ঢাকার মাতুয়াইলে ছয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎমামা সোহান আলম তপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় দেন।তপুকে (২৬) যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আদায়ে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীকে দিতে ঢাকার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এসব তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল কারাগার থেকে আসামি তপুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসামি সোহান আলম বাদীর পূর্ব পরিচিত। সেই পরিচয় ধরে ভিকটিমের পরিবার তাদের আরেক সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকার কদমতলী থানাধীন এলাকায় আসামিদের বাসায় ওঠেন। ২০২৩ সালের ৮ মে রাত ৮টার দিকে ভিকটিম শিশু কন্যাকে খাওয়া-দাওয়া করানোর জন্য কদমতলী থানাধীন মাতুয়াইল মা ও শিশু ইনস্টিটিউট সুইপার গলি, ৩য় শ্রেণির টিনশেডের স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিন রাত ২টার দিকে অভিযুক্ত মো. সোহান আলম তপু ভিকটিমকে হাসপাতালে দিয়ে যায়। সকাল বেলা ভিকটিম তার মাকে চোখে ব্যাথা পেয়েছে বলে জানায়। তখন ভিকটিমের মা তার মেয়েকে কখন, কোথায়, কিভাবে ব্যাথা পেয়েছে বলে জিজ্ঞাসা করলে, ভিকটিম জানায়, অভিযুক্ত সোহান আলম তপুর মা অর্থাৎ ভিকটিমের নানী তাকে বাসায় নিয়ে খাওয়া দাওয়া করায় এবং অভিযুক্ত সোহান আলম তপু ‘মজার জিনিস’ খাওয়ানোর কথা বলে ফুসলিয়ে তার শয়ন ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। এরপর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর আসামি এই ঘটনার কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের নিকটতম আত্মীয় (চাচাতো মামা) মো. সাজ্জাত হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর একই বছরের ১৪ মে আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন।মামলাটি তদন্ত করে তপুকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ২৬ মে অভিযোগপত্র জমা দেন কদমতলী থানার এসআই মহসীন চৌধুরী।২০২৪ সালের ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
