নিজের মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকার জন্য সোমবার (২৭ এপ্রিল) তার কঙ্কাল তুলে স্থানীয় একটি ব্যাংকে নিয়ে আসেন ভারতের ওড়িশার কেওনঝর জেলার এক আদিবাসী ব্যক্তি। বোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণ করতেই ওই ব্যক্তি এমন কাজ করেন বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।জানা গেছে, কেওনঝার জেলার পাটনা ব্লকে অবস্থিত ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিপোসি শাখায় ঘটনাটি ঘটে।ওই ব্যক্তিকে দায়ানালি গ্রামের জিতু মুন্ডা (৫০) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি তার বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার রুপি তুলতে চাইছিলেন, যিনি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি মারা যান।জিতু মুন্ডা জানান, আমি বেশ কয়েকবার ব্যাংকে ছুটে গেছি এবং সেখানকার লোকেরা আমাকে আমার বোনের নামে জমা করা টাকা তোলার জন্য অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে নিয়ে আসতে বলেছিল। আমি তাদের বলেছিলাম যে সে মারা গেছে, কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি এবং তাকে ব্যাংকে নিয়ে আসার জন্য জোর করেছিল। তাই, হতাশ হয়ে আমি কবর খুঁড়ে তার মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে তার কঙ্কালটি বের করে আনি।তবে এই খবর পেয়ে ব্যাংকে পৌঁছানো পাটনা থানার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (আইআইসি) কিরণ প্রসাদ সাহুর ভাষ্য, ‘জিতু একজন নিরক্ষর আদিবাসী। আইনসম্মত উত্তরাধিকারী বা মনোনীত ব্যক্তি কী, তা সে জানে না। মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার পদ্ধতি তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।’ যদিও ঘটনার পর পুলিশ জিতু মুন্ডাকে আশ্বাস দেয় যে তারা তার মৃত বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার ব্যবস্থা করে দেবে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কঙ্কালটি আবার কবরে রাখা হয়।এদিকে স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিডিও) মানস দণ্ডপত জানান, প্রয়াত কালরা মুন্ডার আইনি উত্তরাধিকারীর পক্ষ থেকে কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেননি। তিনি বলেন, ‘আজই আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। সমস্যা সমাধানে কী করা যায়, তা আমরা দেখব।’অন্যদিকে ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, কালরা মুন্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মনোনীত ব্যক্তিও মারা গেছেন। তাই, তার নামে জমা রাখা টাকার একমাত্র দাবিদার হলেন জিতু মুন্ডা।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
