টাঙ্গাইলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেলের শোরুমগুলোতে। তেলের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে গ্রাহকরা নতুন বাইক কেনার আগ্রহ হারানোয় শোরুমগুলোতে আকর্ষণীয় অফার দিয়েও ক্রেতা মিলছে না।বুধবার (১ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।ব্যবসায়ীরা জানান, পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি মিলছে না। ফলে অনেক চালক শখের মোটরসাইকেল গ্যারেজে বন্দি করে রেখেছেন। ইয়ামাহা, সুজুকি, হিরো, টিভিএস ও বাজাজের মতো নামী ব্র্যান্ডগুলো ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক, নিশ্চিত উপহার ও বিশেষ ছাড় দিলেও বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। ঈদুল ফিতর ও আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ বিক্রির প্রত্যাশা ছিল, তার ৫০ শতাংশও পূরণ হয়নি।শহরের হিরো শোরুমের ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম জানান, “শোরুম এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। আমরা অলস সময় পার করছি। সবারই একই দশা।” টিভিএস শোরুমের ম্যানেজার রাব্বি বলেন, “২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকট দ্রুত না কাটলে ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামবে।”জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার টেকনিশিয়ান নিরঞ্জন ও আরিফ হোসেন জানান, তেলের অভাবে মানুষ বাইক কম বের করায় সার্ভিসিংয়ের কাজও কমে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এই খাতের কারিগরি কর্মীরা। অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।এদিকে, প্রশাসনের কড়াকড়ির ফলে বিআরটিএ অফিসে রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাম্প থেকে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে হেলমেট, লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড বাধ্যতামূলক করায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে।বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন জানান, “লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ায় গত এক মাসে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৬৯টি বাইক নিবন্ধিত হলেও মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬৯টিতে।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
