By: Daily Janakantha

ঢাকার দিনরাত

উপ-সম্পাদকীয়

13 Jun 2022
13 Jun 2022

Daily Janakantha

আমাদের যাদের বয়স ষাট হয়ে গেছে, তাদের মনে হয় আমরা বুঝি একটা অকৃষি সমাজে বসবাস করছি। ঢাকা শহরের সমাজ প্রাণের বিরুদ্ধে থাকা একটা চেষ্টা। এক মহানগর হঠাৎ বড়লোকের মতো উদ্ভিদকে যে জায়গা দেয় না। একটা অসীম লোভে পড়ে এই শহরে বাস করছি। এই শহরে যে আমার মুখে বলা ভাষা জীবিত চলাচল করে। প্রতিদিন সে ভাষা বদলায়। এ শহরে যে আমার শ্বাস, বিষাক্ত বাতাস, ধারালো ধুলা, ভয়ানক মশা, ভয়ঙ্কর জমে থাকা পানি। এই শহরে থাকতে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। শব্দে কান বধির হয়ে যায়। গ্যাসের আগুন আর প্লাস্টিক পোড়া ধোঁয়া আমাকে নির্জীব করে ফেলে।
ওপরের কথাগুলো, আমারই সমসাময়িক একজন কবির, যিনি সদ্য ষাট পেরুলেন। মেধাবী এই কবি, কাজল শাহনেওয়াজ, গল্প-উপন্যাসও লেখেন। একাডেমিক শিক্ষা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে। তার কথাগুলো আমাদের বহু ঢাকাবাসীরই কথা, যারা তারুণ্যে অন্য জেলা থেকে এসেছিলেন এই ঢাকায়।

৪০ টাকায় রাজধানীতে রাত্রিবাস
শহরে পাঁচ-সাতশ টাকার নিচে হোটেলের রুম মেলে না। সর্বনি¤œ অতি সাদামাটা হোটেলের কথাই বলছি। আবার পাঁচতারকা হোটেলে দশ-বিশ হাজার টাকায়ও অনেকে রাত্রিবাস করেন। যা হোক, ফুটপাথে, রেলস্টেশনে বিনা পয়সায় বহু ভাসমান মানুষই তো রাত্রি পার করছেন। এটি কিছুটা বিপজ্জনক বটে, আর প্রাইভেসির তো বালাই নেই। তাই বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান বোর্ডিংয়ে মাত্র চল্লিশ টাকায় রাতে ‘ছাদের নিচে’ স্বতন্ত্র কামরায় থাকার খবরে যে কারোরই চমকে ওঠার কথা। অবশ্য এটি চলে আসছে বেশ কিছু বছর আগে থেকেই। ১০০ টাকাও ছিল রেট। কালে কালে পঞ্চাশ টাকায় ঠেকেছিল। এখন মাত্র চল্লিশ টাকা। ইতিহাসের পাতা কি তা থেকে জেনে নেয়া যাক। ১৯৬০-এর দশকে বেশ জমজমাট ছিল এই বোর্ডিংগুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের কাজে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। তারা ঢাকা শহরে মুসলমানদের মালিকানাধীন কোন হোটেলে উঠতে চাইতেন না। আর হোটেলের সংখ্যাও ছিল কম। এসব হিন্দু ব্যবসায়ীর কথা মাথায় রেখে ঢাকার কিছু হিন্দু মহাজন বুড়িগঙ্গায় ভাসমান বোর্ডিংগুলো তৈরি করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হিন্দু মালিকরা ব্যবসা ছেড়ে ভারতে চলে যান। পরে বোর্ডিংগুলো কিছু মুসলিম ব্যবসায়ী বুঝে নেন। বোর্ডিংগুলো প্রথমে সদরঘাট এলাকায় ছিল। কয়েক বছর আগে এগুলো মিটফোর্ড ঘাটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রতিবেদক রাজু আহমেদের রিপোর্ট থেকে তুলে দিচ্ছি। তিনি লিখেছেনÑ ‘পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছনে বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে ২৪ ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে কয়েকটি নৌযান। যেগুলো নদীতে চলাচলের পরিবর্তে মানুষের থাকার উপযোগী করে রূপ দেয়া হয়েছে ভাসমান আবাসিক হোটেলে (বোর্ডিং)। যাতে সর্বনি¤œ ৪০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ভাড়ায় থাকা যাবে পুরো একটি দিন। সেই পাকিস্তান আমলে এসব বোর্ডিংয়ের যাত্রা শুরু হলেও এখনও টিকে আছে মাথা উঁচু করে। সাধারণত রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তার প্রায় সবই আছে এই বোর্ডিংগুলোতে। প্রতিটি ভাসমান বোর্ডিংয়ে কক্ষ আছে ৩০-৩৫টি। বৈদ্যুতিক আলো, নিরাপদ খাবার পানি, টয়লেটসহ বোর্ডারদের জন্য রয়েছে আরও বেশ কিছু সেবা।
নিরাপত্তার স্বার্থে বোর্ডিংগুলো রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। প্রতিটি বোর্ডিংয়ের দায়িত্বে থাকেন একজন করে ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার)। শুরুর দিকে এগুলো ছিল কাঠের তৈরি। নব্বইয়ের দশকের পরে সংস্কার করে লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় এগুলো। কয়েক বছর পর পর এই নৌযানগুলো ডকইয়ার্ডে পাঠিয়ে সংস্কার ও মেরামত করা হয়ে থাকে। বুড়িগঙ্গার আশপাশের হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরাও থাকেন এসব বোর্ডিংয়ে। যারা সারা দিন বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন। দিন শেষে এখানে এসে নির্বিঘেœ রাত যাপন করেন। সরেজমিনে বুড়িগঙ্গা তীরের মিটফোর্ড ঘাটে দেখা যায়, উজালা, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও বুড়িগঙ্গা নামে চারটি ভাসমান বোর্ডিংয়ে রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভাসমান বোর্ডিংয়ে ওঠানামার জন্য নদীর তীর থেকে রয়েছে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো। ভাসমান বোর্ডিংগুলোতে কেবিনের পাশাপাশি রয়েছে ঢালা বিছানার ব্যবস্থা। প্রতিটি কেবিনের ভাড়া ১০০ টাকা। এ ছাড়া যারা মেঝেতে ঢালা বিছানা করেন, তিন-চারজন একসঙ্গে থাকেন, তাদের ভাড়া গুনতে হয় জনপ্রতি মাত্র ৪০ টাকা করে। প্রতিটি কেবিনে রয়েছে তোশক, কাঁথা, বালিশ, ফ্যান ও লাইট। একেকটি বোর্ডিংয়ে ৪০-৫০ জনের মতো থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বোর্ডিংগুলোতে শুধু পুরুষরাই থাকতে পারে।’

বাসাবোর পার্ক নিষেধের বেড়াজালে বছর পার!
শুক্রবার ছুটির দিন বেলা এগারোটায় সুনসান বাসাবোর শহীদ আলাউদ্দিন পার্কের মাঠের ছবি তুলেছেন একটি ইংরেজী দৈনিকের আলোকচিত্র সাংবাদিক। রবিবার এ কলাম লেখার ফাঁকে পত্রিকার পাতা ওল্টাতে গিয়ে ছবিটিতে চোখ আটকে যায়। ছুটির দিনে সকালে শিশু-কিশোরদের কলকাকলিতে মুখর থাকার কথা মহানগরের যে কোন মাঠই। অথচ বিশেষ ব্যতিক্রম বাসাবোর ওই পার্ক। কেন? কৌতূহল হলো। জানার জন্য পত্রিকার পুরনো প্রতিবেদনে চোখ বুলোতে চাইলাম। এখন অনলাইনেই সহজে মেলে নিকট অতীত এবং কিছুটা দূরের অতীতের সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। দেখলাম, এই স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে আগেও গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বঞ্চনার কথা। তবু কোন কাজ হয়নি। তার মানে পার্ক কর্তৃপক্ষ এসব তোয়াক্কা করছেন না। নিষেধাজ্ঞার এই আদেশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনই দিয়েছে। তবু মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য দুকথা লিখতেই হচ্ছে। ঢাকায় পার্কের স্বল্পতার কথা আমরা জানি। তাই যেসব পার্ক রয়েছে সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার প্রত্যাশিত। প্রায় পাঁচ বছর একটি পার্ক এভাবে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বন্দী থাকতে পারে না। পাবলিকের সম্পদ পাবলিকের ব্যবহারের জন্য সুব্যবস্থা নিতেই হবে। ঘাস রক্ষার জন্য পার্ক বন্ধ রাখার নজির পৃথিবীর আর কোথাও আছে কি?
বাসাবো মাঠের উন্নয়নকাজ শুরর আগে এর চারপাশে সীমানাপ্রাচীর ছিল না। সর্বসাধারণের জন্য সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত ছিল। দিনভর খেলাধুলার পাশাপাশি রাতেও অনেকে এ মাঠে খেলাধুলা করতেন। কিন্তু আধুনিকায়ন করতে গিয়ে চারপাশে লোহার খাঁচার মতো সীমানাপ্রাচীর দেয়া হয়েছে। ঘাস নষ্ট হবে এ অজুহাতে সকালে তিন ঘণ্টা আর বিকেলে মাত্র দুই ঘণ্টা মাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এমন উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
উন্নয়নকাজের জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল রাজধানীর বাসাবো খেলার মাঠ। পরে উদ্বোধন শেষে আরও আড়াই বছর পেরিয়েছে। তবে মাঠটি খুলে দেয়ার পর থেকে বাঁধাধরা নিয়মে এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠে লাগানো ঘাস যাতে নষ্ট না হয়, এ জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৯ ঘণ্টাই এটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমনকি সপ্তাহে প্রতি রবিবার রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে মাঠটি বন্ধ থাকছে।

মরণোত্তর ত্বক দান
মরণোত্তর চোখ কিংবা দেহ দানের কথা আমরা জানি। এবার শুনলাম মরণোত্তর ত্বক বা চামড়া দানের কথা। এটা কেন জরুরী, সেটি খোলাসা করছি। সুখবর হলো দেশে এই প্রথমবারের মতো স্কিন ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। মানবশরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেলেও মৃত্যুঝুঁকি থাকে। কিন্তু স্কিন ব্যাংক থাকলে সেখান থেকে সংরক্ষিত চামড়া নিয়ে দ্রুত রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা গেলে শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া রোগীকেও বাঁচানো সম্ভব। পোড়া রোগীদের অত্যাধুনিক চিকিৎসায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অধীনে এই স্কিন ব্যাংক চালু হচ্ছে। এরই মধ্যে ল্যাবের যন্ত্রপাতিও স্থাপন শুরু হয়েছে। কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুর আগে চাইলেই ওই স্কিন ব্যাংকে তার চামড়া দান করে যেতে পারবেন। যেভাবে মরণোত্তর চোখ ও দেহ দান করেন, একইভাবে মরণোত্তর চামড়াও দান করা যাবে সেখানে।
কেউ দগ্ধ হলে ক্ষতস্থান দিয়ে শরীর থেকে পানি, লবণ, প্রোটিন ও তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। এতে মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চামড়া দিয়ে ঢেকে দিতে পারলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমে আসে। কিন্তু দেশে ‘স্কিন ব্যাংক’ বা চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে পোড়া রোগীর মৃত্যুর হারও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে স্কিন ব্যাংক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত মৃত্যুর ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এবং সঠিক তাপমাত্রায় লাশ সংরক্ষণ করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চামড়া সংগ্রহ করা যায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মৃত ব্যক্তির পিঠ ও পা থেকে চামড়া নেয়া হয়, যাতে সহজে কারও চোখে তা না পড়ে। স্কিন ব্যাংক চালু হলে কেউ মরণোত্তর চামড়া দান করতে চাইলে নীতিমালা অনুযায়ী নাম তালিকাভুক্ত করতে হয়।

সাবধান বাড়ছে ডেঙ্গু
বর্তমানে রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। ঢাকার বাইরে পাঁচজনসহ দেশে মোট ৯০ জন ডেঙ্গু রোগী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে। গত শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডেঙ্গুজ্বরের মারাত্মক জীবাণু বাহক এডিস মশার জন্মস্থান ও বসবাসের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে জীবিত মশা ও তার লাভাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা ও কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এখনই। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া জ্বরের জীবণুবাহক মশাসহ যেমন ‘কিউলিস্ক’ মশার বসবাস, অবস্থান ও বংশ বৃদ্ধির উৎসস্থল, শহরের স্ট্রম স্যুয়ারেজ ড্রেন, পয়ঃপ্রণালীর পানি নিষ্কাশন ড্রেনসহ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনগুলোতে শক্তিশালী ও কার্যকরী মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা চাই অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে। বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই সতর্ক করে বলছেন এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হবে। সামনের তিনটি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডেঙ্গু সামাল দিতে হলে আজই বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে।

ব্যতিক্রমী চিত্র প্রদর্শনী
রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট, শপিং মল, ঘরে ঘরে টেবিল ভরা খাবার, কথায় কথায় গেট টুগেদার, মানুষের অজানার উদ্দেশ্যে ছুটে চলা আর নিরন্তর কথা বলে যাওয়া! হালকা চটুল বিষয় নিয়ে মানুষের ব্যস্ততা! এই কি আমার বাংলাদেশ! চার দেয়ালে বন্দী, কোচিং নিয়ে ব্যস্ত আমাদের স্পষ্টবাদী শিশুরা, ইউটিউব, মোবাইল, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, বিদেশে পড়তেই হবে মানসিকতার এই জেনারেশন নিয়ে আমি কি শঙ্কিত! চলচ্চিত্র, থিয়েটার, নাটক, কবিতা, যাত্রা, পালাগান, নাচ, গান- দেখা বা শোনার জন্য প্রায় প্রতিটি পরিবারের যে আগ্রহ ছিল, তা কি এখন আর আছে? রেডিওতে খবর কিংবা গান শুনি না কত বছর হবে আমি বলতে পারব না। রেডিও এখন মৃত! টিভিতে কোন কিছু দেখার আগ্রহটা কবে থেকে মরে গেল, মনে কি পড়ে? বাড়ির আশপাশে খোলা জায়গায়, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বা পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে কতদিন হাঁটা হয় না, মনে কি পড়ে? না, মনে করতে পারি না, একদমই মনে পড়ে না।
ওপরের কথাগুলো মন দিয়ে পাঠ করলে বোঝাই যায় এই শিল্পী কতটা সমাজসচেতন এবং স্বদেশ ভাবনায় আন্দোলিত। বলছি টুটুল আহমেদের কথা। সম্প্রতি গ্যালারি চিত্রকে ‘দাগ’ শিরোনামে তার একটি একক চিত্র প্রর্দশনী হয়ে গেল। এটির বিশেষত্ব হচ্ছে ছবিগুলো চা-পাতার নির্যাস দিয়ে অঙ্কিত। ১৮ বছর ধরে চিত্রশিল্পী টুটুল আহমেদ চায়ের নির্যাসকে মাধ্যম করে ক্যানভাসে কল্পনার জগতকে ধরতে চেয়েছেন। চায়ের নির্যাস দিয়ে তিনি এঁকেছেন ফিগার, নানা ধরনের টেক্সচার, বিমূর্ত ভাবনা। স্মরণীয় ৭ মার্চ এবং ১৫ অগাস্টকে তুলে এনেছেন যেমন, এনেছেন বাগান শ্রমিকদের অবয়ব ও অভিব্যক্তি। একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অকথ্য অত্যাচার ও তা-বের ভেতর যশোর রোড দিয়ে কলকাতাগামী শরণার্থীদের ছবিও এসেছে শিল্পীর ক্যানভাসে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে ব্যতিক্রমী এক শিল্প-অভিজ্ঞতা লাভ করলেন শিল্পপ্রেমীরা।

১২ জুন ২০২২
marufraihan71@gmail.com

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ

হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ তার প্রিয় Read more

তিন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে টহল জোরদারের নির্দেশ

তিন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে টহল জোরদারের নির্দেশ প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha শংকর কুমার Read more

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা সাগর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha প্রাক্তন শিক্ষক ম্যাপেললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা Read more

তিন বছর পর গার্সিয়ার শিরোপা

তিন বছর পর গার্সিয়ার শিরোপা খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবশেষে দীর্ঘদিনের Read more

‘১৭ কর্নার থেকে গোল না পাওয়া দুঃখজনক’

‘১৭ কর্নার থেকে গোল না পাওয়া দুঃখজনক’ খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ Read more

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন