পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকের বিস্তার দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে পরিস্থিতিতে বদলাতে শুরু করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে টানা অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।গত ১১ দিনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলা অভিযানে ২৫ মার্চ দন্ডপাল ইউনিয়নে একজন, ২৮ মার্চ পৌর এলাকায় একজন এবং ২৯ মার্চ পৃথক অভিযানে আরও তিনজন মাদকসেবীকে সাজা দেওয়া হয়। একই দিনে পৌরসভার নতুন বন্দর এলাকা ও পামুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ পৌরসভা ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১ এপ্রিল আরও একজনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ৪ এপ্রিল চিলাহাটি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এছাড়া ৪ এপ্রিল পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হরিশ চন্দ্র রায় বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর প্রশাসনের এই উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের বেশি মেয়াদে সাজা প্রদান করায় স্বস্তি ফিরছে। আগে সকাল বেলা আদালতে পাঠানো হলে দুপুরেই মাদকসেবীরা জামিন পেত। যেটা এখন আর হচ্ছে না।দেবীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ইতিমধ্যে ১১ দিনে ২৩ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। সামনে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
