ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার। এবারের নির্বাচনে ঘরের মেয়ে মমতা নাকি বহিরাগত শুভেন্দুকে বেছে নেবে জনগণ– এটাই এখন বড় প্রশ্ন। পরিবর্তনের হাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে নজরকাড়া কেন্দ্র এখন ভবানীপুর। এখানকার ভোটাররা অনেকেই মমতা-শুভেন্দুর লড়াইকে তুলনা করছেন ভারত-পাকিস্তানের লড়াই কিংবা ক্লাসিক ডার্বির লড়াইয়ের সঙ্গে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন হবে ২৯ এপ্রিল। মমতা বনাম শুভেন্দুর বাইনারিতে এবার অন্যান্য দলের প্রার্থীরা কার্যত ফিকে হয়ে গেছে।২০২১ সালের বিধানসভায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা। নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে বিপুল জয় পেলেও নন্দীগ্রামে হেরে যান মমতা। এরপর নিজের এলাকা ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখেন মমতা। এরপর পাঁচ বছরে ভবানীপুরের আদিগঙ্গা থেকে অনেক জল বয়ে গেছে। এবার খোদ মমতার গড় ভবানীপুরেই তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরের ভোটারদের মন জয় করতে বিজেপির ইসতেহারের বাইরে পৃথক ইশতেহার ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। লোকসভা ভোটেও ভবানীপুরে দুটি পৌরসভা ওয়ার্ডে লিড নিয়ে চমক দেখিয়েছে বিজেপি। মমতা একচেটিয়া মুসলিম ভোট পান। সেই মুসলিম ভোট ভবানীপুরে প্রায় ২৪ শতাংশ। বাকি ৭৬ শতাংশের মধ্যে আবার শিখ, খ্রিষ্টান ও হিন্দু ভোট। হিন্দুদের মধ্যে আবার মাড়োয়ারি ও গুজরাটিদের ভোট বেশি। তবে অবাঙালি ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব বেশি। ফলে দেশ, জাতি বা ধর্মের নিরিখে যদি ভবানীপুরের ভোটকে ভাগ করা হয়, তবে কোনো দলই খুব বেশি এগিয়ে আছে বলা যাবে না। প্রচারে জমে উঠেছে ঝালমুড়ি বিতর্ক:নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে এবার জমে উঠেছে ঝালমুড়ি বিতর্ক। নির্বাচনী প্রচার সেরে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ির দোকানে ঢোকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঝালমুড়ি খান এবং পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দোকানদারকে দেন। আশপাশে থাকা নারী ও শিশুদের সঙ্গে হাত মেলান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘটনাকে নাটক বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষীরাই বানিয়েছিল ঝালমুড়ি। সোমবার বীরভূমের মুরারইতে সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত ও ক্যামেরার কারসাজি। মমতার কথায়, ‘কালকে দোকানে মাইক ফিট করে ঝালমুড়ি নিরাপত্তারক্ষী দিয়ে তৈরি করান। ১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওনার! কত নাটক।’এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাল্টা ঝালমুড়ি খেতে ও খাওয়াতে নেমে পড়েছেন কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মদন মিত্র। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্য। ঝালমুড়ি খেতে খেতে মদন মিত্র বলেন, উনি যতবার এখানে আসবেন ততবারই আমাদের কাছে আশীর্বাদ। মোদি যতবার মুড়ির দোকানে গিয়ে নাটক করবেন, পরের দিন আমরাও সকাল থেকে মুড়ি খেতে থাকব। মুড়ি খেতে খেতে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার একটাও কি রক্ষা করেছেন– প্রশ্ন মদন মিত্রের।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
