By: Daily Janakantha

জন্মশতবর্ষে সফিউদ্দীনের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও ছাপচিত্র উৎসব

শেষের পাতা

17 Jun 2022
17 Jun 2022

Daily Janakantha

সংস্কৃতি প্রতিবেদক ॥ দেশের চারুকলা ভুবনের অনন্য এক চিত্রকর সফিউদ্দীন আহমেদ। আগামী ২৩ জুন পথিকৃৎ এই চিত্রশিল্পীর শততম জন্মবর্ষ। আর শিল্পগুরুর সেই জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে যৌথভাবে চমৎকার এক উদ্যোগ নিয়েছে ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয় ও গ্যালারি চিত্রক। শিল্পের আশ্রয়েই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হচ্ছে এ দেশের চারুকলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম রূপকার এবং উপমহাদেশের ছাপচিত্র ইতিহাসের সূচনালগ্নের এই কান্ডারীকে। সেই সুবাদে সফিউদ্দীন আহমেদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে গালারি চিত্রকে। অন্যদিকে, সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছাপচিত্র উৎসব।
শিল্পরসিকদের জন্য যেন নতুন দিগন্ত মেলে ধরেছে চিত্রকর্ম প্রদর্শনীটি। সফিউদ্দীনের চিত্রিত চিত্রকর্মে সজ্জিত হয়েছে এই শিল্পায়োজন। আগে কখনও প্রদর্শিত হয়নি এমন কিছু ক্যানভাসের দেখা মিলছে প্রদর্শনীতে। এর মধ্যে রয়েছে তেলরঙে আঁকা জলের বুকে নৌকা ভাসিয়ে দেয়া এক জেলের মাছ শিকারের দৃশ্যচিত্র। একই মাধ্যমের আরেকটি কাজে নিবিষ্ট মনে করাত দিয়ে কাঠ চিরতে দেখা যায় এক কাঠমিস্ত্রীকে। ছাচিত্রের লিথোগ্রাফ মাধ্যমের একটি চিত্রকর্মে উঠে এসেছে জুতা পালিশের দৃশ্যায়ন, কিংবা লিথোগ্রাফ মাধ্যমে চিত্রিত সাউন্ড অব ওয়াটার শিরোনামের ছাপচিত্রটিও আগে কখনও দেখা হয়নি দর্শকদের। এমন অদেখা ছবির সঙ্গে জলরং, তেলরং, চারকোলসহ বহুমাত্রিক মাধ্যম আশ্রিত শিল্পগুরু সৃজিত বিভিন্ন বিখ্যাত ছবির দেখা মিলেছে এই প্রদর্শনীতে। সব মিলিয়ের শিল্পীর বাছাইকৃত ৫৫টি চিত্রকর্মের সম্মিলন ঘটেছে এ আয়োজনে। অন্যদিকে, সফিউদ্দীনের ছাত্রসহ তরুণ শিল্পীদের ছাপচিত্রের সমাবেশ ঘটেছে উৎসবে। তিন শতাধিক ছাপচিত্রে সাজানো এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছে প্রখ্যাত শিল্পীদেরও কাজ। সেই সুবাদে রফিকুন নবী, মোহাম্মদ কিবরিয়া, মনিরুল ইসলাম, কালিদাস কর্মকার কিংবা হামিদুজ্জামান খানের ছাপচিত্রগুলো নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
শুক্রবার বিকেলে গ্যালারি চিত্রকে এই প্রদর্শনী ও উৎসবের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রথিতযশা শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রদর্শনীর কিউরেটর সফিউদ্দীন আহমেদের ছেলে চিত্রশিল্পী আহমেদ নাজির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান।
সফিউদ্দীন আহমেদের শিল্প-সাধনার কথা উঠে আসে রফিকুন নবীর কথায়। বলেন, তিনি ছিলেন একজন পারফেকশনিস্ট চিত্রশিল্পী। ড্রইংয়ের কাজ সেরে রঙের পর রং চাপিয়ে নিবিড় মনোযোগে সাজাতেন ক্যানভাস। আর সেই আঁকার কাজটি শেষ হলে আমাকে ও কাইয়ুম চৌধুরীকে ডেকে পাঠাতেন তার স্বামীবাগের বাসায়। আড্ডাচ্ছলে জানতে চাইতেন ছবিটির দোষ কিংবা গুণ। ছবির বিষয়ে মতামত না জানানো পর্যন্ত ছাড় মিলত না। অথচ তার মতো এত বড় শিল্পী এবং সরাসরি শিক্ষকের কাজের বিষয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমরা দ্বিধাবোধ করতাম। কারণ, কোন কাজকে ভাল বললেও সেটির ব্যাখ্যা দিতে হতো। শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে তিনি এতটাই নিখুঁত ছিলেন যে, কোন কাজ আমাদের দেখানোর তিন বছর পর আবার ডেকেছেন। তখন গিয়ে দেখতাম আগের চিত্রপটটি পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয়ে গেছে নতুন একক সৃষ্টিকর্ম। ছবি আঁকার প্রতি এই নিমগ্নতা দেখে অভিভূত হতাম। আর চিত্রকর্ম সৃজনে সেটাই ছিল সফিউদ্দীন আহমেদের নিজস্বতা। ছবির প্রতি তার ভালবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে, অপাত্রে চলে যাওয়ার ভয়ে চিত্রকর্ম বিক্রি করতেন না।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এই ভূখন্ডে চারুশিল্পের নবযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনজন চিত্রশিল্পীর একজন হচ্ছেন সফিউদ্দীন আহমেদ। অথচ তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ এক চিত্রশিল্পী। শিল্পের ভুবনে তিনি যাপন করেছেন সন্ন্যাসীর এক জীবন। শিল্পিত সেই জীবনের সঙ্গে মিশেছিল সাধনা। এ কারণে শিল্পীদের বাইরে অনেকেই তার সম্পর্কে খুব কম জানেন। এমনকি, তার ছবি দেখার সুযোগও হয়নি অনেকের। এমন বাস্তবতায় ব্যাপকভাবে উদ্যাপিত হওয়া উচিত পথিকৃৎ এই শিল্পীর জন্মশতবর্ষ। বেসরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনে উদ্যোগ নিতে হবে।
সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, পথিকৃৎ শিল্পীদের মধ্যে তো বটেই, বলা যায় সমগ্র চারুকলা অঙ্গনে সফিউদ্দীন আহমেদ একমাত্র শিল্পী যিনি সবচেয়ে বেশি মাধ্যমে সার্থকতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। ছাপচিত্রের মধ্যে এচিং, একুয়াটিন্ট, কাঠখোদাই ও কপার এনগ্রেভিং ছাড়াও তেলচিত্র ও রেখাচিত্রের তার উৎকর্ষ অসামান্য। জলরং, ড্রাই পয়েন্ট, ম্যুরাল পেইন্টিং মাধ্যমেও অসামান্য দক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। সব মিলিয়ে শ্রমনিষ্ঠায় আত্মনিমগ্ন এক ছিলেন সফিউদ্দীন আহমেদ। মাধ্যমগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সাধকসুলভ নিমগ্নতার তার সৃষ্টিকর্ম দিয়েছে সার্থক রূপ।
আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী ও উৎসব। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
ম্যামথ শাবকের মমির সন্ধান

ম্যামথ শাবকের মমির সন্ধান প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বরফযুগের একটি লোমশ ম্যামথ Read more

রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানি বন্ধের দাবি শিল্প মালিকদের

কাগজ উৎপাদনে দেশ অনেক আগেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নানা অজুহাতে আমদানি থেমে নেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে চলছে ডলার সংকট। এসব Read more

আঁকাআঁকির আশ্রয়ে কর্মশালা, ছবির টাকায় বাঁচবে জীবন

আঁকাআঁকির আশ্রয়ে কর্মশালা, ছবির টাকায় বাঁচবে জীবন শেষের পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha মনোয়ার হোসেন ॥ Read more

দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তৈরি হও

দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তৈরি হও প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha বিশেষ প্রতিনিধি ॥ Read more

মাওয়া প্রান্তে বাইকে প্রথম পার হলেন যিনি-

মাওয়া প্রান্তে বাইকে প্রথম পার হলেন যিনি- প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ Read more

বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ॥ স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঢল

বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ॥ স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঢল প্রথম পাতা 26 Jun 2022 26 Jun 2022 Daily Janakantha জনকণ্ঠ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন