১লা এপ্রিল ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের U.S. Supreme Court-এ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে এক ঐতিহাসিক মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।মামলাটি কেন্দ্র করে সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর একটি নির্বাহী আদেশ, যার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে চেয়েছিলেন।আদালতে সন্দেহের ইঙ্গিত:শুনানির সময় আদালতের একাধিক বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি John G. Roberts Jr. সরকারের যুক্তির একটি অংশকে “অদ্ভুত” বলে মন্তব্য করেন। বিচারপতি Amy Coney Barrettও বলেন, এই ব্যাখ্যা নাগরিকত্বের “নতুন ধরণ” তৈরি করতে পারে।অন্যদিকে বিচারপতি Ketanji Brown Jackson প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং এতে অভিভাবকদের কী ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।১৪তম সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক:মামলাটির মূল বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের Fourteenth Amendment-এর নাগরিকত্ব ধারা। ১৮৬৮ সালে গৃহীত এই সংশোধনী অনুযায়ী, “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং এর আওতাধীন সকল ব্যক্তি নাগরিক।”১৮৯৮ সালের ঐতিহাসিক মামলা United States v. Wong Kim Ark-এ সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া চীনা বংশোদ্ভূত একজন ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন—যা দীর্ঘদিন ধরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।সম্ভাব্য প্রভাব:যদি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বহাল থাকে, তাহলে প্রতিবছর জন্ম নেওয়া প্রায় ২ লাখ শিশু নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৬৪ লাখ শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়েও আইনি মর্যাদা হারাতে পারে।এছাড়া, এতিম বা পরিত্যক্ত শিশুদের “রাষ্ট্রহীন” হয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।আদালতে ট্রাম্পের উপস্থিতি:শুনানিতে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন Donald Trump—যা একটি বিরল ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো বর্তমান বা সাবেক প্রেসিডেন্টের সুপ্রিম কোর্টে এভাবে উপস্থিত থাকা নজিরবিহীন বলে জানা গেছে।অভিবাসীদের মতে, এই মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ধারণাকেই আমূল পরিবর্তন করতে পারে এবং অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
