কুষ্টিয়ায় প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। বিজিবির উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে, ৪,৪৩২ বোতল বিদেশি মদ, ১২ লিটার দেশি মদ, ৭,৭৮৭ বোতল ফেন্সিডিল, ৫৫০ দশমিক ৪০০ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২৬ দশমিক ২৫৩ কেজি হেরোইন, ৬৭,৪৯৬ পিস ইয়াবা, ৬ দশমিক ০৫ কেজি কোকেন, ১০,১৩৭ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ৯৭,৬৫৬ পিস সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১,৫৫,৯০৯ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৩০ বোতল এলএসডি, ১,৪৭৬ পিস ভারতীয় ক্যাপসুল এবং ২,২৯৯ পিস ভারতীয় ইনজেকশন। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকারও বেশি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার প্রতিনিধিরা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।তিনি আরও বলেন, মাদক একটি জটিল সামাজিক ব্যাধি। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সদস্যদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন প্রধান অতিথি এবং নিজ হাতে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ধ্বংস কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১৭৫ জন আসামিসহ আনুমানিক ১১৪ কোটি ৮০ লাখ ২৬ হাজার ১৪১ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
