গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানকে সাধারণ হুমকি দিয়ে আসলেও সোমবার (৬ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী এক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ‘গ্রহণযোগ্য’ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ‘প্রতিটি সেতু’ বোমা মেরে উড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেওয়া সবচেয়ে বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করবে। এই অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযান মঙ্গলবার রাত ৮টায় (ইস্টার্ন টাইম) শুরু হবে এবং টানা চার ঘণ্টা ধরে চলে মধ্যরাতে শেষ হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এই হামলার সম্ভাব্য সময় বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত।প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী কি আদৌ মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে একটি দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম? বিশেষ করে ইরানের মতো বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের দেশে এটি একটি দুরুহ চ্যালেঞ্জ।এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার হুমকি দিয়ে পিছিয়ে এসেছেন বা ‘উইগেল রুম’ (পিছু হটার সুযোগ) রেখেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবার তিনি যে ধরনের সুনির্দিষ্ট সময় ও লক্ষ্যবস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন, তাতে নিজের জন্য পিছু হটার পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।যদি এই হামলা সত্যিই পরিচালিত হয়, তবে ইরানের সাধারণ নাগরিকরা বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
