By: Daily Janakantha

জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই চট্টগ্রামবাসীর

অন্য খবর

19 Jun 2022
19 Jun 2022

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ লাখ নয়, শত নয়, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রক্ষা মিলছে না চট্টগ্রাম মহানগরবাসী। প্রায় ৬০ লাখ জন অধ্যুষিত দ্বিতীয় বৃহত্তম এ নগরী বর্ষা মৌসুম এলেই মহাআতঙ্কের অতল গহব্বরেই যেন তলিয়ে যায়। এই জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীকে রক্ষা করতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ৪টি প্রকল্পের কাজ চলার কথা বলা হলেও কার্যকর অগ্রগতি নেই।
চলতি বর্ষা মৌসুমে শনিবার পর্যন্ত টানা দুদিন বর্ষণে নগরজুড়ে অনেকটা আগের মতোই দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বিপাকে পড়তে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত নগরীর চকবাজার, আতুরারডিপো, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নং গেট, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, শুলকবহর, চাক্তাই, আছাদগঞ্জ, চান্দগাঁও, পাহাড়তলী, ছোটপুল, বড়পুল, আগ্রাবাদ বেপারিপাড়া, মুহুরিপাড়া, সিডিএ আবাসিক এলাকা, ইপিজেড এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা প্রবল বর্ষণে তলিয়ে যায়। ঘোর বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেও সামান্য বৃষ্টিতে রক্ষা পায়নি নগরবাসী। বিভিন্নস্থানে জলজট সৃষ্টি হয়ে বর্ষা মৌসুমের জন্য সতর্কতা বয়ে আনে। মূলত তখন থেকেই নগরবাসী ভাবতে শুরু করে এবারের মৌসুমেও রক্ষা নেই।
শনিবার সরেজমিনে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে দেখা যায়, দুর্ভোগের চিত্র। শুক্র ও শনিবার দুদিন সরকারী ছুটি থাকার কারণে অফিস ও স্কুলগামীরা রেহাই পেয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শনিবার বাণিজ্যপাড়াগুলোতে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভারি বর্ষণে বিভিন্ন বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে যায়। অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারী হাসপাতাল আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতাল চত্বর ও এর অভ্যন্তরে হাঁটুসম পানি প্রবেশ করে। এ কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম গত দুদিন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে আছে। অপরদিকে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী মানুষের আসবাবপত্রসহ ব্যবহারের জিনিসপত্র নষ্ট হয় ভারি বর্ষণে জলজটের কারণে। অপরদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্যের লাইটারিং কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। বর্তমানে সাগর উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে ভারি বর্ষণ। উভয়ের কারণে পণ্যের স্বাভাবিক লাইটারিং হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি ও রফতানি পণ্যের উঠানামা হয়েছে। তবে তা ছিল ধীরগতিতে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের উঠানামার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্বের কোন ঘটনা ঘটেনি। এই দুদিনের বর্ষণের পর এ মৌসুমের পরবর্তী দিনগুলো নিয়ে মানুষ শঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে। এসব নিয়ে কোন জবাব নেই সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।
উল্লেখ করা যেতে পারে, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৭টি খালের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। সরকার চউক কর্তৃপক্ষকে এ কাজ প্রদান করে। চউক কাজটি হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডকে। ইতোমধ্যে এ সংস্থাটি ৭টি খালের কাজ সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে। এসব খালের প্রয়োজনীয় সংস্কার, দু’পাশে রিটেইনিং ওয়াল এবং ওয়াকওয়ে কাজ করেছে। অবশিষ্ট খালগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে সময় নেবে। এরই মাঝে এসেছে বর্ষা মৌসুম। এ মৌসুমে বর্ষণ স্বাভাবিক একটি বিষয়। সমুদ্রের জোয়ারের পানি ভারি বর্ষণের সময় নগর এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে ৫টি স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার ভারি বর্ষণের সময় সকালে জোয়ার থাকায় দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এরপরে ভাটার কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পানি নেমে যায়। এ কারণে বহু এলাকার মানুষ আপাতত রক্ষা পেয়েছে।
চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নতুন কোন বিষয় নয়। এটি যেন দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ হিসেবে মানুষের কাছে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে সবকটি খালের দু’পাড়ে অবৈধ স্থাপনা যেমন উচ্ছেদ করা যায়নি, তেমনি প্রয়োজনীয় সংস্কারও হয়নি।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, নগর অভ্যন্তরে খাল ও নালার প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ তাদের হলেও খাল সংস্কারের কাজটি চউককে প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চউক এই কাজ নিজে না করে সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করেছে। ফলে এই প্রক্রিয়া সময়ক্ষেপণ ঘটেছে। যেহেতু প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, জলজটে পানির দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যায়। ফলে বিষয়টি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া গ্রহণ আবশ্যক ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে এর ছেদ ঘটেছে।
এ কাজ যেহেতু চউকের নয় সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডকে কাজে সম্পৃক্ত করাই ছিল যৌক্তিক। কিন্তু কী কারণে তা হয়নি তার কোন উত্তর নেই। এমনিতর পরিবেশে বর্ষা মৌসুম এলেই নগরবাসী মহাদুর্ভোগের কবলে পড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা কখন পাওয়া যাবে তা এখনও বলা মুশকিল। শুক্র ও শনিবারের ভারি বর্ষণের পর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
বানভাসিদের নিয়ে ফকির শাহাবুদ্দিনের গান

বানভাসিদের নিয়ে ফকির শাহাবুদ্দিনের গান সংস্কৃতি অঙ্গন 25 Jun 2022 25 Jun 2022 Daily Janakantha সংস্কৃতি প্রতিবেদক ॥ বানভাসিদের নিয়ে Read more

পদ্মা সেতুর টোল দিলেন শেখ হাসিনা

পদ্মা সেতুর টোল দিলেন শেখ হাসিনা জাতীয় 25 Jun 2022 25 Jun 2022 Daily Janakantha অনলাইন ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ Read more

স্বগর্বে ফিরলেন সেই আবুল হোসেন

স্বগর্বে ফিরলেন সেই আবুল হোসেন জাতীয় 25 Jun 2022 25 Jun 2022 Daily Janakantha অনলাইন ডেস্ক ॥ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন Read more

সেতুর চেয়েও বড়

সেতুর চেয়েও বড় প্রথম পাতা 24 Jun 2022 24 Jun 2022 Daily Janakantha বিশ্বের কোন প্রকল্প নিয়ে এত আলোচনা হয়নি। Read more

খুলল পদ্মার দ্বার, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

খুলল পদ্মার দ্বার, উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় 25 Jun 2022 25 Jun 2022 Daily Janakantha অনলাইন ডেস্ক ॥ স্বপ্ন পুরণের Read more

আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘ছিটমহল’

আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘ছিটমহল’ সংস্কৃতি অঙ্গন 25 Jun 2022 25 Jun 2022 Daily Janakantha সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ উপমহাদেশের ৬৮ বছরের Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন