পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বুকভরা আশায় প্রতিদিনের মতোই তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন জেলে জসিম। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।নিহত জসিম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং প্রয়াত জাহাঙ্গীরের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি একাই নদীতে মাছ ধরতে যান। প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।পরবর্তীতে স্বজনরা নদীতে গিয়ে তার ট্রলারের সন্ধান পেলেও জসিমের কোনো খোঁজ পাননি। আশপাশের এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে শনিবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কচুয়ার চরের কাছে তেঁতুলিয়া নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।পরিবারের দাবি, জসিম প্রতিদিনের মতোই জীবিকার তাগিদে নদীতে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তিন সন্তানসহ পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।নিহতের স্ত্রী রুমা বলেন, ‘সেদিন রাতে জসিম স্বাভাবিকভাবেই ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। কে জানত এটাই তার শেষ যাওয়া হবে!’ তিনি আরও জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের সংসার চালানো এখন বড় এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।এদিকে, নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রতিবেশীরাও তাদের সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসছেন। একসময়ের হাসিখুশি পরিবারটি এখন শোকে ন্যুব্জ।উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিবন্ধিত জেলে তালিকায় নাম থাকলে নিহতের পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
