রিস্টের জন্মের প্রায় পাঁচ শ’ বছর আগে গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস এ বইয়ে নীলনদের বন্যার কারণ, তার গতি-প্রকৃতির যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজেছেন। অথচ প্রাচীন ভারতের মতো প্রাচীন গ্রিসের সংস্কৃতিও মিথনির্ভর। গ্রিসের দার্শনিক বা জ্ঞানীরা সেই সুদূরকালেও ছিলেন নগররাষ্ট্রের নাগরিক, আর আঠারো শতক পর্যন্ত ভারতবর্ষের জনজীবন আবর্তিত হয়েছে সমাজকে কেন্দ্র করে, রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে নয়। এ সমাজে যাঁরা জ্ঞানচর্চা করতেন তাঁরা অন্ত্যজ বা শ্রমজীবী শ্রেণীর শ্রমের ওপর বেঁচে থাকলেও উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এ মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব ছিল সীমাহীন। শিক্ষার অধিকারবঞ্চিত মাটিলগ্ন এ মানুষরা খাল কেটে শস্যক্ষেতে পানি আনার কৌশল রপ্ত করেছিলেন। কূল ছাপিয়ে নদীর পানি যাতে ফসলের ক্ষেত ভাসিয়ে না নেয় সে জন্য বাঁধ দিতে শিখেছিলেন। দীঘি খুঁড়ে পানি মজুদ রাখার ব্যবস্থা করতেন। এসব করার প্রযুক্তি বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁরা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিলেন। কিন্তু পানি ব্যবস্থাপনার এ বাস্তব জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্রাহ্মণদের জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেনি। অবহেলিত থেকে গেছে প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিকাশের সম্ভাবনা।
পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ব্রিটিশ সেচ বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম উইলকক্সের লেখা থেকে জানা যায়, গঙ্গা ও দামোদর নদীর উর্বর বন্যার পানি এবং প্রচুর পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টি হলেও জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। উর্বরতা বাড়াতে সেচের প্রচলন করা হয়। খালের পাড় কেটে সেচের ব্যবস্থা করা হতো। বন্যা শেষ হলে সেগুলো বন্ধ করা হতো। খাল কাটার পর পানি বণ্টনের দায়িত্ব পড়ত কৃষকদের ওপর। প্রতিটি ক্ষেতে ঠিকমতো পানি পৌঁছাল কিনা, তারা তা তদারক করতেন। পর্যাপ্ত পানি পেতেন কৃষকরা, যা অনেক সময় প্রয়োজন ছাপিয়ে যেত। উইলকক্সের মতে, প্রাচীন বাংলার জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়েছিল এই পানি বিতরণের মধ্য দিয়েই, কিন্তু পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা এতে পাওয়া যায় না।
ড. নীহার রঞ্জন রায় বলছেন, ‘প্রাচীন বাংলার পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ইতিহাসের অকীর্তিত জনগণের ভূমিকা স্পষ্ট হয়, কিন্তু জনগণের এই সৃজনশীলতার সঙ্গে সংসার থেকে দূরে অবস্থানরত মঠবাসী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আর শুদ্ধি-সচেতন ব্রাহ্মণদের জ্ঞানচর্চা যুক্ত হতে পারেনি। ফলে প্রাচীন বাংলার তথা ভারতবর্ষের জ্ঞান ও প্রযুক্তি ইতিহাসের প্রথম যুগে বিকাশের সম্ভাবনা দেখা গেলেও পরবর্তীকালে তা নির্জীব হয়ে পড়ে। এ নির্জীবতার কারণ সম্বন্ধে ঐতিহাসিক উপাদানের অভাবে পঞ্চম শতকের আগে নিশ্চিত কিছু বলা প্রায় অসম্ভব।’ যে কারণেই নির্জীব হোক জ্ঞান ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা উচ্চশ্রেণীর একটি গোষ্ঠীর কাছে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ থেমে গেল।
এ তো গেল প্রাচীন ভারত বা বাংলার কথা। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম বিকাশের এই সময়ে এসেও কি পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়েছে? যা হয়েছে তাতে ওই ব্রাহ্মণদের মতো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, তারচেয়ে বেশি তেমন কিছু হয়নি। নিজস্ব প্রযুক্তির স্বাভাবিক বিকাশ না হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনার পুরো বিষয়টি আজও পরনির্ভরশীল হয়ে আছে। একটু পেছন ফিরে দেখা যাক।
উনিশ শ’ চুয়ান্ন সালের বন্যার পর ক্রুগ মিশন পূর্ব পাকিস্তান সফর করে পানি ও বিদ্যুত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) গঠনের সুপারিশ করে। উনিশ শ’ ঊনষাট সালে ওয়াপদা গঠিত হয়। একই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প নেয়া হয় অনেক। এর পাঁচ বছর পর পানি সম্পদ উন্নয়নে বিশ বছর মেয়াদী একটি মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ প্রকল্পের উদ্যোগ ও কার্যপ্রণালী বর্ণনার দলিল দস্তাবেজ রচিত হয়েছে প্রচুর। কিন্তু মেয়াদ শেষে এসব কি সুফল বয়ে এনেছে তা নিয়ে মূল্যায়ন হয়েছে খুব কম। বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ভূমির ওপরের পানি প্রকল্প এবং বিএডিসির আওতায় ভূ-গর্ভের পানি প্রকল্পের প্রতি মনোযোগী হয়। পানি সংক্রান্ত এসব প্রকল্পের শতকরা সত্তর ভাগ আশির দশকের প্রথমভাগ পর্যন্ত এ সংস্থা দুটোর অধীনে ছিল। পরে তা প্রায় আশি ভাগে উন্নীত হয়। কিন্তু এসব প্রকল্পের ‘প্রকল্প সমাপ্তি’ মূল্যায়ন হয়েছে একেবারে কম। অর্থাৎ প্রকল্পের প্রকল্প নেয়া হয়েছে- তার জন্য প্রচুর ফান্ড এসেছে কিন্তু কাজ হয়েছে অশ্বডিম্ব। উনিশ শ’ আটাশি সালে এ্যালেন সি লিন্ডকুইস্ট কিছু বড় প্রকল্পের তিরিশ বছরের প্রকল্প সমীক্ষা করতে গিয়ে বড় বড় শুভঙ্করের ফাঁকি দেখতে পান। তাঁর নিরীক্ষায় বেরিয়ে আসে- ঢাকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অফিস পানি সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রকল্পেরও সমাপ্তি রিপোর্ট দেখাতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভের ওপর নির্ভর করে প্রকল্পের বিন্যাস হয়েছে। সাহায্যনির্ভর এসব প্রকল্পে দাতারা তাদের পছন্দমতো কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়। যোগ্যতা মুখ্য নয়, দাতাদের পছন্দই এখানে শেষ কথা। প্রকল্প ব্যয়ের বড় একটি অংশ কনসালট্যান্টদের ফি হিসেবে দেয়া হতো। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কনসালট্যান্টদের তুলনায় বিদেশী কনসালট্যান্টদের ব্যয় পঁচিশ গুণ বেশি। পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার নামে এ ধরনের সাহায্যনির্ভর প্রকল্পের প্রতি কনসালট্যান্ট, আমলা, প্রকৌশলী সবার লোভনীয় দৃষ্টি থাকে। পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে স্বাধীনতার আগে-পরের উদ্যোগ এ ধরনের ধারাবাহিকতাই চলছে। বিশ্বব্যাংক বন্যা সমস্যার দাওয়াই হিসেবে সব সময়ই খুব ব্যয়বহুল কাঠামোগত সমাধান সুপারিশ করে আসছে এবং বলতেই হয়- এ ধরনের সুপারিশের টোপ গেলার জন্য দেশী-বিদেশী সুযোগসন্ধানীরা আগ্রহভরে অপেক্ষা করে থাকেন।
পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করা পানি সম্পদ রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রচারের ঢাক-ঢোল উনিশ শ’ সাতাশি ও আটাশি সালের ব্যাপক বন্যার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারেনি। অথচ মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এ খাতে। আশির দশকের ওই বন্যার পর করিতকর্মা বিশ্বব্যাংক আবার নড়েচড়ে বসে। ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লন্ডনে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। গুরুত্বপূর্ণ নানান আলোচনা, গুরুগম্ভীর পর্যালোচনা শেষে বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য যুগান্তকারী দাওয়াই ফ্লাড এ্যাকশন প্ল্যান (ফ্যাপ) প্রণয়ন করেন এবং অল্প সময়ে প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব বেরিয়ে পড়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফ্লাড এ্যাকশন প্ল্যান বাতিল করা হয়। অবশ্য এর বদলে যা গ্রহণ করা হয় তা নতুন আঙ্গিকে ওই ফ্যাপেরই ভিন্ন সংস্করণ। সুতরাং বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ কি হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
আর সিলেটের ভয়াবহ বন্যার মতো প্রতিবছর আর কত বন্যার মুখোমুখি হবে দেশ?

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
’৫৭ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর অর্থ উঠে আসবে

’৫৭ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর অর্থ উঠে আসবে প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha সংসদ রিপোর্টার Read more

তিন বছর পর গার্সিয়ার শিরোপা

তিন বছর পর গার্সিয়ার শিরোপা খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে দীর্ঘদিনের Read more

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার Read more

হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ

হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ তার প্রিয় Read more

অনিয়ম চলবে না ॥ পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান

অনিয়ম চলবে না ॥ পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha জনকণ্ঠ Read more

পদ্মা সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়কে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক উল্টে আহত ৪

পদ্মা সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়কে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক উল্টে আহত ৪ প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন