চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূত মৌখিক বদলি ও বাড়ির কাছে সুবিধাজনক বদলির জন্য অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বশরত নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮৪ জন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছে পাঁচজন, প্রাথমিক শিক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি ২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের কথা থাকলেও সহকারী শিক্ষক জহুরা বেগমের যাতায়াতের সুবিধার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মৌখিক বদলি দেয়া হয়েছে বাড়ির পাশে এলাহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হালিমা বেগম ও শুক্লা দাশ উপস্থিতি স্বাক্ষর করে ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরিক্ষার্থীকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছেন, জহুরা বেগম বিদ্যালয়ে থাকার কথা থাকলেও হাজিরা খাতায় দেখা যায় ফেব্রুয়ারি মাস থেকে স্বাক্ষরের স্থলে ডেপুটেশন লিখা রয়েছে। এ সময় শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় ব্যস্ত ছিল।স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ নাছির জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারনে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে, জহুরা বেগম বলেন, এত কিছু থাকতে আমাদের নিউজ কেন করতে হবে? নিয়ম কি শুধু আমরা ভঙ্গ করি আর কেউ করেননা? ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হালিমা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জহুরা ম্যাডাম বলেছেন উনাকে ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে যার বিপরীতে কোন ডকুমেন্ট দেখাতে বললে অফিসে দিবে বলেছেন। প্রধান শিক্ষক জানেননা তিনি কিভাবে ডেপুটেশন পেয়েছেন।সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা যায়, শহীদ চিত্ত রঞ্জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইরফাত জাহান জয়া ও কে দক্ষিণ বাইনজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও মধ্যম হাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহিন সাদিয়াকে উত্তর জোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম বহির্ভূত মৌখিক ডেপুটেশন দেয়া হয়েছে। উপজেলার একমাত্র প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস হোসেন জানান, উনারা ডেপুটেশনে আছেন শুনেছি তবে কিভাবে আছেন আমি জানিনা।প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন জানান, জহুরার যাতায়াতের সুবিধার জন্য এলাহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌখিক ভাবে ডেপুটেশনে দিয়েছি। পাঠদান ব্যাহতের ব্যাপারে বলেন, নতুন নিয়োগে একজন পুরুষ শিক্ষক দিয়ে দিব। অন্য দুই শিক্ষকের বেলায় জানান, উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে করা হয়েছে।নাম প্রকাশে একাধিক শিক্ষক জানান, নিয়ম বহির্ভূত মৌখিক ডেপুটেশনের নামে অনৈতিক লেনদেনে জড়িয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, মৌখিক ডেপুটেশনের কোন নিয়ম নেই, যদি কেউ করে থাকেন তা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
