হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় একটানা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে পড়তে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা বিকল্প হিসেবে মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা কেরোসিনের বাতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা যেমন কষ্টসাধ্য।সুমন মিয়া, পারভীন আক্তার, রাজু আহমেদসহ একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, দিনের বেলায় গরমের কারণে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়তে পারছি না। পরীক্ষা শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রস্তুতি নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। অভিভাবকরাও এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধান কামনা করেছেন।অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে পৌর এলাকার ব্যস্ত বাজার ও রেলওয়ে জংশন সংলগ্ন এলাকায় রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে এবং লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়েই তারা নির্ধারিত সময়ের পরও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেকেই স্বীকার করেছেন, জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবাইকে এগিয়ে আসা জরুরি।এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং করা হলেও বাস্তবায়নে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ নির্দেশনা কার্যকর করা সম্ভব।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সার্বিক বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবুও শায়েস্তাগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং অন্তত পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এনে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
