By: Daily Janakantha

বন্যা মোকাবেলায় সেনা ॥ সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির আরও অবনতি

প্রথম পাতা

17 Jun 2022
17 Jun 2022

Daily Janakantha

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ৯টি ব্যাটালিয়ন পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। জরুরীভিত্তিতে পানিবন্দী লোকদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মানবিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও সিলেট সদর উত্তর এলাকায় এক টুকরা জমিও পানিমুক্ত নেই। উপজেলা সদরের সরকারী অফিসগুলো পানিতে তলিয়ে আছে। বাঁচার জন্য পানিবন্দী মানুষের আর্তচিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। ভাসমান পানিতে অনাহারি মানুষের হাহাকার শোনার কেউ নেই। স্থানীয় প্রশাসনও অসহায় হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও বাসা, থানা কম্পাউন্ডসহ সর্বত্র অথৈ পানি। বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ৬ জুন থেকে অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। অব্যাহত রয়েছে পাহাড়ী ঢল। ঢলের তীব্রতার কারণে নৌকা নিয়ে চলাচল করাও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও ছাতক উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত গোয়াইন ও পিয়াইন, চেঙ্গেরখাল নদীসহ হাওর এলাকা দিয়ে অবাধে ঢলের পানি নেমে আসায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিবন্দী মানুষ নগরীর দিকে ছুটে আসছেন। এদিকে সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকা এখন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বানের পানিতে স্রোত ও বাতাসের তীব্রতার কারণে পানিবন্দী এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত নৌকা ও উদ্ধারকর্মী না থাকায় পানিতে আটকাপড়া মানুষদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মানুষ। যেমন থাকার জায়গা নেই তেমনি খাবার ব্যবস্থা নেই। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে নগরীর কুমারগাওয়ের বিদ্যুতের গ্রিড লাইনের সাব স্টেশনে। এতে পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সিলেটের বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও বিদ্যুত বিভাগ।
শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ৮টি ব্যাটালিয়ন পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, জামালগঞ্জ উপজেলাসহ মোট ৮টি উপজেলায় কাজ করছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো, চিকিৎসা সহায়তা, খাবারের ব্যবস্থা, খাদ্য গোদাম রক্ষা, সিলেট কোমারগাঁও পাওয়ার স্টেশন রক্ষা করার কাজে নেমেছে। শুক্রবার সকালে সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশন প্রধান মেজর জেনারেল হামিদুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার সকালে সিলেট জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে ১৭ পদাতিক ডিভিশন সিলেটের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বরার চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ওসমানী বিমানবন্দর ৩ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ॥ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তিনদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বিমানবন্দরে শুক্রবার থেকে তিনদিন কোন ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা করবে না বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ। তিনি জানান, বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছাকাছি বন্যার পানি চলে এসেছে। এছাড়া সিলেটজুড়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তিনদিনের জন্য বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নগরীর বিদ্যুত কেন্দ্র ঝুঁকির মুখে ॥ বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সিলেটের কুমারগাঁওয়ের বিদ্যুতের গ্রিড লাইনের সাব স্টেশনে। এতে পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দিয়েছে। এ অবস্থায় সিলেটের বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও বিদ্যুত বিভাগ। শুক্রবার দুপুর থেকে কুমারগাঁও বিদ্যুত উপকেন্দ্রের চারপাশে বালির বস্তা দিয়ে দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী। এ ছাড়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাকার মেশিন দিয়ে বিদ্যুত কেন্দ্রে ঢুকে পড়া পানি শুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে কুমারগাঁও সাব স্টেশন তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এটি তলিয়ে গেলে পুরো সিলেট বিদ্যুতহীন হয়ে পড়বে। এতে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই আমরা এই কেন্দ্রটি চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। যাতে অন্তত নগরের বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। সিটি কর্পোরেশন, সেনাবাহিনী ও বিদ্যুত বিভাগ একসঙ্গে মিলে এই কেন্দ্র সচল রাখার চেষ্টা করছি। বিদ্যুত বিভাগের সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদির শুক্রবার দুপুরে বলেন, বুধবার রাতেই কুমারগাঁও বিদ্যুত উপকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়েছে। আর চার ইঞ্চি পানি বাড়লেই এই কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হবে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ, ছাতক, কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কুমারগাঁও উপকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে পুরো সিলেট বিদ্যুতহীন হয়ে যাবে।
শীঘ্রই বৃষ্টি থামার সংবাদ নেই ॥ এদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও শীঘ্রই বৃষ্টি থামার ব্যাপারে কোন সুসংবাদ দিতে পারেনি আবহাওয়া অফিস। আগামী ২-৩ দিন সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, এই বৃষ্টিপাত সিলেট জেলায় আগামী ২ দিন অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ঝরবে সোমবার পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, উজানের দিকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। যার প্রভাবে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার সব জায়গায় বৃষ্টিপাত হবে। ২০ তারিখের পর কমার সম্ভাবনা থাকলেও এ মাসের শেষ দিক পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই সিলেটে বিরামহীন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেইসঙ্গে উজানের বৃষ্টিপাত যোগ হওয়ায় সিলেটের নদনদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গেল মাসের ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতি সামলে উঠার আগে ফের বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা। ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সিলেট জেলার নদ-নদীগুলোর পানি প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর তীর উপচে নতুন করে বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। এমন অবস্থায় বন্যাকবলিত পরিববারগুলো দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের আশঙ্কা করছে।
পানির স্রোতে ভেসে গেছে ট্রাক ॥ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখালে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেছে ট্রাক। এতে চালক ও হেলপার নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় তেলিখাল এলাকার ভোলাগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বেলা ২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভেসে যাওয়া ট্রাক, হেলপার ও চালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাকের মালিক শাহ খালেদ আহমদ। খালেদ জানান, তাঁর ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৩১৮৩) নম্বরের মালবিহীন খালি ট্রাকটি ভোলাগঞ্জ থেকে সিলেটের উদ্দেশে আসার সময় তেলিখাল ইউনিয়নের মূল সড়কে পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়। সে সময় ট্রাকের চালক ও হেলপার ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে এক কিশোর বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে।
সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে অনবরত ঢুকছে পানি। পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সিলেটের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে শুক্রবারের মধ্যেই পুরো সিলেট শহরের বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা বিদ্যুত সাব স্টেশনে পানি উঠে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ওই এলাকায় সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। উপশহর কেন্দ্রেও পানি উঠেছে। যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ওই এলাকার বিদ্যুত সবরাহ ব্যবস্থা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রাণ ॥ বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। পানি বৃদ্ধি পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার্তদের সহায়তায় নতুন করে আরও খাবার ও নগদ অর্থ বরাদ্দ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যার্ত মানুষের মাঝে নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ব্যাগ শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জানান, ইতোমধ্যে বন্যার্তদের উদ্ধার তৎপরতায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে খাবার প্রদান ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বন্যার কবলে শাবি ॥ নগরীর পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসেও বন্যার পানি ঢুকেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে জরুরীভিত্তিতে ২৫ জুন পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে জরুরী সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।
ফায়ার সার্ভিস অফিসে পানি ॥ তালতলাস্থ ফায়ার সার্ভিস অফিসে পানি উঠে পড়ায় ৫টি গাড়ি দক্ষিণ সুরমা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে এবং দুটি গাড়ি স্টেশনে রাখা হয়েছে। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, তাদের স্টেশনে প্রায় এক ফুট পরিমাণ পানি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে বলে জানান তিনি। এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম জানান, উপশহরে ডি, সি ও ই ব্লকের একাংশের রাস্তায় পানি উঠেছে।
নগরে ৩১ আশ্রয়কেন্দ্র ॥ বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিলেট নগরে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেট মহানগরীতে ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখনও অনেকেই নিজেদের আসবাবপত্র রেখে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছেন না। তবে বন্যাকবলিত সবাইকে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শহরের বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের চাহিদা জেলা প্রশাসনের কাছে দিয়েছি। আপাতত সিটি কর্পোরেশনের কাছে যা আছে তাই নিয়ে বন্যার্তদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা মানুষজনকে রাত থেকে রান্না করা খাবার খাওয়ানো হবে।’ সিটি কর্পোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, নগরের ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, শামীমাবাদ, ডহর, তালতলা, কালিঘাট, সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর, তেররতন, হবিনন্দি, সাদিপুর, বোরহানবাগ, শিবগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলিসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়েছে।
সিলেট বিদ্যুত বিভাগের জরুরী সতর্ক বার্তা ॥ আকস্মিক বন্যার কারণে উপশহর, সোবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, মুরাদপুর এবং আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাই বিদ্যুত গ্রাহকগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরী সতর্ক বার্তা দিয়েছে সিলেট বিদ্যুত বিভাগ। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আকস্মিক বন্যার কারণে উপশহর, সোবহানীঘাট, মেন্দিবাগ, মুরাদপুর এবং আশপাশের প্লাবিত হওয়ায় জান মালের নিরাপত্তার স্বার্থে পানিতে কোন বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি বা অন্যান্য বৈদুতিক সরঞ্জামাদি পড়ে থাকলে অথবা গাছপালা বৈদ্যুতিক লাইনে পড়লে স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর দফতরে যোগাযোগ করুন। দ্রুত যোগাযোগ করতে ০১৬২৫০৩৮৭৮৪ এবং ০২৯৯৬৬৩৩১৭৩ নম্বরে ফোনে জানানোর বিনীত অনুরোধ করা হলো।
আজমিরীগঞ্জে দুটি স্কুল প্লাবিত ॥ হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কুশিয়ারা নদী থেকে নেমে আসা পানিতে ২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। সম্প্রতি উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের উত্তর রসুলপুর এবং কামালপুর চরহাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারপাশ ও আসা-যাওয়ার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন স্কুলগুলোতে নৌকা ছাড়া যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য হাওড়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমেছে প্রায় অর্ধেক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭২ জন। প্রায় ১০ দিন ধরে বৃষ্টি ও কুশিয়ারা নদীর পানি হাওড়ে প্রবেশ করায় বিদ্যালয়গুলো প্লাবিত হয়। এখন অর্ধেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে পারছে না।
টানা বর্ষণে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা শহরের বেশিরভাগ স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে। এমনকি পানি ঢুকেছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনেও। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহর ও গ্রামবাসী।
এছাড়া উত্তরাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, শেরপুর, গাইবান্ধা থেকেও আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাগণ বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাঠিয়েছেন।
তিস্তার পানি বাড়ছে ॥ উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে ফুঁসছে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো। ক্রমশ বাড়ছে পানির স্তর। বড় ও ছোট নদীগুলো উপচে লোকালয়ে হুহু করে প্রবেশ করছে বানের পানি। তলিয়ে যাচ্ছে বসতঘর ও ফসলি জমি। বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা নদীর ঢল আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার (৫২.৬০) ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তবে বেলা ৩টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এলেও বিকেল থেকে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে নদীর উজানের পানির চাপ কমাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জল কপাট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার ১১টি ইউনিয়ন এখন বন্যা কবলিত। এতে ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ বানের পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নদীর বন্যার সঙ্গে আকাশের বৃষ্টি এই সকল পরিবারে চরম পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দিয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী স্বপন বাঁধ মসজিদ পাড়ার ২৮০ পরিবার বসতবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে। স্বপন বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে আকস্মিক পানি উঠে বাড়িঘর তলিয়ে দেয় তাদের।
ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপদসীমার উপর ॥ কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সদর, উলিপুর, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রাজারহাট উপজেলার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। চর ও দ্বীপচরগুলো প্লাবিত হওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ঘর-বাড়ি তলিয়ে থাকায় অনেক পরিবার ঘরের ভেতর উঁচু মাচানে ও নৌকায় দিন পার করছেন।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা, যাত্রাপুর, পাঁচগাছী ইউনিয়ন, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, চিলমারী উপজেলার চিলমারী, অষ্টমিরচর, নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছেÑ এসব এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সদরে নৌকা চলছে ॥ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দুর্গাপুর পয়েন্টে সোমেশ^রীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মোহনগঞ্জ এবং বারহাট্টার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিয়েছে। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সদরে রীতিমতো নৌকা চলছে।
জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে নেত্রকোনায় ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ওদিকে আবার সোমেশ^রী, গণেশ্বরী ও উব্দাখালি নদী দিয়ে ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢলের পানি। বালির স্তর জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে নদীগুলোর পানি সহজে ভাটির দিকে যেতে পারছে না। এ কারণে দুর্গাপুর পৌর এলাকার কাচারি মোড়, মোক্তারপাড়া, চর মোক্তারপাড়া, তেরিবাজার, মুজিবনগর এবং পৌর এলাকার বাইরের বালিকান্দি, খরস, চক লেঙ্গুরা, ঝাঞ্জাইল, শান্তিপুর, মাদুরপাড়, জয়নগর ও রামবাড়ি এলাকার অসংখ্য বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। অন্যদিকে কলমাকান্দা উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের সবকটিই প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা বাজারের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলাতেও ঢুকে গেছে বন্যার পানি। এ কারণে চিকিৎসা সেবাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ধরলার চরের ভারতীয়রা বাংলাদেশের স্বজনদের আশ্রয়ে ॥ জেলার ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ধরলাপারে চরফলিমারী ও ভারতীয় চর নগদটারী গ্রামের পানিবন্দী কয়েকশ’ মানুষের। বাংলাদেশী সীমান্ত গ্রামবাসী মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভারতীয় নগদটারী গ্রামের কয়েকশ’ পানিবন্দী মানুষকে সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দারা আশ্রয় দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ধরলা নদীর পানি কমতে শুরু করলে অনেকে ভারতের চরে ফিরে গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক হওয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বরাবরের মতো এড়িয়ে গেছে।
এদিকে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি শুক্রবার ভোর হতে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৫ উপজেলার তিস্তা ও ধরলা নদীর কূলবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাদম, ভুট্টা, শাকসবজি জাতীয় ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
ভোগাই নদীতে ভাঙ্গন, চেল্লাখালীর দুটি মিনিব্রিজ ভেঙ্গে গেছে ॥ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভোগাই এবং চেল্লাখালী নদীর তীব্র ¯্রােতে তীর ভেঙ্গে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার পৌরশহরের উত্তর গড়কান্দা ও আড়াইআনী বাজার প্লাবিত হয়েছে। গড়কান্দা বাগানবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর দুই জায়গায় ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে ও চেল্লাখালী নদীর দুটি মিনিব্রিজ ভেঙ্গে গেছে। সেই সঙ্গে আমন বীজতলা ও সদ্য রোপিত আউশ ধানখেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। ভাঙ্গন এলাকায় দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টানা ভারি বৃষ্টিপাত হয়। ফলে উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বেড়ে ৩.৭৬ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তর গড়কান্দা (বাসস্ট্যান্ড) এলাকায় নদীর তীর ভেঙ্গে গেছে। গত বছরের ভাঙ্গন স্থানে স্থায়ী কোন বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ওই ভাঙ্গনস্থান দিয়েই পানি গড়িয়ে শহরের উত্তর গড়কান্দা মহল্লা প্লাবিত হয়েছে। আড়াইআনী বাজারস্থ নিজপাড়া ও সরকারী খাদ্য গুদামের পাশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি চেল্লাখালী নদীতে প্রবল ¯্রােতে পাহাড়ি ঢল নেমে নদীর উপর নির্মিত পলাশীকুড়া ও আমবাগান বেকিকুড়া এলাকার টানা স্টীলের মিনিব্রিজ ভেঙ্গে গেছে। উপজেলার নয়াবিল, বাঘবের, কলসপাড়, যোগানিয়া ও মরিচপুরান ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার অভুক্ত রয়েছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, প্রায় ২০ হেক্টর আমন বীজতলা ও ১০০ হেক্টর সদ্য রোপিত আউশ ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফুলছড়িতে ভেঙ্গে গেছে গ্রামীণ রাস্তা ॥ গাইবান্ধার গজারিয়ায় নীলকুঠি এইচবিবি রাস্তা থেকে আদর্শ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের ২৮০ মিটার রাস্তাটি শুক্রবার সকালে মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানের পানির ঢলে ভেঙ্গে গেছে। ফলে নীলকুঠি আদর্শ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কোন উপায় না থাকায় নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলায় এখন তারা যাতায়াত করছে।
গজারিয়া ইউনিয়নের ফুলছড়ি বাজারের সামনে যমুনা নদীর বুকে ১০ বছর আগে জেগে ওঠে বিশাল চর। সেই চরের জমিতে তিন বছর আগে গড়ে তোলা হয় নীলকুঠি আশ্রয়ণ প্রকল্প। গত বছর মুজিববর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীলকুঠি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান গড়ে তোলা হয়।

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
আঁকাআঁকির আশ্রয়ে কর্মশালা, ছবির টাকায় বাঁচবে জীবন

আঁকাআঁকির আশ্রয়ে কর্মশালা, ছবির টাকায় বাঁচবে জীবন শেষের পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha মনোয়ার হোসেন ॥ Read more

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি -শ্রেণি : সপ্তম -অধ্যায় : প্রথম (প্রাত্যহিক জীবনে আইসিটি)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি -শ্রেণি : সপ্তম -অধ্যায় : প্রথম (প্রাত্যহিক জীবনে আইসিটি) শিক্ষা সাগর 27 Jun 2022 27 Jun Read more

ইতিহাসের সাক্ষী: ইউক্রেনে ১৯৩০-এর দশকের যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ

ইউক্রেনে ১৯৩৩ সালের বসন্তকালে এমন এক দুর্ভিক্ষ হয়েছিল যাতে মারা গিয়েছিল লক্ষ লক্ষ মানুষ। মারিয়া ভলকোভা সে সময় ছিলেন স্কুলের Read more

গুজরাট দাঙ্গায় মোদির ভূমিকা নিয়ে সরব মানাধিকার কর্মী গ্রেপ্তার

ভারতের গুজরাট দাঙ্গায় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অব্যাহতিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া মানবাধিকার কর্মী তিস্তা সেতালভাদকে গ্রেপ্তার করেছে Read more

ম্যামথ শাবকের মমির সন্ধান

ম্যামথ শাবকের মমির সন্ধান প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বরফযুগের একটি লোমশ ম্যামথ Read more

পদ্মা সেতুর প্রথম লেডি বাইকার রুবায়াত রুবা

পদ্মা সেতুর প্রথম লেডি বাইকার রুবায়াত রুবা প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন