By: Daily Janakantha

এসো হে এসো সজল ঘন বাদলবরিষনে এসো হে …

শেষের পাতা

11 Jun 2022
11 Jun 2022

Daily Janakantha

মোরসালিন মিজান ॥ বর্ষা ঘিরে আবারও হবে নাগরিক উৎসব। প্রিয় ঋতুকে আগের মতোই নাচ গান কবিতাসহ নানা আয়োজনে বরণ করে নেয়া হবে। গত দুবছর করোনার সঙ্গে পারা যায়নি। সংক্রমণ ব্যাধি সব এলোমেলো করে দিয়েছিল। অনেক মৃত্যু পেড়িয়ে এখন মোটামুটি স্বাভাবিক হয়েছে জীবন। অনুকূল সময়ে ফিরছে বর্ষা উৎসবও। ঋতুর প্রথম দিন ১ আষাঢ় ঢাকায় বর্ষাকে বরণ করে নেয়া হবে।
ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশে আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। এ সময় জলীয় বাষ্পবাহী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় বর্ষায়। নিয়মিত বর্ষণে বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ। বর্ষার ভারি বর্ষণে শরীর ধুয়ে নেয় প্রকৃতি। পরিচ্ছন্ন হয়। নতুন করে জেগে ওঠে। বেলী, বকুল, জুঁই, দোলনচাঁপা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনার ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ। আর মিষ্টি হাসি হয়ে ফোটে ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল।’ ময়ূর পেখম মেলে নাচে। বর্ষার চিত্ত চাঞ্চল্য প্রকাশ করে কবিগুরু লিখেছেনÑ হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতো নাচে রে…। ময়ূরের মতোই বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে কাটে বাঙালীর শৈশব। স্কুলে যাওয়ার সময় কিংবা ফেরার পথে দূরন্ত কিশোরী আনন্দে গায়ে মাখে বৃষ্টির ফোঁটা। আর যতœ করে ব্যাগে পুড়ে রাখে রঙ্গিন ছাতাটি। তুমুল বৃষ্টিতে গাঁয়ের ছেলেরা নেমে পড়ে ফুটবল নিয়ে। বর্ষার এইত রূপ। মানুষের মনে অদ্ভুত শিহরণ জাগায় বর্ষা। কবিগুরু তাই আহ্বান করে বলেন, ‘এসো হে এসো সজল ঘন বাদলবরিষনেÑ/বিপুল তব শ্যামল ¯েœœহে এসো হে এ জীবনে।/এসো হে গিরিশিখর চুমি ছায়ায় ঘিরি কাননভূমি, /গগন ছেয়ে এসো হে তুমি গভীর গরজনে…। আর কবি নজরুল নিজের মনের চঞ্চলতা প্রকাশ করেন এভাবে : রিম্ ঝিম্ রিম্ ঝিম্ ঝরে শাওন ধারা।/গৃহকোণে একা আমি ঘুমহারা।/ঘুমন্ত ধরা মাঝে/ জল-নূপুর বাজে,/বিবাগী মন মোর হলো পথহারা…।
বর্ষা ঘিরে বাঙালী মনের উচ্ছ্বাসটুকুই ফুটে ওঠেছে দুই প্রধান কবির কবিতায়। গানে। একই অনুভূতি থেকে সূচনা হয়েছিল বর্ষামঙ্গল উৎসবের। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ উৎসবের সূচনা করেছিলেন। বর্ষা ঋতুর বিশেষ ভক্ত ছিলেন তিনি। বৃষ্টির প্রতি ফোটায় যেন নতুন রূপে নিজেকে আবিষ্কার করতেন। বর্ষা ঘিরে কবিগুরুর উদ্দীপনা আনন্দ অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন সবার মাঝে। কবিগুরুর ভাষায়, ‘যদি আমরা প্রকৃতির প্রত্যেকটি ঋতুকে অন্তরের মধ্যে উপলব্ধি করিতে পারি তবেই আমাদের চিত্তের সব দৈন্য দূর হয়, অন্তরাত্মা ঐশ্বর্যময় হইয়া উঠে।’ বাইরে যে বৃষ্টি, তার ছন্দ বুকের ভেতরে ধারণ করার সদুপদেশ এসেছিল কবিগুরুর কাছ থেকে, যেখানে বলা হচ্ছে, ‘বর্ষা প্রথমত ঃ আসে বাইরের আকাশে। অন্তরের আকাশে তাকে গান গেয়ে ডেকে আনতে হয়।’ এমন ডেকে আনা বা ডাক পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েই শান্তিনিকেতনে বর্ষামঙ্গল উৎসবের সূচনা করা হয়। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ঢাকায় অনেক বছর ধরে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষা উৎসব। ছায়ানট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বা সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর মতো কিছু সংগঠন চর্চাটি অব্যাহত রেখেছে। চারুকলার বকুলতলা, লিচুতলা, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন স্থানে চলে বর্ষা বন্দনা। কেউ বর্ষার প্রথমদিন গান গেয়ে নাচ করে ঋতুকে বরণ করে নেন। কেউ অপেক্ষা করেন শ্রাবণ পর্যন্ত। এসব আয়োজন থেকে বাঙালীর বর্ষা প্রীতির নানা দিক ফুটে ওঠতে দেখা যায়।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে বর্ষা এমনিতেও আলাদা গুরুত্বের। আগের দুই মাস গরমের। খড়ার। এর ঠিক উল্টো ছবি বর্ষায়। আষাঢ় শ্রাবণের বৃষ্টি বাংলার মাটিকে রসসিক্ত করে। উর্বর করে। চাষবাষের জন্য প্রস্তুত করে দিয়ে যায় মাটিকে। এসব কারণেও বর্ষার বন্দনা করা হয়। আর শুরুতে যে কথাটি বলা হলো, গত দু’বছর স্বাভাবিক উৎসব করা যায়নি। এবার তাই জোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
আষাঢ়ের প্রথমদিন বাংলা একাডেমিতে উৎসবের আয়োজন করবে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকাল ৭টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। আয়োজকরা জানাচ্ছেন নজরুল মঞ্চে গান নাচ কবিতার আয়োজনে বরণ করে নেয়া হবে বর্ষা ঋতুকে। একই সংগঠনের অভিন্ন আয়োজন থাকবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে। এখানে সকাল ১১টায় শুরু হবে উৎসব।
বর্ষার প্রথমদিন সকালে সরব হবে টিএসসিও। টিএসসির ভেতরের সবুজ চত্বরে বর্ষা উৎসবের আয়োজন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সাধারণত চারুকলার বকুলতলায় তারা এ উৎসব আয়োজন করে। এবার, কী আশ্চর্য, বেঁকে বসেছে চারুকলা অনুষদ। অগত্যা উৎসব স্থানান্তরিত হচ্ছে উৎসব। চত্বরের মাঝখানে মঞ্চ গড়া হবে। মঞ্চ থেকে জাতীয় ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠেনর শিল্পীরা সম্মেলক গান পরিবেশন করবেন। থাকবে দলীয় নৃত্য। একক পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে থাকবেন খ্যাতিমান শিল্পীরা। কবিতা এবং কথনেও বর্ষার নানাদিক তুলে ধরা হবে।
আয়োজকদের পক্ষে মানজার চৌধুরী সুইট বলছেন, বর্তমান সময়টা নিজেকে ভুলে থাকার। তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল দুনিয়ার ঘুরে বেড়ায়। নিজের চারপাশটাকে দেখে না। বর্ষায় কী সুন্দর বৃষ্টি হয়, প্রকৃতি সতেজ সুন্দর হয়। আমরা এসব দেখার জন্য তাদের চোখ খুলে দিতে চাই। কিন্তু করোনার কারণে গত দুই বছর সেভাবে কিছু করা যায়নি। এবার তাই সবাইকে নিয়ে বর্ষার প্রথম দিনটা উদ্যাপন করব। কোভিড পরবর্তী সময়ে নগরবাসীকে প্রাণ প্রকৃতির কাছে ফেরাতে এবারের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তিনি।
এর বাইরে শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে বর্ষা উৎসব আয়োজনের কথা রয়েছে। আর ছায়ানট ? হ্যাঁ, বাঙালীর গর্বের এ প্রতিষ্ঠান প্রস্তুতি নিচ্ছে সবচেয়ে সুন্দর উৎসবটি উপহার দেয়ার। ছায়ানটের উৎসব কবে তা জানা জায়নি। তবে তারিখ না জানা গেলেও, উৎসব প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে বর্ষা উৎসব ফিরছে। দারুণভাবেই ফিরছে, অনুমান করা যায়।

The Daily Janakantha website developed by BIKIRAN.COM

Source: জনকন্ঠ

সম্পর্কিত সংবাদ
রোনাল্ডো-নেইমারের ঠিকানা বদলের গুঞ্জন

রোনাল্ডো-নেইমারের ঠিকানা বদলের গুঞ্জন খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবারও দলবদলের বাজার Read more

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের

মোহামেডানের কাছে হার শেখ জামালের খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার Read more

হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ

হোল্ডিংকে ছাড়িয়ে কেমার রোচ খেলার খবর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ তার প্রিয় Read more

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা সাগর 28 Jun 2022 28 Jun 2022 Daily Janakantha প্রাক্তন শিক্ষক ম্যাপেললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা Read more

পদ্মা সেতুর নাটবোল্ট খোলা অন্তর্ঘাত ॥ সিআইডি

পদ্মা সেতুর নাটবোল্ট খোলা অন্তর্ঘাত ॥ সিআইডি প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ Read more

অনিয়ম চলবে না ॥ পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান

অনিয়ম চলবে না ॥ পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থান প্রথম পাতা 27 Jun 2022 27 Jun 2022 Daily Janakantha জনকণ্ঠ Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন