দেশের অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর একটি যমুনা নদীর ওপর নির্মিত ডাবল লাইনের রেলসেতু। বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটি চালু হওয়ার পরপরই উন্নয়ন সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের অডিট শাখা, বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফ্যাপাড) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একাধিক প্রতিবেদন, বিশেষ আর্থিক পরিদর্শন (এসএফআই) রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই প্রকল্পে কমপক্ষে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম, অস্বচ্ছ ব্যয় এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।জাপানের উন্নয়ন সহযোগী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে প্রায় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রেলসেতু প্রকল্পটি কেবল একটি অবকাঠামোগত সংযোগ নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ১৮ মার্চ সেতুটি দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে উঠে আসা অনিয়মের বিস্তৃতি ও গভীরতা এখন পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।ফ্যাপাডের ২০২০–২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপেই আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এক অর্থবছরেই প্রায় ৭০৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ব্যয় অডিট আপত্তির মুখে পড়ে।সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলোর একটি ছিল, ডিটেইল মেজারমেন্ট শিট (ডিএমএস), অনুমোদিত ড্রয়িং এবং বিল অব কোয়ান্টিটি (বিওকিউ) ছাড়াই ১২৭ কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ। নির্মাণ প্রকল্পে কাজের পরিমাণ, মান এবং অগ্রগতির ভিত্তিতে বিল পরিশোধের যে মৌলিক নিয়ম, তা এখানে উপেক্ষিত হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই সময়ে যথাযথ সহায়ক ভাউচার ছাড়াই সিডি-ভ্যাট বাবদ ৩৪ কোটির বেশি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা আর্থিক স্বচ্ছতার বড় ধরনের ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত। আবার কাজে ব্যবহার না হওয়া স্টিল পাইপ শিট পাইলের বিপরীতে শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করে তা আটকে যাওয়ার ঘটনাও অডিটে উঠে এসেছে।নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পরও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কোনো ‘ডিলে ড্যামেজ’ আরোপ না করায় প্রায় ৯৯ কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিডি-ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত প্রায় ১১ কোটি টাকা পরিশোধ এবং ঠিকাদারের বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় প্রায় ১৭ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে।অডিট প্রতিবেদনে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি জাপানি মুদ্রা ইয়েনে সম্পাদিত লেনদেন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মোবিলাইজেশন ও ডিমোবিলাইজেশন খাতে প্রায় ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকার সমপরিমাণ ইয়েন ব্যয়কে ফ্যাপাড ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।ফ্যাপাডের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি, আর্থিক নিয়মাবলি এবং চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়নি। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল, যা এত বড় প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।পরবর্তী বছরগুলোতে অনিয়মের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরের বিশেষ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সপেকশন (এসএফআই) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদেশি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নির্ধারিত দেশ থেকে পণ্য না এনে ৪০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।এছাড়া কাস্টমস হাউসের প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে অস্বাভাবিক উপায়ে সিডি-ভ্যাট আদায়ের নামে আরও ৪৩০ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা অডিটরদের দৃষ্টিতে অস্বচ্ছ ও সন্দেহজনক।সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের লেনদেন শুধু আর্থিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘনই নয়, বরং বৈদেশিক সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেরও পরিপন্থী বলে বিবেচিত।অডিট প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দর নির্ধারণ ও চুক্তি অনুমোদনে অসঙ্গতি। বিভিন্ন প্যাকেজে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ দর ধরে কাজ প্রদান করার ফলে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।সাইট সুবিধা, ক্যাফেটেরিয়া ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে সরকারি সিডিউলের তুলনায় অতিরিক্ত ১১৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি হারে মূল্য সমন্বয়ের কারণে আরও প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।এছাড়া কর-ভ্যাট সংক্রান্ত একাধিক অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে আয়কর কম কাটা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ঠিকাদারের রিটেনশন বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে প্রায় ৩৪ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। অফিস ভাড়া ও কনজ্যুমেবল খরচের আড়ালে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।অডিট বিভাগ ছোট ছোট অনিয়মের মধ্যেও বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত দিয়েছে। যেমন, মাটি পুনর্ব্যবহার না করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায়ও কয়েক কোটি টাকার অপচয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।অডিট আপত্তি ও এসএফআই প্রতিবেদনের সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০–২১ অর্থবছরের ৭০৫ কোটি টাকার আপত্তির পাশাপাশি পরবর্তী দুই-তিন অর্থবছরে আরও অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটির বেশি ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটিতে অনিয়ম, সন্দেহজনক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে। ইয়েনে হিসাব করা অঙ্কগুলো টাকায় রূপান্তর করলে প্রকৃত অঙ্ক আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অডিট নথিতে প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নথিতে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা যেখানে কম দর প্রস্তাব, কাজের পরিমাপ পুনঃযাচাই বা ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছেন, সেখানে প্রকল্প পরিচালকের হাতে লেখা নোটে উচ্চ দর বজায় রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।তার মন্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, ‘প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি’, ‘দর কমালে কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে’ কিংবা ‘ঠিকাদারকে বারবার দর কমাতে বললে প্রকল্পের অগ্রগতি ব্যাহত হবে।’ এসব যুক্তির মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি দরে চুক্তি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের যৌথ কনসোর্টিয়ামের হাতে থাকা ডব্লিউডি-১, ডব্লিউডি-২সহ বড় প্যাকেজগুলোতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত বারবার দেখা গেছে। অডিটরদের মতে, মাঠ পর্যায়ের আপত্তি উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।কিছু ক্ষেত্রে নন-রেসপনসিভ বিডারকে কাজ দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে ‘আঁতাতের সম্ভাবনা’ উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করেছে।চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তায় বাস্তবায়িত এ ধরনের প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।এদিকে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ জমা দেন মো. ইয়াছিন আরাফাত নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগপত্রে নিজেকে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে এসব অনিয়মের বিষয়ে অবগত বলে দাবি করেছেন। অভিযোগটি ঘিরে প্রশাসনিক মহল এবং রেলওয়ের অভ্যন্তরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন খাতকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা অনিয়ম, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অসংগতি এবং প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিস্তৃত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই সময়কালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে ঠিকাদার নির্বাচন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হতো এবং এর বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করা হতো।অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, প্রকল্পের নথি প্রক্রিয়াকরণে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব সৃষ্টি করে ফাইল আটকে রাখা হতো, যাতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায় করা যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, সময় বৃদ্ধি এবং ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদনের মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলোকে ব্যবহার করা হতো অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ঢাকা–টঙ্গী ডুয়াল গেজ লাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং টঙ্গী–জয়দেবপুর ডাবল লাইন প্রকল্পে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।অভিযোগে দাবি করা হয়, এসব প্রকল্পে মোট কাজের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার প্রভাব প্রকল্পের গুণগত মানের ওপরও পড়েছে।এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অনেক ক্ষেত্রে কাজের প্রকৃত অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিলের তথ্যের মিল ছিল না। অনেক কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও সেটিকে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং নিম্নমানের অবকাঠামো নির্মাণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে যমুনা রেলওয়ে সেতু প্রকল্পে তার প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়কে ঘিরে নানা অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এরপর সেখানে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়।অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থ বেনামি ঠিকাদার ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্থানান্তর করে ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার দীর্ঘ কর্মজীবনে রেলওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকৌশল পদে দায়িত্ব পালন করে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন এবং এই অবস্থান ব্যবহার করে পদোন্নতি প্রক্রিয়াতেও প্রভাব বিস্তার করেছেন।অভিযোগকারীর দাবি, আর্থিক সুবিধা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের অতিক্রম করে উচ্চপদে উন্নীত হন।এছাড়া তার অধীনস্থ সময়কালে বিভিন্ন প্রকল্পের বিল অনুমোদন, মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং কারিগরি স্পেসিফিকেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এতে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বারবার সুবিধা পেয়েছে এবং একটি অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।অভিযোগপত্রের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের বিষয়টি। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার পরিবারের নামে দেশে ও দেশের বাইরে বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।এর মধ্যে কক্সবাজারে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, তার স্ত্রী নাসরিন হোসেনের নামে ঢাকা পূর্বাচলে ১০ কাঠা জমি এবং একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব সম্পদের একটি অংশ বেনামি উৎসের মাধ্যমে অর্জিত এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।এছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা চাকরির শেষ পর্যায়ে এসে দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের একটি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন, যাতে অবসরের আগে বিদেশে অর্থ পাচার সম্পন্ন করা যায়।দুদকের কাছে দাখিল করা এই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, পদোন্নতির নথি, প্রকল্প পরিচালনার সময়কার বিল এবং ভেরিয়েশন অর্ডারগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এদিকে অভিযোগটি দাখিল হওয়ার পর প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মোঃ মাসউদুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদকের সঙ্গে চরম রূঢ় ও অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাফ জানিয়ে দেন, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত ডাবল লাইনের রেলসেতুতে ৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে তিনি কোনোভাবেই মুখ খুলবেন না এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও প্রদান করবেন না।শুধু তাই নয়, তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা অভিযোগ নিয়েও তিনি সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখেন এবং দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা জবাবদিহি না দিয়েই হঠাৎ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যা তার দায়িত্বশীল অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিষয়টিকে আরও রহস্যঘন ও সন্দেহজনক করে তুলেছে।এসআর 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
কাউখালীতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কাউখালীতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

পিরোজপুরের কাউখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চিড়াপাড়া গ্রামের Read more

পঞ্চগড়ে কাভার্ডভ্যানে পাচারকালে ১২ হাজার কেজি চা জব্দ
পঞ্চগড়ে কাভার্ডভ্যানে পাচারকালে ১২ হাজার কেজি চা জব্দ

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় নিয়ম না মেনে চা পরিবহনের অভিযোগে ২৪৬ বস্তা চা জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ চা Read more

সুপ্রিম কোর্টে ফিরলো বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
সুপ্রিম কোর্টে ফিরলো বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের কিছু অংশ অবৈধ এবং বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৩ মাসের মধ্যে Read more

ছুটির দিনে যেমন থাকবে রাজধানী আবহাওয়া
ছুটির দিনে যেমন থাকবে রাজধানী আবহাওয়া

রাজধানী ঢাকা এবং তার আশপাশের এলাকায় আজও গরমের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা Read more

এমবাপ্পের গোলে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল রিয়াল
এমবাপ্পের গোলে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল রিয়াল

স্প্যানিশ লা লিগায় গেতাফের মাঠে ঘাম ঝরিয়ে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। একমাত্র গোলটি করেছেন দলের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ক্লাব Read more

ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ফুটে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার বছর না পেরোতেই ফের পানিতে ডুবেছে ফেনীর জনপদ। তবে এবার বৃষ্টি বন্ধ ও রোদ উঠায় ফেনীর বন্যা Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন