ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর নির্ধারিত মঙ্গলবারের সময়সীমা (ডেডলাইন) কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিলেও তা সংকট নিরসনে যথেষ্ট নয়। তেহরানকে ঠিক কী করতে হবে, তা তারা ভালো করেই জানে। প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে চললে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া সম্ভব। তিনি আরও যোগ করেন, এই লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। যারা এই অবস্থানের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যা দেন তিনি।ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর আকাঙ্ক্ষার কথা সরাসরি ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন জনগণের ইচ্ছার কারণে তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে, নতুবা তাঁর ইচ্ছা ছিল ইরানের তেলক্ষেত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরে যেতে পারে, তবে ইরানকে আগের অবস্থায় ফিরতে অন্তত ১৫ বছর সময় লাগবে।নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প তাঁর চূড়ান্ত আলটিমেটামের সময়কাল স্পষ্ট করেছেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ইস্টার্ন টাইম মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) দাবি মানতে হবে। এর আগে তিনি ২১ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে আলটিমেটাম দিয়ে আসলেও এবার আর কোনো ছাড় দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।আগের আলটিমেটামগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র, ২১ মার্চ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নৌপথ না খুললে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। ২৩ মার্চ: আলোচনা ফলপ্রসূ দাবি করে হামলা ৫ দিন পিছিয়ে দেওয়া। ২৭ মার্চ: ইরান সরকারের অনুরোধে সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল নির্ধারণ। ৪ এপ্রিল: এপ্রিলের ডেডলাইন সামনে রেখে ‘৪৮ ঘণ্টার’ চূড়ান্ত সতর্কতা ও ‘নরক’ বানানোর হুমকি। ৫ এপ্রিল: পুনরায় একই হুমকির পুনরাবৃত্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের ঘোষণা।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শেষ কথা অনুযায়ী, মঙ্গলবারের এই সময়সীমার পর আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চুক্তি অনুযায়ী ইরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি বহাল রয়েছে। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব এখন মঙ্গলবারের ডেডলাইনের দিকে তাকিয়ে আছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
