রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে চরম নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয়রা জনতা ক্ষোপ প্রকাশ করছেন।অভিযোগ উঠেছে,রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এক শ্রেণির অসাধু ঠিকাদার তাদের অনিয়মের রাজত্ব নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন।সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে হিন্দুর মোড় হতে হিন্দু পাড়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ২৩০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাজের উদ্বোধনের দিন লোকদেখানো উন্নতমানের (এক নম্বর) ইট ব্যবহার করা হলেও, দ্বিতীয় দিন থেকেই নিম্নমানের দুই নম্বর ও তিন নম্বর ইট দিয়ে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার দৌলা। এলাকাবাসী কাজ বন্ধের অনুরোধ করলেও ঠিকাদার কোনো তোয়াক্কা করছেন না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাণ শ্রমিক জানান, প্রথম দিনের ইটগুলো ভালো ছিল,কিন্তু আজকে ভাটা থেকে যে ইটগুলো পাঠানো হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। আমরা হুকুমের গোলাম,ঠিকাদার যেভাবে বলছে সেভাবেই কাজ করছি।স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র বলেন, আজ প্রায় ২০ হাজার নিম্নমানের ইট আনা হয়েছে। ঠিকাদারকে বললে তিনি দাবি করছেন এগুলোই নাকি এক নম্বর ইট। ইট ফেরত পাঠালে তার লস হবে এমন অজুহাতে তিনি নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই এই সড়কটি সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের ইট দিয়ে করা হোক এবং এই দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ইজিপি টেন্ডারের (আইডি: ১১৯২৯২৮) মাধ্যমে এইচবিবি সড়ক, কালভার্ট ও আরসিসি ক্রস ড্রেনসহ পাঁচটি কাজের প্যাকেজ পান ঠিকাদার দৌলা। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাতেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে নিজেকে বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন তিনি। এর আগেও বুজরুক তাজপুর গ্রামে একই কায়দায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল জনতা, তবে পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে পুনরায় কাজ শুরু করেন তিনি।অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার দৌলা মুঠোফোনে জানান,ইটগুলো মূলত কাঠ দিয়ে পোড়ানো,তাই রঙের কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু এগুলো এক নম্বর ইট। এই ইট দিয়েই কাজ চলবে,এতে কোনো সমস্যা নেই।তবে প্রকল্পের কাজ চলাকালীন এলজিইডির কোনো কর্মকর্তাকে তদারকি করতে দেখা যায়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, উদ্বোধনের দিন ভালো ইট দেখেছিলাম। কিন্তু আজ এলাকাবাসীর মাধ্যমে অনিয়মের খবর পেয়েছি। ঠিকাদার নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে খামখেয়ালিভাবে কাজ করছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব।উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রকল্পের দায়িত্বরত (এসও) মোস্তাহিদুল অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি ইটগুলো নিম্নমানের। ঠিকাদারকে ওই ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। আমাদের নির্দেশ না মানলে তার বিল আটকে দেওয়া হবে।এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন,সরকারি কাজে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই। এটি এলজিইডি অফিসের তদারকি করার কথা। এর আগেও এই ঠিকাদারের একটি অনিয়মের বিষয়ে জানতে পারছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
