শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা সবাই ওয়েল এক্সপেরিয়েন্স। আমাদের নিয়ত এবার হান্ড্রেড পারসেন্ট সৎ। তিনি বলেন, আমরা চায় না ভীতি হোক, আমরা চায় না ধস নামুক, আমরা চায় না বিনা পরীক্ষায় পাস করুক। আমরা চায় না, বিনা মেধায় লেখাপড়া করবে আর সার্টিফিকেট নিবে।শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগারি শিক্ষা বোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এই সভার আয়োজন করে।শিক্ষক সহ পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রধান কর্তাব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ছিল না, যার জন্য আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা অন ছিল। এটা যারা বলবেন, মনে মনে আমি ভাববো, ডাল মে কুছ ক্যালা হ্যায়! তারপর কিন্তু আমার ইনভেস্টিগেশন শুরু হয়ে যাবে আপনার দিকে। কারণ, আইপিএস দিয়ে যদি হেড মাস্টারের রুমে একটি ফ্যান চলতে পারে, তবে আইপিএস দিয়ে একটি ক্যামেরা চলতে পারে। এতে চার্জ খুব কম লাগে, আমরা জানি। বুঝতে পারছেন! তিনি বলেন, তারপর আমরা সারা বাংলাদেশে চিঠি দিয়ে দিবো, পরীক্ষার সময় যেনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেনো না হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেও নির্দেশ দেওয়া হবে। তারপরও বলছি, টেকনিক্যাল যদি কোনো রিজন থাকে, তাহলে আপনার কোনো রিজনেবল রিজন থাকবে না। আপনার যদি রিজন থাকে, তাহলে বুঝবো চালাকি হচ্ছে বেশি। তখন ওইদিকেই আমার ধমক যাবে বেশি।নকল প্রতিরোধের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের যে আইন আমি পাল্টাচ্ছি, সেই আইনে আছে- সংঘবদ্ধ চক্র যদি কোথাও নকলে সহযোগিতা করে তাহলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন বাথরুমে যদি নকল থাকে তাহলে আমরা কাকে ধরবো, সচিবকে ধরবো; কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা তো করেনি। সেটিং দু’একজনের জন্য সকলে দোষী সাব্যস্ত করার দরকার নাই। সকলকে দোষী সাব্যস্ত করার বদলে একজনকে করে দেই, কেন্দ্র সচিব নাকি!মন্ত্রী বলেন, কি রাগ করলেন! একজনকে তো জবাবদিহিতা করতে হবে। তাহলে আমি যদি টোটাল এডুকেশন সিস্টেমের যদি কোনো ডেভেলপমেন্ট না করতে পারি, তাহলে আমাকে তো জবাবদিহিতা করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, নাকি! সব জায়গায় হেড। আপনার এখানে আপনি হেড, আমার এখানে আমি হেড। আমরা টুকিটাকি সব এভাবে খতিয়ে দেখবো।‘ক্লাসরুম ডেসিপ্লিনারি কিনা, শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেয় কিনা, ছাত্ররা ঠিকমতো হাজিরা দেয় কিনা -এগুলো আমরা বিবেচনায় আনবো। সেই সাথে শ্রেণিকক্ষে ও পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এতে আমাদের দুশ্চিন্তা কমে গেলো। আমাদের আর সেই আগের দিন নেই, যে সেই হঠাৎ করে হেলিকাপ্টার করে পরীক্ষার হলে হাজির হতে হবে। সেই দিন তো আর নেই! আমি ঘরে বসে যদি এখন ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখতে পারি, তবে ঘরে বসে পুরো ক্লাসরুম দেখতে পারবো না কেনো?’উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন মনে করি, আমার এখন খাগড়াখড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটা ক্লাসরুম আমি দেখতে চাই। তাহলে আমাকে সেখানে যেতে হবে কেনো! এখন তো এ্যডভানটেজ রয়েছে নাকি! সিসি ক্যামেরার, আমিও এ্যাডভানটেজ নেবো। সুতরাং, কেউ আর এ ব্যাপারে কোন আর কারচুপি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।’এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা অন্য কিছু, এগুলোর জন্য তো আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এবার বেশি কিছু করার দরকার নেই। সিম্পলি আমরা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কথা বলেছি। এটা কিন্তু শুধু পরীক্ষার জন্য না। এই ব্যাপারে ভুল বোঝা যাবে না। আজকে পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করল, ঠিকমতো ক্লাস হয় না। আবার শিক্ষকরা অভিযোগ করলেন, ছাত্ররা ঠিকমতো ক্লাসে আসে না। ওকে ফাইন। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগাবেন। রেকর্ডিং থাকবে হাতে। আমি ক্লাসগুলো দেখব শিক্ষকরা কি করেন, ছাত্ররা কি করে। কারণ আমাদের তো মনিটরিং করতেই হবে। কোনো বিকল্প নেই।’মন্ত্রী বলেন, ‘এই জন্য আমরা বলেছি প্রতিটি ক্লাসরুমে ক্যামেরা পদ্ধতি থাকতে হবে। তাহলে আমরা ঢাকায় বসে বা রাজশাহী বসে বোর্ড ক্লাসগুলো দেখতে পারব- ক্লাসরুমে ক্লাস হচ্ছে কিনা। এখন এই কথা শুনে অনেকে বলছে, ছাত্র-ছাত্রীদের ঘাড় ঘোরাতে দেওয়া যাবে না। কেন? রিল্যাক্স। ঘাড় ঘোরাতে পারবে না এটা তো কোনো কথা না। আমরা বলেছি, ক্লাসরুমে উপস্থিতি থাকে কিনা। শিক্ষক ঠিকমতো আসেন কিনা, ছাত্র ঠিকমতো মনোযোগ দেয় কিনা-এগুলোকে আমরা বিবেচনায় আনব। সেই সঙ্গে পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা থাকবে।’মন্ত্রী বলেন, ‘এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাজেটে শিক্ষা খাতে পাঁচ পার্সেন্ট দেবেন। হিউজ অ্যামাউন্ট কিন্তু পাঁচ পার্সেন্ট। এই গত বাজেটেই দেখলাম টাকা ফেরত যাচ্ছে। কাজে লাগাতে পারছে না। আমি এসে পাঁচ পার্সেন্ট, প্রায় ডাবল হয়ে যাবে বাজেট- এই টাকা কি খরচ করতে পারব? পারব না। তাই আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতের বাজেট বৃদ্ধি করতে চাই।’রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা প্রমুখ। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
