“ভেটেরিনারিয়ানরা: খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের অভিভাবক”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নানা আয়োজনে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ।শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় দিবসটি উপলক্ষে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অফিসের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি সমাবর্তন চত্বর ঘুরে উপাচার্য ভবনের সামনে দিয়ে কামাল রঞ্জিত মার্কেট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়।র্যালি শেষে কেক কাটার মাধ্যমে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এ সময় জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় র্যাবিস ও পিপিআর ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মকবুল হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম ও, সার্জারি ও অবস্টেট্রিকস বিভাগের মো. রফিকুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম ও ড মোছা মিনারা খাতুন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম মিয়া, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আলিমুল এহসান এবং প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড তাহসিন ফারজানা । এছাড়া বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।এসময় ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি পেশা শুধু প্রাণীর চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় । বরং এটি মানবস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একজন ভেটেরিনারিয়ান প্রাণীর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে শুধু প্রাণীর জীবন রক্ষা করেন না, বরং মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুধ, মাংস, ডিমসহ প্রাণিজ খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত জুনোটিক রোগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ‘ওয়ান হেলথ’ কর্মসূচির মাধ্যমে এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ভেটেরিনারিয়ানরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ, দায়িত্বশীল ও মানবিক ভেটেরিনারিয়ানদের ভূমিকা অপরিহার্য। আমাদের দায়িত্ব শুধু চিকিৎসা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মহান পেশায় উদ্বুদ্ধ করাও আমাদের কর্তব্য।মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড মো আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাণীজ খাদ্যপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব একজন ভেটেরিনারিয়ানদের। খাদ্যের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই প্রাণীজ খাদ্যপণ্য থেকে রোগ জীবাণু মানুষে সংক্রামিত হবে না। তার চেয়েও জরুরি হচ্ছে প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে অধিকতর সচেতন করতে হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
