ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রভাবে জড়িয়ে পড়েছেন; এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলীয় সমর্থকদের একাংশসহ বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়ে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এ বক্তব্য দেন। প্রতিবেদন আল-জাজিরার। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসরায়েল আমাকে কখনোই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে প্ররোচিত করেনি। ৭ অক্টোবরের ঘটনার ফলাফল এবং আমার দীর্ঘদিনের অবস্থান, ‘‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না’’—এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে।’তবে হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। এমনকি ট্রাম্পের নিজ প্রশাসনের গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড মার্চ মাসে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা নিয়ে গত আট মাস ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, এসব হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না; বরং এই যুদ্ধ ইসরায়েলের স্বার্থই এগিয়ে নিয়েছে এবং এতে মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচ বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৩ ডলারের কম ছিল, এখন তা ৪ ডলারের ওপরে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহ পরও এই অবস্থা অব্যাহত।এনবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। সমালোচকদের অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধের পেছনে প্রকৃত প্রভাবক ইসরায়েল, আর ট্রাম্প মূলত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
