সকাল তখন সাড়ে ৯টা। খেয়া ঘাটে রয়েছে একটি ছোট নৌকা। নৌকাটিতে জড়োসড়ো হয়ে বসে রয়েছেন কয়েকজন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। একটু পর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নৌকায় উঠলো। নৌকা পূর্ণ হয়ে গেছে মাঝি এমনটি বলার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জোর করেই নৌকায় উঠে গেল। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে মাঝিকে ছাড়তে হলো নৌকা। রবিবার (৫ এপ্রিল) সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর বাঘা লাল নগর খেয়াঘাটে দেখা যায় এ দৃশ্য।উপজেলার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বাঘা। এ ইউনিয়নটিকে উপজেলা সদর থেকে ভাগ করে রেখেছে সুরমা নদী। বাঘাবাসী দীর্ঘদিন থেকে সুরমা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষকে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাঘা ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের মোট জনসংখ্যা প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক। তাদের উপজেলা সদরে আসার একমাত্র ভরসা হচ্ছে নৌকা। এ ইউনিয়নের লোকজন সড়ক পথে বাঘা থেকে উপজেলা সদরে আসতে হলে সিলেট শহর হয়ে ২০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়।গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাঘা লালনগর গ্রামের ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, সুরমা নদীতে একটি সেতু আমাদের অনেক দিনের দাবি। সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষ পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ।বাঘা কান্দিগাঁও গ্রামের আবুল কালাম জানান, সুরমা নদীতে সেতু নির্মাণ হলে বাঘা ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি জীবন মানেরও অনেক পরিবর্তন হবে। আমরা আশা করছি সিলেট-৬ আসনের এমপি মহোদয় বাঘাবাসীর এই স্বপ্নের সেতু নির্মাণ করে দিবেন।গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মীম জানান, খেয়াঘাটে একটিমাত্র নৌকা থাকায় কলেজে যেতে আমাদের অনেক অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় নৌকার জন্য কলেজে যেতে দেরি হয়ে যায়। জামেয়া দারুল আবরার, গোলাপগঞ্জ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আলবাব হোসেন জানান, বাঘাবাসীর অনেক দিনের দাবি সুরমা নদীতে একটি সেতু হওয়া। দীর্ঘদিনের আশা হয়তো এবারের নতুম সরকার পূরণ করবে। আমরা এই আসনের এমপি মহোদয় এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে বাঘাবাসীর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আহবান জানাচ্ছি। আশাকরছি বাঘাবাসীর দুর্ভোগ বিএনপি সরকার লাঘব করবে।লালনগর খেয়াঘাটের মাঝি রায়নাল আহমদ জানান, প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী সহ হাজারো মানুষ খেয়াঘাটে নৌকায় পারাপার হন। অনেক সময় অধিক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করাতে হয়।বাঘা সেতুর বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের প্রথম ধাপ হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সুরমা নদীতেও খুব শিগগিরই সেতু করা হবে। সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদীতে সেতুর জন্য আবেদন করেছিলাম। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৪৪টি সেতুর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর গোয়াসপুর-কাদিপুর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য চুড়ান্ত তালিকাভুক্ত হয়েছে। শিগগিরই শুরু হবে সমীক্ষার কাজ। সমীক্ষা শেষেই শুরু হবে প্রকল্পের কাজ। বাঘাবাসীও তাদের কাঙ্খিত সেতু খুব শিগগিরই পাবে। আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
